শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

পার্ক থেকে প্রেমিকার মরদেহ উদ্ধার, থানায় আত্মসমর্পণ ছাত্রলীগ নেতার

সারাদেশ ডেস্ক   |   সোমবার, ১৫ মে ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ২৫৫ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

পার্ক থেকে প্রেমিকার মরদেহ উদ্ধার, থানায় আত্মসমর্পণ ছাত্রলীগ নেতার

ঝালকাঠির গাবখান ইকো পার্কে প্রেমিকাকে বেড়াতে নিয়ে গিয়ে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি আলী ইমাম খান ওরফে অনুর বিরুদ্ধে। সোমবার সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর ছাত্রলীগ নেতা আলী ইমাম থানায় আত্মসমর্পণ করেন। তার তথ্যের ভিত্তিতে ইকোপার্ক এলাকা থেকে পুলিশ তার প্রেমিকা সায়মা পারভীন ওরফে তানহার (২০) লাশ উদ্ধার করে। এ সময় সায়মার ব্যাগে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি পাওয়া যায়।

নিহত সায়মা পারভীন ফকির বাড়ী সড়কের টিনের ব্যবসায়ী শাহাদাত তালুকদারের মেয়ে। তিনি ঝালকাঠি সরকারি মহিলা কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। আলী ইমামও একই এলাকার দলিল লেখক দিললার হোসেন ছেলে। তিনি জেলা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির সহসভাপতি।

ঝালকাঠির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মহিতুল ইসলাম বলেন, তরুণীর পেটে তিনটি ও বুকে একটি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, অনুকে গ্রেপ্তারের পর তার কাছে জানতে পারি মেয়েটি তার স্ত্রী। কিন্তু তারা বিয়ে করেছে তাদের পরিবারের কেউ বিষয়টি জানেনা। তারা উভয়ই পরকীয়া প্রেমের বিষয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে মেয়েটিকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করে অনু।

পুলিশ জানায়, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে অনু ইকোপার্কে আসে। এরপর ফোন করে প্রেমিকা সায়মাকে ইকোপার্কে আসতে বলে। পরে ১০ টার দিকে সায়মা ঘটনাস্থলে এলে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে অনু সায়মাকে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে থানায় এসে আত্মসমর্পণ করে। ঘটনাস্থলে মেয়েটির ভেনেটি ব্যাগের ভেতরে একটি ছুরি পাওয়া গেছে।

আলি ইমাম খান অনু বলেন, এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত নয়। ২০২১ সালের পূর্ব থেকেই আমাদের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো। ২০২১ সালের ২ সেপ্টেম্বর আমরা লুকিয়ে বিয়ে করি। তবে পারিবারিক সমর্থন না পাওয়ায় সায়মাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘরে আনতে পারিনি। কিন্তু দীর্ঘ দিন ধরে সায়মা গোপনে তার মামাতো ভাইয়ের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে যুক্ত হয়। এছাড়া গভীর রাতে অন্য ছেলেদের সাথে সে আপত্তিকর চ্যাটিংয়ে লিপ্ত হতো। এ ব্যাপারে গত দেড় বছর ধরে তাকে আমি অনেক বোঝানোর পরেও সে এ পথ থেকে ফিরে আসেনি। তাই আমি তাকে নিজ হাতে খুন করেছি।

নিহত তরুণীর বাবা শাহাদাত তালুকদার বলেন, ‘আমার মেয়েকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে আলী ইমাম। এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’

ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন সরকার বলেন, তরুণীর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে তরুণীর পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রক্রিয়া চলমান।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম