শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

সিনেট দখল : টার্নিং পয়েন্ট নেভাদা!

ডেস্ক রিপোর্ট   |   শনিবার, ১২ নভেম্বর ২০২২   |   প্রিন্ট   |   ৩২০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

সিনেট দখল : টার্নিং পয়েন্ট নেভাদা!

 

মার্কিন কংগ্রেসে প্রত্যাশার চেয়ে ধুন্ধুমার ফাইট দিচ্ছে ডেমোক্রেটরা। নির্বাচনের আগে মনে করা হয়েছিল মুদ্রাস্ফীতি, গর্ভপাত সহ আরও কিছু ইস্যুতে ভরাডুবি হবে ডেমোক্রেটদের। কিন্তু বাস্তবে তারা রিপাবলিকানদের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছে। এখন নানা সমীকরণ। নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে ২১১ আসন পেয়ে এগিয়ে আছে রিপাবলিকানরা। ডেমোক্রেটরা পেয়েছে ২০৩ আসন। এই পরিষদ নিয়ন্ত্রণ করতে হলে একটি দলকে পেতে হবে কমপক্ষে ২১৮ আসন। সেই হিসেবে এখনো ২১টি আসনের ফল ঘোষণা বাকি। সেখান থেকে রিপাবলিকানদের প্রয়োজন আর মাত্র ৭টি আসন। অন্যদিকে ডেমোক্রেটদের প্রয়োজন ১৫টি আসন।
সমীকরণ বলছে প্রতিনিধি পরিষদ নিয়ন্ত্রণে নেয়া রিপাবলিকানদের জন্য খুবই অনুকূলে। অন্যদিকে সিনেট নিয়ে ‘নেক-টু- নেক’ বা কাঁধে কাঁধ রেখে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে ডেমোক্রেটরা। যে তিনটি রাজ্যের ফলের ওপর সিনেটের ভাগ্য নির্ধারণ করছিল তার মধ্যে অ্যারিজোনায় জিতেছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী। ফলে সিনেটে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ডেমোক্রেট-রিপাবলিকান ৪৯-৪৯ আসন পেয়েছে। বাকি নেভাদা এবং জর্জিয়ায়। এর মধ্যে জর্জিয়ায় কোনো প্রার্থী শতকরা ৫০ ভাগ ভোট না পাওয়ায় আগামী ৬ই ডিসেম্বর সেখানে উপনির্বাচন। তার আগে নেভাদা এখন টার্নিং পয়েন্ট হয়ে উঠেছে। যদি এই আসনে ডেমোক্রেটরা বিজয়ী হয়, তাহলে সিনেটে তারা আসন পাবে ৫০টি। তার সঙ্গে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমালা হ্যারিসের ভোট দেয়ার ক্ষমতা আছে। ফলে সিনেটে প্রয়োজনীয় ৫১ আসন পূরণ হয়ে যাবে ডেমোক্রেটদের। যদি তা-ই হয়, তাহলে নিশ্চিন্ত হতে পারে তারা। অন্যদিকে রিপাবলিকানরা যদি নেভাদায় জেতে, তবু তাদের আসন সংখ্যা হবে ৫০। এক্ষেত্রে ৫১ আসনের টার্গেট পূরণ করতে তাদের তাকিয়ে থাকতে হবে জর্জিয়ার দিকে। এমন হলে আগামী ৬ই ডিসেম্বরের আগে সিনেট কার দখলে যাবে তা বলা যাবে না। যদি জর্জিয়ায় বিজয়ী হয় তবেই সিনেটের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানরা পাবে। অর্থাৎ তাদেরকে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিতে হলে বাকি দুটি আসন নেভাদা এবং জর্জিয়া দুটিতেই জিততে হবে। এই হিসাবে সবচেয়ে সুবিধাজনক অবস্থায় আছে ডেমোক্রেটরা। তারা আর মাত্র একটি আসন পেলেই নিয়ন্ত্রণ তাদের।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সিনেট নিয়ন্ত্রণের দৌড়ে রিপাবলিকানদের ধরে ফেলেছে ডেমোক্রেট দল। অ্যারিজোনায় ভোটগ্রহণ শেষ হয়। এতে রিপাবলিকান প্রার্থী ব্লেক মাস্টার্সকে পরাজিত করে জয় পেয়েছেন ডেমোক্রেট প্রার্থী মার্ক কেলি। নেভাদায় ভোটগ্রহণ চলছিলই। সেখানে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন রিপাবলিকান প্রার্থী। জয় নিশ্চিতের পর ভোটারদের ধন্যবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন মার্ক কেলি। তিনি বলেন, আমাকে নির্বাচিত করার জন্য অ্যারিজোনার মানুষকে ধন্যবাদ। আমরা যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি তার জন্য ডেমোক্রেট, ইন্ডিপেন্ডেন্টস এবং রিপাবলিকানদের এক হয়ে কাজ করতে হবে। অ্যারিজোনার মানুষ তাই বিশ্বাস করে। আমি যতদিন দায়িত্বে আছি, সেটাই করে যাবো। অ্যারিজোনার সিনেটর হিসেবে কাজ করা আমার জীবনের সব থেকে বড় সম্মানের একটি। এই রাজ্য আমার উপরে ভরসা ধরে রেখেছে দেখে আমি কৃতজ্ঞ।

এবার নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রিপাবলিকানদের লাল ঢেউ খেলে যাবে বলে পূর্বাভাস করা হয়েছিল। কিন্তু সাবেক প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান ডনাল্ড ট্রাম্প রিপাবলিকানদের সেই ঢেউয়ের অনেক বড় ক্ষতি করেছেন বলেই দলীয় নেতাকর্মীরা বলে চলেছেন। তিনি ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কোনো তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই জালিয়াতির নির্বাচন বলে দাবি করেছিলেন। তার এই বক্তব্য আদালত সহ সব স্থানে মিথ্যা প্রমাণ হয়েছে। তবুও তাকে সমর্থন করেছিলেন এমন কট্টর ও ট্রাম্পপন্থি কিছু নেতাকর্মী। তাদের ভেতর থেকে বিপুল সংখ্যককে মধ্যবর্তী নির্বাচনে অনুমোদন দিয়েছিলেন ট্রাম্প। শুধু অনুমোদনই নয়, তাদের প্রচারণায়ও ছিলেন তিনি। এর বেশির ভাগই পরাজিত হয়েছেন। ফলে রিপাবলিকানরা তাদের হতাশাজনক ফলের জন্য ট্রাম্পকে দায়ী করছেন। অন্যদিকে ডনাল্ড ট্রাম্প ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি নির্বাচনের আগে থেকেই তার দলের উদীয়মান ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডি’স্যান্তিসকে হুমকি দিয়ে আসছেন। সবচেয়ে বড় হুমকি হলো- ডি’স্যান্তিস যদি নির্বাচন করেনই তাহলে তার স্ত্রী জানেন না এমন গোপন খবর ফাঁস করে দেবেন ট্রাম্প। এখানেই শেষ নয়। ট্রাম্প দলের আরও অনেককে ক্ষেপিয়ে তুলেছেন।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম