ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
প্রাচীনকাল থেকেই রান্নার মসলা ও ভেষজ উপাদান হিসেবে হলুদের ব্যবহার হয়ে আসছে। হলুদে থাকা কারকিউমিনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের জন্য নানা উপকার বয়ে আনতে পারে। এ কারণে অনেকেই সকালে খালি পেটে এক টুকরো কাঁচা হলুদ চিবিয়ে খাওয়ার অভ্যাস করেছেন।
তবে কাঁচা হলুদ খাওয়ার ক্ষেত্রে যেমন কিছু সম্ভাব্য উপকার রয়েছে, তেমনি কিছু সতর্কতাও মেনে চলা জরুরি।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতায় সহায়ক
কাঁচা হলুদে থাকা কারকিউমিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় রাখতে সহায়তা করতে পারে। পরিমিত পরিমাণে নিয়মিত গ্রহণ করলে মৌসুমি সর্দি-কাশি ও কিছু সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
হজমে সহায়তা করে
কাঁচা হলুদ হজমপ্রক্রিয়া সচল রাখতে সহায়ক হতে পারে। পাশাপাশি পেট ফাঁপা, গ্যাস ও বদহজমের মতো কিছু সমস্যা কমাতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রদাহ ও জয়েন্টের অস্বস্তি কমাতে সহায়ক
হলুদে থাকা প্রাকৃতিক উপাদানের প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য রয়েছে। ফলে শরীরের প্রদাহ এবং জয়েন্টের ব্যথা বা ফোলাভাব কমাতে এটি কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
ত্বকের সতেজতায় ভূমিকা রাখতে পারে
হলুদে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরকে অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়তে সহায়তা করতে পারে। এর ফলে ত্বক সতেজ ও উজ্জ্বল রাখতে পরোক্ষভাবে ভূমিকা রাখতে পারে।
লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়ক
লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রম ও শরীরের বিপাকক্রিয়া ঠিক রাখতে হলুদের উপাদান কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে লিভারের রোগের চিকিৎসা হিসেবে হলুদকে বিবেচনা করা উচিত নয়।
রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখতে পারে
কিছু গবেষণায় হলুদের উপাদান রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে ডায়াবেটিসের ওষুধ সেবনকারীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে হলুদ খাওয়া ঠিক নয়।
যাদের সতর্ক থাকা জরুরি
পিত্তথলির সমস্যা, কিডনিতে পাথর কিংবা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবনের ইতিহাস থাকলে নিয়মিত কাঁচা হলুদ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অতিরিক্ত হলুদ খেলে পেটের অস্বস্তিসহ বিভিন্ন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
তাই উপকারের আশায় অতিরিক্ত কাঁচা হলুদ খাওয়ার পরিবর্তে পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করাই ভালো। কোনো রোগ বা নিয়মিত ওষুধ সেবনের ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সূত্র: আনন্দবাজার