শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

অর্থনীতি ডেস্ক   |   রবিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ২১৭ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার

সুনির্দিষ্ট তথ্য ও নীতিমালা না থাকায় ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে কাঙ্ক্ষিত হারে কর আদায় করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। যথাযথ নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে এ খাত থেকে প্রচুর রাজস্ব আহরণের সুযোগ গ্রহণের সুপারিশ করেছে সংস্থাটি।

গতকাল শনিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রে ডিজিটাল অর্থনীতি থেকে কর আদায় সংক্রান্ত এক সংলাপে এসব কথা বলা হয়। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুনের সভাপতিত্বে এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

মূল প্রবন্ধে মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ হবে। খুব দ্রুত দেশের অর্থনীতির একটা বড় অংশ হবে ডিজিটাল ইকোনমি। বর্তমানে বিক্ষিপ্তভাবে এ খাত থেকে রাজস্ব আদায় করা হলেও তা সামান্য। বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়ে একটি তথ্যভান্ডার গঠনসহ এ খাতের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের মাধ্যমে আরও বেশি রাজস্ব আহরণের সুযোগ রয়েছে। তবে অযৌক্তিকভাবে কর আরোপ করে সম্প্রসারণশীল খাতটি যাতে মুখ থুবড়ে না পড়ে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

মূল প্রবন্ধে বলা হয়, ফেসবুক, গুগল, অ্যামাজনের মতো অনাবাসী প্রতিষ্ঠান থেকে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আদায় করা হলেও আয়কর আদায় করা সম্ভব হয় না। ২০১৯ সালের জুনে হাইকোর্টকে দেওয়া বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী পাঁচ মোবাইল অপারেটরের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন বাবদ এসব প্রতিষ্ঠান ৮ হাজার ৭৫০ কোটি টাকা আয় করেছে। অথচ জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য বলছে, এ সময়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় মাত্র ১৩৩ কোটি টাকা। এ ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য দরকার। একইভাবে ফ্রিল্যান্সারদের মাধ্যমে কী পরিমাণ অর্থ দেশে আসছে, তার সঠিক তথ্য নির্ধারণ করে যৌক্তিক কর আরোপ করার সুপারিশ করা হয়।

মূল প্রবন্ধে আরও বলা হয়, বাংলাদেশে ২০২১ সালে ডিজিটাল অর্থনীতির আকার ছিল ৫৬০ কোটি ডলারের। ২০২২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৬০ কোটি ডলার। আগামী ২০২৬ সালে এর পরিমাণ হতে পারে ১ হাজার ৫০ লাখ ডলার। দেশের কর-জিডিপির অনুপাত বাড়াতে এ খাত থেকে রাজস্ব বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য কাজী নাবিল আহমেদ বলেন, সরকার স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে। স্মার্ট বাংলাদেশ হলে রাজস্ব আদায় থেকে প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যন্ত সবকিছু অটোমেশন হবে। তখন রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আরও বাড়বে। একই সঙ্গে গুগল, ফেসবুক, টুইটারের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানকে পুরোপুরি রাজস্বের আওতায় আনা যাবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিশেষ অতিথি ও জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য আহসান আদিলুর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) বলছে, গুগল, ফেসবুকের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশ থেকে বিলিয়নের বেশি টাকা নিয়ে গেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বলছে, ১৩৩ কোটি টাকা। তাদের কাছ থেকে যথাযথ রাজস্ব আদায় জরুরি।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, কর-জিডিপির অনুপাত বাড়াতে ডিজিটাল অর্থনীতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অনেক বড় বড় কোম্পানি থাকলেও তাদের থেকে খুব বেশি রাজস্ব আসে না। এসব প্রতিষ্ঠানকে যৌক্তিকভাবে করের আওতায় আনার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন– সিপিডির বিশেষ ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মজিদ, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) পরিচালক হাবিবুল্লাহ নেয়ামুল করিম, বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সার ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান তানজিবা রহমান, ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সহসভাপতি মোহাম্মদ শাহাব উদ্দিন প্রমুখ।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম