শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

বাংলা বর্ষবরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে বিতর্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   রবিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ২৯৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

বাংলা বর্ষবরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে  বিতর্ক

পবিত্র রমযানের মধ্যে নিউইয়র্কে বাংলা বর্ষবরণ ও মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশ্বজিত সাহার নেতৃত্বাধীন এনআরবি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড আগামী ১৪ ও ১৫ এপ্রিল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। নিউইয়র্ক কাগজ অনলাইন পোর্টাল(nykagoj.com) এর ওপর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে শনিবার দুপুরে। এ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে প্রবাসী বেশ কযেকজন গন্যমান্য ব্যক্তি বিবৃতি দিয়েছেন। অনেকে সোশাল মিডিয়ায় মতামত পোষ্ট করেছেন। কেউ কেউ অনুষ্ঠান স্থগিত করে তা ঈদের পর করার জন্য আহবান জানিয়েছেন। পাঠকদের জন্য এমন কয়েকটি বিবৃতি ও মতামত তুলে ধরা হলো।
নাসির আলী খান পলঃ
কমিউনিটি একটিভিস্ট নাসির আলী খান এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমি প্রত্যেকের মতামতকে সন্মান করি। তার মানে এই নয় তার সাথে আমি একমত। বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের বিপক্ষে আমি নই। আমি বলছি তা পিছিয়ে নেয়া হোক। যাতে রোজার পর আমরা সবাই মিলে এ উৎসবে শরীক হতে পারি। বাংলাদেশি শতকরা ৯০ ভাগ মুসলমানের কাছ থেকে এটাই চাওয়া হচ্ছে। নিশ্চয়ই তা ১০ ভাগ মাইনোরিটি ও ধর্মে অবিশ্বাসী কিছু লোকদের কাছে বেশি চাওয়া নয়। দয়া করে আমাদের পোর্টেট করবেন না যে, আমরা বৈশাখী উৎসবে বিরোধী। বরং আমরা এই গ্রেট শো মিস করতে চাই না। কোন ব্যক্তির অধিকার নেই তা থেকে আমাদের বঞ্চিত করা। আমরাই দুনিয়াতে নন কমিউনাল। ধর্ম নিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতা নিয়ে কোন ব্যক্তির জ্ঞান দেবারও প্রয়োজন নেই। আমি সংগঠক ও আমন্ত্রিত অতিথি বিশেষ করে ড. নুরুন নবী, রেজোয়ানা চৌধুরী বন্যা,লায়লা হাসান, বিশ্বজিত দাদা ও মহিতোষ তালুকদার তাপসকে অনুরোধ করছি বর্ষবরণ অনুষ্ঠানটি মুসলিম কমিউনিটির কথা বিবেচনায় রেখে ১ সপ্তাহ পিছিয়ে দেয়া হোক।

এটর্নি মইন চৌধুরীঃ
এটর্নি মইন চৌধুরী বৈশাখী উৎসব প্রশ্নে বলেছেন, পবিত্র রমযানের কারনে এবারের বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্টানে যোগ দিতে পারবো না।

ইমরান আনসারিঃ
রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় নিউ ইয়র্কে বর্ষবরণ অনুষ্ঠান স্থগিতের আহ্বান জানাচ্ছি। যেখানে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বানী দিচ্ছেন। সিটি মেয়র ব্যুরোতে ঘুরে ঘুরে ইফতার পার্টিতে অংশ নিচ্ছেন, নিজের বাসভবনে ইফতার আয়োজন করছেন, টাইম স্কয়ারের মত যায়গায় উন্মুক্ত স্থানে তারাবী পড়ার নিরাপত্তা দিচ্ছেন।নিউ ইয়র্কের প্রায় চারশ মসজিদকে বিশেষ নিরাপত্তার আওতায় এনেছেন। সে যায়গায় আপনি বাংলাদেশি মুসলমান হয়ে শত কণ্ঠের অনুষ্ঠান করে কিসের বার্তা দিতে চাইছেন। যেখানে ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহার দিনে স্কুল ছুটির ব্যবস্থা করতে মুসলমানদের দশ বছর সংগ্রাম করতে হয়েছে। সেই সংগ্রাম ধুলোয় মিশিয়ে দিয়ে বাংলাদেশিদের বেশিরভাগ জনগোষ্ঠীর গালে চপেটাঘাত, অন্তত বাংলাদেশি মুসলমানের কাজ হতে পারে না। অনুষ্ঠান সূচী অনুসারে ইফতার ও তারাবীহ চলাকালীন নাচ , গান চলবে। এটি মুসলমানদের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা। আপনার স্বাধীনতা আছে বলেই যা ইচ্ছে তা করতে পারেন না। কমিউনিটির দু’একজন এ নিয়ে কথা বলেছেন, অনেকে তাঁদের উপর হামলে পড়েছেন। এটি ভাল লক্ষণ নয়। আমি হলফ করে বলতে পারি যারা মঞ্চে এসে বাঙলা সংস্কৃতিকে ছড়িয়ে দেবার বুলি আওরান তাদের ছেলে মেয়েরা ভাল করে বাংলা বলতে পারেন না। বর্ষবরণের অনুষ্ঠান রমজানের পরে করলে আপনাদের খুব বেশি ক্ষতি হবে বলে মনে করি না। কারণ যারা এটির আয়োজন করছেন তারা এবারই প্রথম শতকণ্ঠে বর্ষবরণের আয়োজন করছেন। এর কোনো ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এখানে নেই যে ১লা বৈশাখেই এটি করতেই হবে। বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রত্যেক সদস্যকে এ বিষয়ে সোচ্চার হবার উদাত্ত আহবান জানাচ্ছি।

দীনেশ চন্দ্র মজুমদারঃ
বাঙ্গালীর আত্মপরিচয় পহেলা বৈশাখকে যারা ব্যক্তিগত ধর্ম বিশ্বাসের সাথে সাংঘর্ষিক করে তুলে তাদের প্রতি করুণা হয় । ধর্ম বিশ্বাস পরিবর্তনযোগ্য , বিশ্বাস পরিবর্তন হতে পারে , জাতিগত পরিচয় পরিবর্তনযোগ্য নয় , জাতির শেকড় ।

রওশন হকঃ

রোজার পরে হলে সবাই আনন্দ করতে পারতো।

রোমিও রহমানঃ

নিউইর্য়কের জ্যাকসন হাইটস এলাকায় যারা আমাদের এই পবিত্র রোজার মাসে বৈশাখীর আয়োজন করছে এবং যে সব প্রতিষ্ঠান sponsor করছে আগামী দিনে তাদের থেকে দুরে থাকার জন্য সকল প্রবাসী ভাই বোনদের অনুরোধ করছি. Jackson height Bangladesh club এর পক্ষ থেকে সবাইকে ধন্যবাদ।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম