শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

আশাবাদীতায় গুঁড়েবালিঃমোদিতে বাংলাদেশ নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শুক্রবার, ২৩ জুন ২০২৩   |   প্রিন্ট   |   ৭৩৮ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

আশাবাদীতায় গুঁড়েবালিঃমোদিতে বাংলাদেশ নেই

 

 

আশাবাদীতায় গুঁড়েবালি। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শীতল সর্ম্পকের বরফ গলাতে ভারতের কাছে আবদার ছিল জোড়ালো। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে দিল্লীকে অনুরোধ করার কথা স্বীকারও করা হয়েছে। দক্ষিন এশিয়ার বিষয়টি আলোচনায় এলে বাংলাদেশ প্রসঙ্গটি মোদি তুলতে পারেন। কূটনীতির ভাষাতেও আসতে পারতো বাংলাদেশ। কিন্তু আনুষ্ঠানিক কিংবা সাইডলাইনে কোনভাবেই বাংলাদেশ প্রসংগ স্থান পায়নি। বরং বাইডেনের সাথে আলোচনায় মোদি বারবার গনতন্ত্র ও মানবাধিকারের পক্ষে কথা বলেছেন। প্রমান করার চেষ্টা করেছেন তার দেশ ও সরকার গনতন্ত্র এবং মানবাধিকারের অতন্ত্র প্রহরী। ভারতের মানবাধিকার প্রশ্নে এমনিতেই মোদি চাপের মধ্যে ছিলেন। কংগ্রেসের  ৭৫ জন নেতা ভারতের মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা প্রেসিডেন্ট বাইডেনকে আলোচনায় বিষয়টি তোলার আহবান জানিয়েছিলেন। কংগ্রেসের জয়েন্ট সেশনে এই ইস্যুতে ডেমোক্র্যাট দলীয় বাম ঘেষা হিসেবে পরিচিত কয়েক জন সদস্য তার বক্তব্য চলাকালীন সময়ে অধিবেশন বয়কট করেন।

 

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ব্যস্ত ছিলেন নিজের দেশ নিয়েই। কোটি কোটি ডলারের বিনিয়োগ বাগিয়ে নিয়েছেন তার এই সফরে। নিজ দেশের অর্থনৈতিক নিশানাই ছিল তার এ সফরের মূল উদ্দেশ্য। ২ নেতার আলোচনায় আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের কথা থাকলেও বাংলাদেশ ছিল অধরায়।

সম্প্রতি ভারতের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, আমেরিকার চাপ মোকাবেলা এবং ওয়াশিংটনের সাথে সম্পর্ক সহজ করার জন্য বাংলাদেশ ভারতের সহায়তা চেয়েছে।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্র সফরে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে ধরার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে পত্রপত্রিকায় খবর প্রকাশিত হয়।

 

ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের আধিপত্যকে খর্ব করতে নিজেদের সম্পর্ককে চূড়ান্তভাবে ঝালাই করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত। ভারতীয়

বাইডেনের সাথে ৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মোদি বলেন, ভারতে বিদ্বেষের কোনো জায়গা নেই। গনতন্ত্র আমাদের ডিএনএ’তেই রয়েছে। জো বাইডেনের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। সেখানে মোদি বলেন, মানবিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকার না থাকলে গণতন্ত্র থাকে না। সকলের সমর্থন, সকলের বিশ্বাস এবং সকলের প্রচেষ্টায় ভারত চলে।  সংখ্যালঘুদের নৈতিক অধিকারের প্রশ্নে মোদি বলেন, মানুষ যখন এই কথা বলে আমি সত্যিই অবাক হই। ভারত একটি প্রকৃত গণতন্ত্র। গণতন্ত্র আমাদের ডিএনএ’তে রয়েছে, আমাদের শিরায় রয়েছে।

আমরা গণতন্ত্রে বাস করি। ভারতে সরকার চলে সংবিধানের ভিত্তিতে । এখানে বৈষম্যের কোনো স্থান নেই। আপনি যখন গণতন্ত্র বলেন এবং গণতন্ত্রকে মেনে নেন, তখন বৈষম্যের কোনো স্থান নেই। ভারত সবাইকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে বিশ্বাস করে। ভারতের গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে বৈষম্যের কোনো স্থান নেই। জাতি, গোষ্ঠী, ধর্ম বা লিঙ্গের ভিত্তিতে কোনও বৈষম্য নেই।

 

আমেরিকার আইনসভার ৭৫ জন সদস্য (১৮ জন সেনেটর এবং ৫৭ জন হাউস অব রিপ্রেজ়েন্টেটিভসের সদস্য) চিঠি দিয়ে দাবি করেছিলেন, বাইডেন যেন মোদীর কাছে ভারতে মানবাধিকারের উদ্বেগজনক অবস্থা নিয়ে সরব হন। বাইডেনের উদ্দেশে লেখা ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘‘ভারত-আমেরিকার মজবুত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক দীর্ঘ দিনের। আমরা মনে করি, বন্ধুরাই পারে তাঁদের মতপার্থক্যের বিষয়গুলি নিয়ে সৎ এবং দ্বিধাহীন ভাবে আলোচনা করতে। তাই অন্য দ্বিপাক্ষিক বিষয়গুলির পাশাপাশি, মানবাধিকারের বিষয়টিও আপনি মোদীর সঙ্গে বৈঠকে উত্থাপন করুন।’’

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম