শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us
শেষ ভরসা: মোদি বন্দনা ২২ জুন

যুক্তরাষ্ট্র নিজ চোখে দেখছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ২০ জুন ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ২৩৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

যুক্তরাষ্ট্র নিজ চোখে দেখছে বাংলাদেশ

 

মোদি বন্দনায় বাংলাদেশের ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। জন সর্মথন নি¤œমুখি হওয়ায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে অনেকটাই অনীহা তাদের। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্ব বাংলাদেশে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন দেখতে অনড়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচনে বাধা প্রদানকারি ও তাদের আত্মীয়স্বজনকে ভিসা নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনার আগাম সর্তক বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। শেখ হাসিনা বিষয়টি আগ থেকেই আঁচ করতে পেরেছেন। হাসিনার প্রতি মার্কিনীদের ‘না’ তা দিবালোকের মতো স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বাংলাদেশে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে দাাঁড়িয়ে বলেই ফেললেন, আমেরিকা চাইলে সরকার পরিবর্তন করতে পারে। তার এই বক্তব্য ছিল বাংলাদেশের রাজনীতির নাটকীয় ঘটনা প্রবাহের ভিন্ন এক অধ্যায়। কিন্তু আমেরিকার মনোভাব পরিবর্তন করতে পারলেই আরেক টার্ম ক্ষমতায় নিশ্চিত। প্রশাসন, আইনশৃংখলা বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনও মিশন বাস্তবায়নে প্রস্তুত। বাগড়া বেধেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলো। এ সব দেশের উভয় দলের আইনপ্রনেতারা বাংলাদেশ প্রশ্নেও একমত। তা’হলে ক্ষমতায় থাকার শেষ ভরসা ? ভারত। কিন্তু আমেরিকার মনোভাব পরিবর্তন করতে না পারলে সে ভরসায় গুঁড়েবালি। নিজেদের কূটনীতিতে শতভাগ ব্যর্থতায় ভারতই একমাত্র ভরসা। পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুল মোমেন শেখ হাসিনার সরকার টিকিয়ে রাখতে প্রকাশ্যে ভারতের সহযোগিতা চাওয়ার কথা স্বীকারও করেছেন।

নির্বাচনের সময়ও ঘনিয়ে আসছে। জামাতের মতো দলটিকে গত ১০টি বছর মাঠে নামতে দেয়নি সরকার। সভা সমাবেশের অনুমতি পায়নি তারা। সরকার নিরপায় হয়ে তাদেরকেও সভা সমাবেশ করতে অনুমতি দিতে বাধ্য হয়েছে। শেখ হাসিনা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এমন কিছু ঘটেছে যাতে ক্ষুব্ধ হয়ে বলেছেন, ২০ ঘন্টা জার্নি করে আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে আমাদের আমেরিকা যাবার দরকার নেই। আরও মহাসাগর রয়েছে। সেগুলো পাড়ি দিয়ে অন্য দেশে যাব। সম্পর্ক গড়ে তুলবো। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে ব্যাখা করছেন ভিন্নভাবে। তাদের মতে, অতি মানসিক চাপ থেকেই প্রধানমন্ত্রী এ কথা হয়তো বলেছেন। এতে পারিবারিক কিছু বিষয়ও জড়িত থাকতে পারে। নইলে তিনি এমন হার্ডলাইনে কথা বলতে পারেন না।

দেশের রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন, ভারতের মোদিই এখন শেষ ভরসা। হয়তো তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাংলাদেশের বরফ গলাতে পারেন। এতে ভারতের স্বার্থটিও জড়িত। তাদের কাছে প্রাপ্তি ও প্রত্যাশায় হাসিনাতেই তাদের এখনও আস্থা। ২২ জুন ওয়াশিংটনে নরেন্দ্র মোদি ও জো বাইডেনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হরব। সরকারি দল আওয়ামী লীগের প্রত্যাশা ওয়াশিংটনে নরেন্দ্র মোদি ও জো বাইডেনের বৈঠকে বিষয়টি সাইডলাইনে আসতে পারে। শেখ হাসিনার সরকার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রে মনোভাব বদলাতে এটাই শেষ অস্ত্র। সরকারি দল আগামী ২২ জুনের মোদি-বাইডেনের বৈঠকের দিকে চাতক পাখির মতো তাকিয়ে আছে।

 

কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। এতওদিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে দেখতো ভারতের চোখ দিয়ে। কূটনীতিতে অনেক সিদ্ধান্ত হতো ভারতের নীতির আলোকেই। এখন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে দেখছে নিজ চোখে । নিজ আয়নায়। এমতাবস্থায় মোদি-বাইডেন বৈঠকে বিষয়টি আদৌ আসবে কিনা তাতে অনেকেরই সন্দেহ রয়েছে।

 

আনন্দবাজার পত্রিকার খবরঃ

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমেরিকা সফরের প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠতে চলেছে। জো বাইডেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে মোদীর সঙ্গে এই প্রথমবার দ্বিপাক্ষিক ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হতে চলেছে। আলোচনার টেবিলে মোদী ও বাইডেন কী কী বিষয় তুলে ধরতে চলেছেন, তা নিয়ে আজ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বিদেশসচিব বিনয়মোহন কোয়াত্রা।

কোয়াত্রা জানিয়েছেন, দুই রাষ্ট্রনেতার মধ্যে বৈঠকে গুরুত্ব পাবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরি ও বিকাশে দু’দেশের সহযোগিতা। এ মাসের ২১ তারিখ থেকে আমেরিকা সফর শুরু হবে মোদীর। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রের পাশাপাশি শিল্প ও বাণিজ্যে সহযোগিতা বাড়ানো নিয়েও কথা বলবেন মোদী-বাইডেন। টেলিকম, মহাকাশ গবেষণায় বিনিয়োগ নিয়েও তাঁরা আলোচনা করবেন।

নিউ ইয়র্ক থেকে মোদীর সফর শুরু হচ্ছে। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসে রাষ্ট্রপুঞ্জের সদর দফতরে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি ওয়াশিংটনে পৌঁছবেন। ২২ জুন হোয়াইট হাউসে বাইডেনের সঙ্গে বৈঠক। সেই দিনই মোদীর সম্মানে নৈশভোজের আয়োজন করছেন জো বাইডেন ও তাঁর স্ত্রী জিল বাইজেন। ২২ তারিখেই আমেরিকান কংগ্রেসের যৌথ অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরের দিন মোদীর সম্মানে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিস। আমেরিকা সফরে বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠানের কর্তাদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করবেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম