শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

সেনাপ্রধানের বিদায় নাকি নির্বাচন? তারেকের চ্যালেঞ্জ

মনোয়ারুল ইসলাম   |   শুক্রবার, ৩০ মে ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ৩৫৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সেনাপ্রধানের বিদায় নাকি নির্বাচন? তারেকের চ্যালেঞ্জ

বিএনপি আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নিবার্চন দাবি করছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান গত ২৮ মে ঢাকার পল্টনে লাখো জনতার সমাবেশে লন্ডন থেকে ভাচুর্্যয়াল বক্তব্যে ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দাবি করেছেন। এমন বক্তব্যের এক সপ্তাহ আগেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান ওয়াকারুজ্জামান বলেছেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন করা উচিত। তার এই দাবি তাৎপর্যপূর্ন। সরকার বলছে ডিসেম্বরের পর নির্বাচন। তা জুনেও হতে পারে। সেখানে সেনাপ্রধান চাচ্ছেন ডিসেম্বরে। সরকারের সাথে এই দূরত্বের অর্থ কি? ডিসেম্বরে নির্বাচন না হলে সেনা প্রধানের অবস্থান কোথায় থাকে? অথচ আগামী নির্বাচনকে অবাধ ও নিরপেক্ষ করতে চাইলে এই সেনাবাহিনীরই সরাসরি সহায়তা প্রয়োজন। তাদের সর্মথন ছাড়া দেশে একটি অবাধ ও নিরেপেক্ষ নির্বাচন অসম্ভব। সেনাপ্রধানের দাবি পূরণ না হলে তিনি কি বিদায় নেবেন? নাকি তাকে সরিয়ে দেয়া হবে? এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনীতিতে। ভূ—রাজনীতি ও কূটনীতির সমীকরণে ভারত সরকারও একই সুরে গত ২৯ মে বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে বিস্ফোরক বক্তব্য প্রদান করেছে। যা তারেক রহমান ও সেনা প্রধান ওয়াকারুজ্জামানের বক্তব্যের প্রতিধ্বনি। বাংলাদেশে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন চেয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে উঠে আসে বাংলাদেশ প্রসঙ্গ নির্বাচন প্রসঙ্গ। এ সময় এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধির জয়সওয়াল বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের ইচ্ছা ও ম্যান্ডেট নিশ্চিত করতে হবে। এদিকে জাপানে গিয়ে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলছেন, জুনের মধ্যেই নিবার্চন হবে। আর ইউনূসের আর্শীবাদপুষ্ট এনসিপি জাতীয় নির্বাচনকে পাশ কাটিয়ে আগে তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তাব করছে। জামায়াত এনসিপির সুরে কথা বলছে। তবে তারা জাতীয় নির্বাচনের সাথে সংস্কারের বিষয়টি জুড়ে দিচ্ছে। বিএনপি সরকারের কথায় বিশ^াস করতে পারছে না। আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র রোজা থাকবে। মার্চে এসএসসি পরীক্ষা। তারপর এইচএসসি পরীক্ষা। পরে বর্ষাকাল শুরু হবে। সাধারণত বাংলাদেশে নিবার্চন ডিসেম্বর কিংবা জানুয়ারি মাসে হয়ে থাকে। ফলে জুনকে ভোটের মাস হিসাবে ঘোষণা করায় সন্দেহ দানা বাঁধছে। তবে বিএনপির নেতারা ড.ইউনূসের পদত্যাগ চায় না। শুধু তাড়াতাড়ি নিবার্চন দাবি করে আসছে। জাপানে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বিএনপিকে উদ্দেশ্য করেই বলেছেন, একটি দল ছাড়া কেউ নির্বাচন চাচ্ছে না। তার এই বক্তব্যের ১ ঘন্টা পরেই তারেক রহমান কড়া ভাষায় বলেছেন, নির্বাচন ডিসেম্বরেই দিতে হবে।

 

নিবার্চন যখনই হোক তার একটা রোডম্যাপ থাকতে হবে। রোডম্যাপ কিংবা তফসিল কিংবা ভোটের তারিখ না দিয়া সন্দেহজনক। সেনাপ্রধান ওয়াকার—উজ—জামান অফিসার্স অ্যাড্রেসে ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট চাইলেন। তারপরই ইউনূসের অভিমান। তার বাসভবন যমুনার সামনে ইশরাকের লোকেরা অবস্থান করছে কেনো ? উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ক্ষোভ ঝাড়লেন ড. ইউনূস। এই পরিস্থিতিতে আপনাদের কিছু করার আছে কি—না জানান। কয়েকদিন পর আবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক। অন্তত চারজন উপদেষ্টা বললেন, নিবার্চনের রোডম্যাপ দিন, সব ঠিক হয়ে যাবে। ড. ইউনূস নির্বিকার। কঠিন হয়ে বসে থাকলেন। যেন তিনি কিছুই বোঝেন না !
বাংলাদেশ রীতিমত জ¦লছে। রাজপথে বিএনপি বিক্ষোভ করছে। সচিবালয় উত্তাল। নগর ভবনে তালা দিয়ে দিয়েছে ইশরাকের সমর্থকরা। কিন্তু ভাবলেশহীন মানুষের মত জাপান সফরে গেলেন। দেশের অভ্যন্তরের সংকট নিরসনে তিনি উদ্যোগী হলে না। প্রশ্ন হলো, নগরে আগুন লাগলে দেবালয় কি অক্ষত থাকে। উত্তাপ কি যমুনায় যাবে না? বিএনপি’র তারুণ্যের সমাবেশে লক্ষ লক্ষ মানুষ সমবেত হয়েছেন। সমাবেশে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলছেন, ডিসেম্বর মাসে নিবার্চন হতে হবে। ডিসেম্বর মাসে নিবার্চন হবে। সেনাপ্রধান ও বিএনপি’র এক সুর। ইউনূসের রাজনৈতিক শক্তি নেই। তবুও কেন তিনি একচুলও ছাড় নয়।

 

নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ নিয়ে সরকারের ব্যাপারে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর একটা সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ক্রমেই সন্দেহের ডালপালা বিস্তারলাভ করছে। আবার সরকারও ভেতরে ভেতরে একটি দলকে প্রতিপক্ষ ভাবছে। এর মধ্যে বিএনপি নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ নিয়ে এখন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান তারুণ্যের সমাবেশ থেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচন ডিসেম্বরেই দিতে হবে। বিপরীতে প্রধান উপদেষ্টা বলে আসছেন ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন দেবেন। জাপান সফররত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার একধাপ এগিয়ে বলেন, ডিসেম্বরে নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছে একটি দল। তিনি বলেন, তাহলে এখন কী হবে? বাস্তবতা হলো—যে দলটি ডিসেম্বরে নির্বাচন চাচ্ছে, সেটি এ মুহূতের্র সর্ববৃহৎ দল বিএনপি। আবার ডিসেম্বরে নির্বাচন দিলে জামায়াত তো আপত্তি করবে বলে মনে হয় না। ফলে বিষয়টিকে সরকারের খাটো করে দেখা উচিত হবে না। জাতীয় নির্বাচনের সময় নির্ধারণ নিয়ে গত কয়েক মাস ধরে রাজনীতির মাঠ একরকম সরগরম। প্রতিটি দলই সরকারের কাছে নির্বাচনের রোডম্যাপ চেয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো দল নির্বাচনের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চায় সংস্কার ও বিচারের ওপর। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় দেশে এখন সবচেয়ে শক্তিশালী দল বিএনপি। এর পরে রয়েছে জামায়াত। ভোটের মাঠে পরিচিত না হলেও গণ—অভ্যূত্থানের নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্লাটফর্ম থেকে সৃষ্টি হওয়া নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এখন বেশ আলোচনায়। দলটির নেতারা ইতোমধ্যে বক্তৃতা, বিবৃতি, টকশোসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বলতে শুরু করেছেন—জনগণ বিকল্প হিসাবে তাদেরই বেছে নেবে। অবশ্য বিএনপির অনেক নেতা কিছুদিন থেকে বলে আসছেন এনসিপি সরকারি দল। অন্তর্বর্তি সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় দলটি প্রশাসনসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রভাব বিস্তার করছে। দুই দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা প্রতিদিন একে—অপরের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।

 

এ অবস্থায় দিন যত যাচ্ছে, তত বিএনপির সঙ্গে এনসিপির বিরোধ বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল¬া দিয়ে বাড়ছে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার উত্তাপ। বুধবার বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নয়াপল্টনে তারুণ্যের সমাবেশে বলেছেন, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যেই নির্বাচন হতে হবে। দলের নেতাকর্মীদের সেভাবে প্রস্তুতি নিতেও বলা হয়। বৃহস্পতিবার তিনি অপর এক আলোচনা সভায় ডিসেম্বরের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট দিন—তারিখ ঘোষণার আহ্বান জানান।

 

অপরদিকে জাপান সফররত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং জাপান—বাংলাদেশ পার্লামেন্টারি ফ্রেন্ডশিপ লীগের (জেবিপিএফএল) সভাপতি তারো আসো টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন। বৃহস্পতিবার এক অনুষ্ঠানে প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘সব দল নয়, শুধু একটি রাজনৈতিক দলই চলতি বছর ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন চায়।’ এমন পরিস্থিতিতে দেশের রাজনীতি ও নির্বাচন কোন পথে যাচ্ছে, তা নিয়ে চুলচেরা বিশে¬ষণ চলছে নানা মহলে। ##

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম