ডেস্ক রিপোর্ট | মঙ্গলবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২২ | প্রিন্ট | ১৪২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, মানবাধিকার, নির্বাচন বিষয়ে কূটনীতিকদের হস্তক্ষেপ অনধিকার চর্চা বলে মন্তব্য করেছেন সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের নেতারা।
তারা বলেন, জেনেভা কনভেনশন অনুযায়ী একজন কূটনীতিকের দায়িত্ব, কর্তব্য ও আচরণের বিষয়ে সুস্পষ্ট উল্লেখ আছে। তাদের অনধিকার চর্চা অবশ্যই নিন্দনীয়। তাদের ভিয়েনা কনভেনশনের আলোকে আচরণ করতে হবে।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে তারা এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবেদ আলী।
এতে বলা হয়, একটি বিশেষ মহলকে সহায়তার উদ্দেশ্যে কুটনীতিকরা আচরণবিধিপরিপন্থী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছেন। গত ৬ ডিসেম্বর ১৫টি দেশের কুটনীতিকদের যৌথ বিবৃতি, নিখোঁজ হওয়া ছাত্রদলের সাবেক এক নেতার বাসায় ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ডি হাসের উপস্থিতি, পল্টনে বিএনপি অফিসের সামনে সংঘর্ষের ঘটনায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বিবৃতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের কাছে উদ্বেগজনক ও পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে মোড়লদের হাতেই মানবাধিকার ভুলুণ্ঠিত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। তারাই বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনধিকার মন্তব্য করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে নস্যাৎ করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা ছিল ১৯৪৮ সালের মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। সুতরাং যুক্তরাষ্ট্র দেশটির রাষ্ট্রদূত যখন বাংলাদেশকে মানবাধিকার লঙ্গনের দায়ে অভিযুক্ত করেন, তখন সেটাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মনে হয়।
সভাপতির বক্তব্যে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া বলেন, কুটনীতিকদের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি, মানবাধিকার এবং নির্বাচন বিষয়ে হস্তক্ষেপ অনাকাঙ্খিত।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, কূটনীতিকরা শিষ্টাচার মেনে আন্তরিকভাবে তাদের দেশের প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে বাংলাদেশের সঙ্গে তাদের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরো সমৃদ্ধ ও সৌহার্দ্য হবে। বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থসিদ্ধির ভূমিকায় অবতীর্ণ না হতে কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় সুপ্রিমকোর্ট আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সিদ্দিকুর রহমান মিয়া, সাবেক ধর্ম ও পানিসম্পদ মন্ত্রী এম নাজিম উদ্দীন আল আজাদ, বুয়েটের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল জব্বার খান, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আহম্মদ আবুল কালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।