শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

অনুষ্ঠানের নামে নিউইয়র্কে আদম ব্যবসা জমজমাট

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ২৫৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

অনুষ্ঠানের নামে নিউইয়র্কে আদম ব্যবসা জমজমাট

নিউইয়র্কে আদম ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। নিউইয়র্কে কথিত উৎসবের আয়োজন চলে। আর হিমশিম খায় ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাস। বিভিন্ন দিবস ও উৎসবের নাম করে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে হঠাৎ করে ভিসা আবেদন বেড়ে যায়। গড্ডালিকায় ঢুকিয়ে দেয়া হয় ভাইবোন,মা বাবা ও আত্মীয়স্বজনের নাম। দেখানো হয় আর্ন্তর্জাতিক মহাযজ্ঞ ও সংস্কৃতির উৎসবের অতিথি হিসেবে। এ সবের তালিকা থেকে জেনুইনদের বাছাই করতে হিমশিম খেতে হয় দুতাবাস কর্মকর্তাদের। আয়োজকদের হিসেব ভিন্ন। প্রতি ১০ জনে ১ জনের ভিসা হলেও আয় ৪০ হাজার  ডলার। সম্প্রতি ফোক সম্রাজ্ঞী মমতাজ বেগম নিউইয়র্কে এসেছেন। আবেদন বাছাইয়ের গ্যাড়াকলে পড়েছিলেন তিনিও। জেনুইন ভিসা আবেদনকারি হবার পরও নিউইয়র্কের অনুষ্ঠানের ১ দিন আগে তাকে ভিসা দেয়া হয়। তাও আবার পররাষ্ট্র, সংস্কৃতি ও স্বররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একাধিক ফোন ও সুপারিশ পাঠানোর পর। মমতাজের ভিসার সুপারিশের জন্য সরকারের বিভিন্ন সংস্থায় নিউইয়র্ক থেকে টেলিফোনে কান্নাকাটিও করা হয়। একজন শিল্পীর ভিসার আবেদন করলে তার সহযোগীদের তালিকাও জুড়ে দেয়া হয় ভিসার আবেদনে। আর তাদের বাছাই করতেই যত পরিশ্রম দূতাবাসের। সহশিল্পীদের বহর নিয়ে অতীতে দূতাবাসের অভিজ্ঞতা মধুর নয়।

নিউইয়র্কে এপ্রিল মাসে অনুষ্ঠিত দুটি অনুষ্ঠান নিয়ে কমিউনিটির মানুষের রয়েছে বিস্তর অভিযোগ। একটি অনুষ্ঠানতো ধর্মীয় প্রভাব বলয়ে অনুষ্ঠিত হলো। যুগযুগ ধরে বাংলা নববর্ষ অসাম্প্রদায়িক চেতনার সার্বজনীন উৎসব হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছিল। কিন্তু বাংলাদেশে কিছু ধর্মান্ধ ও কাঠ মোল্লা সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এই উৎসবকে বির্তকিত করে তোলে। তারা ফতোয়া দিতে থাকে। নিউইয়র্কে বাংলা নববর্ষকে একটি গোষ্ঠী তাদের নিজস্ব উৎসবে রুপায়িত করেছে। আর এর নেপথ্যে কাজ করছেন একজন। সুকৌশলে অসাম্প্রদায়িক একটি উৎসবকে ধর্মীয় ছাপ দেয়া হয়েছে। আর এর জন্য দায়ি সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদ শক্তিগুলো। তা যে ধর্মেরই হোক না কেন।

কমিউনিটির অনুষ্ঠানের নামে দেশে বিদেশে চলে চাঁদাবাজির মহোৎসব। বাংলাবর্ষবরনকে সামনে েেরখে দেশের একটি ব্যাংক থেকে ডোনেশন নেয়া হলো দেড় কোটি টাকা। প্রবাসেও চললো চাঁদাবাজি। গত বছর এমন একজন সংস্কৃতি সেবকের নামে আদম আমদানির মামলাও হয়েছিল। তা এখনও নিউইয়র্কের আদালতে বিচারাধীর রয়েছে।
অনেকে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের নামে ব্যবসা খুলেছেন। অবশ্য এটি দোষের কিছু নয়। পেশা হিসেবে মর্যদারও বটে। তবে অনুষ্ঠানের নামে আদম ব্যবসা ও চাঁদাবজির হোলিখেলা সর্মথন যোগ্য নয়। কমিউনিটিতে তা নিয়ে বেশ কথা উঠেছে।

চেয়ারের আকাল দেখা দিয়েছে নিউইয়র্কে। কমিউনিটির কল্যানে, অসংগতি দূর করতে কিংবা অথবা কারও বিপদে আপদে নিউইয়র্কের কথিত বুদ্ধিজীবি ও সংস্কৃতি সেবকদের দেখা যায় না। কিন্তু কথিত আদম ব্যবসায়ীদের অনুষ্ঠানে তাদের উপস্তিতি লক্ষনীয়। অনুষ্ঠানের আয়োজকরা তাদের নাম ব্যবহার করেন আহবায়ক, চেয়ারম্যান ও উপদেষ্টা হিসেবে। অনুষ্ঠানে বাহারি কাপড় পড়ে মঞ্চে উঠে বসে কমিউনিটিকে জ্ঞান দান করেন। বক্তৃতাই তাদের পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাঝখানে তারা অসৎ ধান্ধাবাজ দু’ একজনের অবৈধ কর্মকান্ডকে জায়েজ করে যাচ্ছেন। হায় সেলুকাস!

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম