শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের অনেকে টেন্ডার বাণিজ্যে

বাংলাদেশ ডেস্ক   |   শনিবার, ২৯ জুলাই ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ১৫৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের অনেকে টেন্ডার বাণিজ্যে

ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ইয়াজ আল রিয়াদ। গত জুনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দপ্তরে অনলাইনে উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে (ওটিএম) ডেটলাইনের মধ্যে টেন্ডার জমা দিতে পারেননি। পরবর্তী সময়ে তিনি আইনবহির্ভূতভাবে একটি প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার জমা নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) আহসানুল কবির মল্লিকের কক্ষে গিয়ে কক্ষের দরজা আটকে তাঁকে হুমকি-ধমকি এবং দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এ ছাড়া বিভিন্ন দরপত্র নির্দিষ্ট দরদাতাকে পাইয়ে দিতে তাঁর বিরুদ্ধে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কখনও কারও বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

এ রকম এক দল নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ভবনে নিয়মিতই দেখা যায়। বিশেষ করে প্রকৌশল দপ্তর, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিস, কোষাধ্যক্ষের অফিস এবং উপাচার্যের অফিসসহ বিভিন্ন কার্যালয়ে তারা ঘোরেন। তারা ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতা। কয়েকজন প্রকৌশলীর সঙ্গে আঁতাত করে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে হস্তক্ষেপ, চাপ সৃষ্টি এবং টেন্ডার বাণিজ্যে যুক্ত।

ইয়াজ আল রিয়াদ বলেন, ‘সময়ের পরে টেন্ডার গ্রহণ আইনবিরুদ্ধ হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ে আগে গ্রহণ করা হয়েছে। এখন কেন নেওয়া হবে না– আমি এটা জিজ্ঞেস করেছি। আর কিছু নয়। সবাই তো ছাত্রলীগের ছোট ভাই-বড় ভাই, এটা তো লুকোচুরির কিছু নেই। রবীন্দ্র ভবনে ফার্নিচারের ক্ষেত্রে নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে, সবাই জানে। এখন একজনের ক্ষেত্রে অনিয়ম করলে অন্যদেরও সুযোগ দিতে হবে, এটা আমি ভিসি স্যারকে বলব।’

সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের অভিযোগ, প্রতিবার ছাত্রলীগের নতুন কমিটি হওয়া মানে ডজনখানেক পদবঞ্চিত ও সাবেক অনেকে রেজিস্ট্রার ভবনে টেন্ডার বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন। তাদের এক-দু’জন পরবর্তী সময়ে ঠিকাদার হন, বেশির ভাগ ঝরে পড়েন। তাদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারাও বিভিন্ন প্রকল্পে ও দরপত্রে চাপ প্রয়োগ করেন।

নাম না প্রকাশের শর্তে একজন প্রকৌশলী বলেন, কমিটি হওয়া মানে অন্তত ১০ জন আমাদের দপ্তরে ঢুকবে। তারা চাপ সৃষ্টি বা অনুরোধ করে, ভাই আমারে একটা কাজ দেন। তাদের কোনো অভিজ্ঞতা নেই। এটা বিরক্তিকর। কয়েকজন এসে কান্না করার অবস্থা; বলে, ভাই পড়াশোনাও ওইভাবে করিনি। এখন তো বয়সও নেই, পরিস্থিতিও নেই। বাড়িতে পরিবারের অবস্থা খুব খারাপ। চলতে খুব কষ্ট হয়। একটা ব্যবস্থা করে দেন।

তিনি আরও বলেন, তারা প্রথমে চিন্তা করে ২ লাখ টাকার কাজে তাদের ১ লাখ টাকা লাভ হবে। এটা তার প্রথম চিন্তা– কত লাভ হবে এখানে? তারা মনে করে প্রজেক্টে তাদের পঞ্চাশ-ষাট শতাংশ লাভ হবে। এটা তো সম্ভব নয়। আবার বড় কাজে লাভ হয়। ছাত্রদলের সময়ও একই ঘটনা ঘটেছে।

রেজিস্ট্রার ভবন সূত্রে জানা যায়, ঢাবি ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারাও ছোট-বড় সব প্রকল্পে ফোন করেন অথবা লোক পাঠান। বিভিন্ন দরপত্রে সম্ভাব্য খরচ কত এবং কোন প্রতিষ্ঠান কত টাকা রেট দিয়েছে– এসব চাপ দিয়ে জেনে নেন। এর পর ওই প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে চাঁদা দাবি করেন। যার থেকে সুবিধা করতে পারেন, তাঁকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন তারা।

অভিযোগের বিষয়ে ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন বলেন, যে কোনো বিষয়ে ভিসি, প্রোভিসি স্যারদের বলতে পারি। রেজিস্ট্রার ভবনের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে কেন বলতে যাব? আমি এসব বিষয়ে কিছু জানিও না। এ ধরনের অভিযোগ ভিত্তিহীন।

ঢাবি কোষাধ্যক্ষ মমতাজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, এসব অভিযোগ আমিও শুনি। তবে সুনির্দিষ্টভাবে অথবা কাগজ না পেলে কিছু করার থাকে না। নিয়মের বাইরে কাজের সুযোগ নেই।

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের চাপ প্রয়োগের কথা কখনও শুনিনি। যথাযথ নিয়ম অনুযায়ী অনলাইন প্রক্রিয়ায় দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম