শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

রুনা লায়লার সংগীত জীবনের ৬ দশক, গান কথায় উদযাপন

বিনোদন ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১২১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

রুনা লায়লার সংগীত জীবনের ৬ দশক, গান কথায় উদযাপন

জীবন্ত কিংবদন্তি রুনা লায়লা। প্রথম গান রেকর্ডিংয়ের হিসাবে গতকাল ২৪ জুন তাঁর সংগীত জীবনের যাট বছর পূর্ণ হলো। দীর্ঘ সংগীত জীবনে বরেণ্য এ কণ্ঠশিল্পী দশ হাজারেরও বেশি গান গেয়েছেন। অর্জন করেছেন উপমহাদেশের কোটি মানুষের ভালোবাসা। বাংলা ছাড়াও রুনা লায়লা উর্দু, হিন্দি আর ইংরেজি ভাষা জানেন। তবে বাংলা, হিন্দি, উর্দু, পাঞ্জাবি, সিন্ধি, গুজরাটি, পশতু, বেলুচি, আরবি, পারসিয়ান, মালয়, নেপালি, জাপানি, ইতালিয়ান, স্পেনিশ, ফ্রেঞ্চ ও ইংরেজি ভাষায় গান করেছেন তিনি।

রুনা লায়লার সংগীত জীবনের ৬ দশক উদযাপন করেছে চ্যানেল আই। গতকাল চ্যানেলটির আমন্ত্রণে রুনা লায়লা এসেছিলেন অনুষ্ঠানে। শুরুতেই তাঁকে দেওয়া হয় লাল গালিচা সংবর্ধনা।

সংগীত জীবনের ৬০ বছর পূর্ণ উপলক্ষে রুনা লায়লা বলেন, ‘আপনাদের সবার দোয়া, আশীর্বাদ ও ভালোবাসায় আজ আমাকে এ পর্যন্ত নিয়ে এসেছে। এ ভালোবাসা, আশীর্বাদ ও শ্রদ্ধা যেন চিরকাল থাকে আমার সাথে।’

চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, ‘নিঃসন্দেহে আমাদের জন্য তো বটেই, গোটা উপমহাদেশের সংগীতপিপাসু সবার জন্যই আনন্দের একটি দিন। রুনা লায়লা উপমহাদেশের সংগীতকে যেভাবে সমৃদ্ধ করেছেন, বাঙালি হিসেবে আমরা গর্ববোধ করি।’

বাংলা চলচ্চিত্রের খ্যাতিমান অভিনেতা ও রুনার জীবনসঙ্গী আলমগীর বলেন, ‘রুনা কাজের ব্যাপারে ভীষণ সিরিয়াস। যেদিন তার শো বা গানের রেকর্ডিং থাকে, সেদিন সে কারও সঙ্গে কথা বলে না। এমনকি আমার সঙ্গেও নয়। গানের প্রতি এ রকম সিরিয়াস না হলে এতগুলো বছর টিকে থাকা সম্ভব হতো না।’

এ আয়োজনে রুনা লায়লাকে নিয়ে কথা বলেছেন কণ্ঠশিল্পী খুরশিদ আলম, নির্মাতা কাজী হায়াৎ, মতিন রহমান, অভিনেত্রী অঞ্জনা, অরুণা বিশ্বাস, অভিনেতা ওমর সানী, সংগীতশিল্পী লীনু বিল্লাহ, মানাম আহমেদ, ফোয়াদ নাসের বাবু, শওকত আলী ইমন, পরিচালক মুশফিকুর রহমান গুলজারসহ অনেকেই।

ভিডিও বার্তায় শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রুনা লায়লার ভাই, মেয়ে ও স্বজনরা। শুভেচ্ছা জানিয়েছেন দেশ-বিদেশের তারকারাও। ভিডিও বার্তায় বলিউডের সনু নিগম বলেন, ‘আপনি গুণী শিল্পী। আপনি এত সুন্দর, আপনার ব্যবহার এত ভালো। আপনার সঙ্গে আমার কথা বলার সৌভাগ্য হয়েছিল। যখন থেকে আমি গান শুনছি, তখন থেকে আপনাকে শুনছি। আপনাকে অনেক শুভেচ্ছা। সারা পৃথিবী আপনাকে ভালোবাসে, আমি আপনাকে ভালোবাসি।’

পাকিস্তানের অভিনেতা ইমরান আব্বাস শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, ‘আপনি বাকি জীবন গাইতে থাকুন, পৃথিবীকে সমৃদ্ধ করুন। পাকিস্তান থেকে ভালোবাসা জানাই।’

আঁখি আলমগীর বলেন, ‘আমরা অনেক গর্বিত যে আমাদের একজন রুনা লায়লা আছেন।’ অনুষ্ঠানে ইমরান, ইউসুফ, লুইপা, ঝিলিক রুনা লায়লার গাওয়া গান পরিবেশন করেন। সব শেষে ‘শিল্পী আমি তোমাদেরই গান শোনাবো’ গানটি গেয়ে শোনান সোমনুর মনির কোনাল। এ আয়োজন ছাড়াও রুনা লায়লাকে নিয়ে বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে আনন্দ আলো। পুরো আয়োজনটি সরাসরি সম্প্রচার করে চ্যানেল আই।

উল্লেখ্য, মাত্র ১২ বছর বয়সে ‘জুগনু’ সিনেমার ‘গুড়িয়া সি মুন্নি মেরি ভাইয়া কী পেয়ারি’ গানটি গাওয়ার মধ্য দিয়ে ১৯৬৪ সালের ২৪ জুন সিনেমার গানে পেশাগতভাবে মনোনিবেশ করেন রুনা লায়লা। এরপর পাকিস্তানের আরও অনেক সিনেমায় প্লেব্যাক করেন রুনা লায়লা। মুক্তিযুদ্ধের আগে ১৯৭০ সালের ২৯ মে মুক্তিপ্রাপ্ত নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘স্বরলিপি’ সিনেমায় ‘গানেরই খাতায় স্বরলিপি লিখে’ গানটি প্লেব্যাক করেন রুনা লায়লা। এটি ছিল বাংলাদেশের সিনেমায় তাঁর প্রথম প্লেব্যাক। গানটি লিখেছিলেন গাজী মাজহারুল আনোয়ার, সুর করেছিলেন সুবল দাস। গানে লিপসিং করেছিলেন চিত্রনায়িকা ববিতা।

বাংলা ভাষায় তাঁর বহু আধুনিক জনপ্রিয় গানও রয়েছে। যার মধ্যে বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ‘যখন থামবে কোলাহল’, ‘পাখি খাঁচা ভেঙে উড়ে গেলে’, ‘বন্ধু তিনদিন তোর’, ‘পান খাইয়া ঠোঁট লাল করিলাম’, ‘প্রতিদিন তোমায় দেখি সূর্যের আগে’, ‘ভাষার জন্য যারা দিয়ে গেছে প্রাণ’, ‘শেষ করো না শুরুতে খেলা’ ইত্যাদি।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম