শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

হলিউডে নারীবৈষম্য নিয়ে সরব শার্লিজ থেরন

বিনোদন ডেস্ক   |   বুধবার, ০৯ জুলাই ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ১১৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

হলিউডে নারীবৈষম্য নিয়ে সরব শার্লিজ থেরন

অস্কারজয়ী হলিউড তারকা শার্লিজ থেরন সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে নারীদের প্রতি দীর্ঘদিনের বৈষম্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি দ্য নিউইয়র্ক টাইমস-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, অ্যাকশন ঘরানার সিনেমায় পুরুষদের বারবার সুযোগ দেওয়া হলেও নারীদের ক্ষেত্রে সেই সুযোগ একবারই আসে, তাও অনেক শর্তসাপেক্ষে।

তিনি বলেন, “এটা সবাই জানে– অ্যাকশন সিনেমায় নারীপ্রধান চরিত্র থাকলে সেগুলো সহজে অনুমোদন পায় না। সবচেয়ে হতাশার বিষয় হলো, পুরুষ অভিনেতারা বারবার সুযোগ পান, কিন্তু নারীরা পান না। যদি কোনো নারী একটি অ্যাকশন সিনেমা করেন এবং সেটা বক্স অফিসে সফল না হয়, তাহলে তাঁকে দ্বিতীয়বার সেই সুযোগ দেওয়া হয় না।”

‘ভ্যারাইটি’-র প্রতিবেদনে বলা হয়, থেরনের মতে, পুরুষদের একাধিক ব্যর্থ অ্যাকশন সিনেমা থাকা সত্ত্বেও স্টুডিওগুলো তাদের নিয়ে কাজ করতে দ্বিধা করে না। তিনি বলেন, “স্টুডিওগুলো এটিকে ঝুঁকি হিসেবে দেখে, কিন্তু সেই একই ঝুঁকি তারা কোনো ছেলের জন্য বহুবার নেয়– যার একাধিক সিনেমা সফল হয়নি।”

বর্তমানে শার্লিজ থেরনের অভিনীত নেটফ্লিক্স প্রযোজিত অ্যাকশন সিকুয়াল ‘দ্য ওর্ল্ড গার্ড ২ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এর আগে তিনি ‘অ্যাটমিক ব্লন্ড’, ‘ম্যাড ম্যাক্স: ফিউরি রোড’-এর মতো সফল অ্যাকশন সিনেমায় কাজ করেছেন।

সাক্ষাৎকারে থেরন আরও জানান, এ ধরনের চরিত্রে কাজ করতে গিয়ে তাঁকে মারাত্মক শারীরিক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে। তিনি বলেন, “অনেকে আমাকে দেখে জিজ্ঞেস করে– ‘হাতের কী হয়েছে?’ আমি বলি, ‘সার্জারি করিয়েছি।’ তখন তারা বলে– ‘গতবারও তো তোমার সার্জারি হয়েছিল!”

শার্লিজ থেরনের অ্যাকশন তারকা হয়ে ওঠার পেছনে ২০০৫ সালের সিনেমা ইয়ন ফ্লিক্স-এর বড় ভূমিকা রয়েছে। তবে এই সিনেমার সঙ্গেই জড়িয়ে রয়েছে তাঁর জীবনের এক বেদনাদায়ক অধ্যায়। তিনি বলেন, “এই সিনেমার শুটিংয়ের নবম দিনে আমি একটি ব্যাক হ্যান্ডস্প্রিং দিচ্ছিলাম। কিন্তু ঠিকমতো উচ্চতা না পেয়ে আমি কংক্রিট ব্রিজে গিয়ে গলা আঘাত করি। সেই চোট এতটাই গুরুতর ছিল যে, তখনই ঘাড়ে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছিল।” এই একটি দুর্ঘটনার পর ১৮ বছর ধরে থেরনকে ভুগতে হয়েছে নানা শারীরিক জটিলতায়।

তিনি জানান, ‘ঘাড়ের পর দুটো কনুই, ডান কাঁধ, আঙুল, কবজি– সব জায়গায় সার্জারি করাতে হয়েছে। প্রচুর হাড়ও ভেঙেছে।” তবুও থেরন থেমে থাকেননি। তাঁর মতে, এই দীর্ঘ শারীরিক যন্ত্রণা সত্ত্বেও নারীদের অ্যাকশন হিরো হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে তিনি লড়াই চালিয়ে যেতে প্রস্তুত। তাঁর বক্তব্য আরও একবার স্পষ্ট করে দেয়– হলিউডে আজও নারী অ্যাকশন তারকাদের জন্য সুযোগ কতটা সীমিত ও অনিশ্চিত।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম