শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

মুনা কনভেনশনের অভিজ্ঞতাঃআফরোজা ইসলাম 

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   সোমবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ২৭১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

মুনা কনভেনশনের অভিজ্ঞতাঃআফরোজা ইসলাম 
মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা ,যার সংক্ষিপ্ত নাম মুনা ।মুনা একটি দ্বীনি তথা ইসলামী সংগঠন ।দ্বীনির পতাকাবাহী একটি আদর্শ সংগঠনের নামই হচ্ছে মুনা ।
আমেরিকাতে বহু সংগঠন আছে তা হলে মুনার প্রয়োজনীয়তা কেন ?কারণ এই সংগঠন শিক্ষা দেয় আল্লাহর নির্দেশ পালন করার ,সিরাতুল মুস্তাকিম যাতে পেতে পারি,আল্লাহ্ ভালোবাসা পাওয়ার যা অন্য সংগঠনগুলোতে পাওয়া যায় না ।যারা মুনার সাথে জড়িত আছেন তাদেরকে মুনার নানান দিক নিয়ে বলতে শুনেছি এবং কিছু কিছু কাজ আমারও চোখে পড়েছিল এবং ভালোও লেগেছিলো।
প্রতিবছর মুনার কনভেনশন হয় ।করোনার কারণে দুই  বছর হয়নি বা হতে পারেনি ।যখন জানতে পারলাম ২০২৩ তে মুসলিম উম্মাহ অফ নর্থ আমেরিকা (মুনা)র কনভেনশন হবে, তখন থেকেই ইচ্ছে জাগছিল যাওয়ার ও দেখার ।কর্তাকে বলতাম যাওয়ার  কথা ।কর্তা আমার আগ্রহ দেখে রাজি হয় এবং যাবতীয় নিয়মাবলী সম্পন্ন করেন ।যথারীতি ১৮-২০ অগাস্ট ফিলাডেলফিয়ার কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত  হয় ২০২৩ মুনার কনভেনশন।
১৮ই অগাস্ট ফিলাডেলফিয়ায় রওনা দিলাম কনভেনশনের উদ্দেশ্যে ।সানেসটা হোটেল রেডি ছিল ।হোটেলের নিয়মাবলী শেষ করে রুমে গিয়ে মনটা ভরে গেল ।এত পরিপাটিভাবে সাজানো গুছানো দেখে ভালো লেগেছিলো ।ব্যাগ ব্যাগেজ রেখে দৌড় কনভেনশন সেন্টারে।হে আল্লাহ্ এত বিশাল সেন্টার চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যেতো না ।তিন তলা বিশিষ্ট ভবন।দুই তলা থেকে তিন তলায় যেতে গেলে বিশাল লম্বা এক্সিলেটারের সাহায্যে যেতে হবে ।প্রথম তলায় খাবারের ,দ্বিতীয় তলায় সপিং এবং তিন তলায় বিশাল হলরুম।
রাত ১১টা বা ১২টায় ফিরে আসি হোটেলে।পরের দিন সকাল ১০ঃ৩০মিনিটে বেরিয়ে যায় কনভেনশন সেন্টারে।এত এক্টিভিটি বাচ্চা থেকে শুরু করে নানান বয়সের সবার জন্য ব্যবস্হা আছে ।মহিলারাও বাদ পড়েনি।কোন এক ভদ্রজনের মাধ্যমে জানতে পারলাম ওত নাম্বার রুমে বিবাহযোগ্য ছেলে – মেয়েদের বিবাহের ব্যবস্হা করা হয় ।আগ্রহ জাগ্রত হলো দেখার ।রুমে গিয়ে বসলাম ।ছেলে-মেয়েরা তাদের সিবি দিচ্ছে ,আর যারা এই দায়িত্বে আছেন তারা ম্যাচ করছেন ,কার সাথে কার ম্যাচ হয় ।যাদের ম্যাচ হচ্ছে তাদেরকে নিয়ে যাচ্ছন অন্য রুমে কথার আদান প্রদান করাবার জন্য।ইসলামের নিয়মে এত সুন্দর ভাবে হচ্ছিল কখন যে দুপুর ২ঃ৩০ বেজে গিয়েছিল টের পায়নি ।অবশ্য আমরা যারা সাংবাদিক  তাদের জন্য মুনা তিনবেলা খাবারের ব্যবস্হা  করেছিলেন ।যে রুমটাতে খাবারের ব্যবস্হা করেছিলেন খাবারের  সময়  মনে  হতো নিউইয়র্কে কোন এক প্রেসক্লাবের আড্ডা চলছে ।কিছুক্ষন বিশ্রামের জন্য হোটেলে ফিরে আসি।সতেরো তলায় রুমের জানালা দিয়ে সুইমিং পুলে বাচ্চাদের সুইমিং বেশ উপভোগ করছিলাম এবং লোভ সামলাতে না পেরে চলে গিয়েছিলাম আট তলায় সুইমিং পুলে ।সুইমিং করার বয়স পেরিয়ে গেছে ,তাই চেয়ে চেয়ে দেখা আর ছবি তোলা ছাড়া কিছু করার ছিল না ।
সন্ধ্যায় ছিল বক্তৃতা।বক্তা ছিলেন আমার ,আপনার এবং সবার প্রিয় ডঃ মিজানুর রহমান হাজারি।ইউটুবে তাঁর  বক্তৃতা অনেক শুনেছি ।নিজ চোখে দেখার ইচ্ছেটা  ছিল ।হল রুমের ভিড় দেখে জায়গা করে নিতে পারবো ভাবেনি।অবশেষে জায়গা পেয়েছিলাম এবং বক্তৃতা শুনেছি ।তাঁর বক্তৃতার মধ্যে শান্ত একটি ভাব ছিল যা মিজানুর রহমান হাজারিকে মানাচ্ছিল না ।অবশ্য পরেরদিন দুপুরেও ওনার বক্তৃতা ছিল ,সেটা কেমন হয়েছে বলতে পারছি না ।
আমরা নানা অনুষ্ঠানে যাই,যেমন বিয়ে,জন্ম উৎসব ,গানের,তারকাদের মিলনমেলা ইত্যাদি ইত্যাদি ।কিন্তু ইসলামিক অনুষ্ঠানেও যে এত আনন্দ উপভোগ করা যায় ,আমার জানা ছিল না ।২০ থেকে ২২ হাজার লোকের সমাগম ছিল এই সেন্টারে।তিন মাসের বাচ্চা থেকে শুরু করে আশি নব্বুই বছরের বয়সের ,সব দেশের মানুষের উপস্হিতি পেনসিলভানিয়ার কনভেনশন সেন্টারে আনন্দ যেন উপচে পড়ছিল।
Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম