নিজস্ব প্রতিবেদক | শুক্রবার, ৩০ আগস্ট ২০২৪ | প্রিন্ট | ৬২২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এখন ‘তটস্থ কন্যা’ মুক্ত। কথায় কথায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ টেনে আনার অযাচিত সেই সুন্দরী অফিসার আর নেই। প্রধানমন্ত্রীর সাথে গতরাতেই ‘টেক্সট ম্যাসেজে’ কথা হয়েছে এমন গল্প দূতাবাসের আর কাউকে শুনতে হচ্ছে না। আরিফা রহমান রুমা নামের এই অফিসারকে (কাউন্সিলর পলিটিক্যাল) নিয়ে তটস্থ থাকতেন দূতাসের কূটনীতিক ও কর্মকর্তারা। এমনকি রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ইমরানও ভয়ে তাকে সমীহ করে চলতেন। অনেকে তাকে HPM কন্যা বলে সম্বোধন করতেন। কিন্তু ৫ আগষ্ট বাংলাদেশে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের পর দূতাবাসের পরিবেশই বদলে গেছে। ইতোমধ্যেই রাষ্ট্রদূত মোহম্মদ ইমরান ও আরিফা রহমান রুমাকে ঢাকায় তলব করা হয়েছে। তবে জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারন অধিবেশন চলাকালীন সময় পর্যন্ত জ্বনাব ইমরানকে কাজ চালিয়ে যাবার মৌখিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
আরিফা রহমান রুমার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। রাজনৈতিক বিবেচনায় তার পোষ্টিং হয়েছিল ওয়াশিংটনে। গোপালগঞ্জে বাড়ি হওয়ায় আশীর্বাদ ছিল তার ওপর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথেও ছিল জানাশোনা। ছিল বাংলাদেশ ছাত্রলীগ করার রেকর্ডও। সোশাল মিডিয়ায় প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামীলীগের অনেক নেতার সাথে তার ঘনিষ্ঠতার ছবিও দেখা যায়। সরকারি চাকুরি করেও গত জুলাই আগষ্টে ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আন্দোলন বিরোধী একাধিক পোষ্ট দিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বেশ উত্থানপতন রয়েছে। প্রথম বিবাহ টেকেনি। প্রথম স্বামীকে নিজেই ডিভোর্স দিয়েছেন। পরে আওয়ামী পন্থী আইনজীবি ফোরামের নেতা ও সাবেক এটর্নি জেনালে এডভোকেট মাহবুবে আলমের সন্তানের সাথে প্রেমে জড়িয়ে পড়েন। তারা বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না। গত ১ বছর ধরেই রুমার স্বামী আলাদা রয়েছেন।
আরিফা রহমান রহমান বাংলাদেশে শিক্ষকতা পেশায় জড়িত ছিলেন। মাঝেমধ্যে বিভিন্ন টিভি টক শো’তেও অংশ নিতেন।
আরিফা রুমা বাংলাদেশে ফেরৎ যাচ্ছেন না এটা নিশ্চিত। তিনি ইতোমধ্যে ওয়াশিংটনে এক ইমিগ্রেশন ল’ইয়ারের শরণাপন্ন হয়েছেন। রাজনৈতিক আশ্রয় নেবার প্রস্তুত নিচ্ছেন ।