নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো সিনেট নির্বাচনে মুসলিম ও ডেমোক্র্যাট দলীয় প্রার্থী আব্দুল এল সায়েদ ইতিহাস গড়লেন। দুনিয়াব্যাপী মুসলিম সম্প্রদায়ের আবেগের প্রার্থী সায়েদই শেষ হাসিটা হাসলেন। বিজয় ভাষনে তিনি বলেন, ইনশাল্লাহ বলে নির্বাচনী প্রচার শুরু করেছিলাম। বিজয়ের পর আলহামদুল্লিাহ বলে শেষ করলাম। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটের মিশিগান আসন থেকে তিনি নির্বাচন করেন। ধর্মীয়ভাবে শুধুমাত্র মুসলমান হবার কারনে নানা ধরনের প্রতিবন্ধ¦কতা ও ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি হন তিনি। তিনি প্রকাশ্যে প্যালেস্টাইন তথা গাজায় ইসরাইলী আগ্রাসন ও গণহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ইসরাইলকে সাহায্য প্রদান বন্ধ করা। সে অর্থ আমেরিকানদের জন্য খরচ করলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে।
সিনেট পদপ্রার্থী আব্দুল এল সায়েদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির প্রার্থী মাইক রজার্স। এসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) আল সায়েদকে প্রোজেকটেড বিজয়ী ঘোষণা করেছে। শতকরা ৮৯ ভাগ ভোট গনণায় এল সায়েদ পেয়েছেন শতকরা ৫২ ভাগ ভোট। মাইক রজার্স পেয়েছেন ৪৬ ভাগ ভোঠ। ২ লাখ ৫২ হাজার ভোটে আব্দুল সায়েদ এগিয়ে আছেন। গত আগষ্টে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রাইমারিতে নিজ দলের হ্যালি স্টিভেন্সকে ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে দলীয় মনোনয়ন পান সায়েদ। ইসরাইলের সর্মথক হবার কারনে ৩০ মিলিয়ন ডলার খরচ করা হয় স্টিভেন্সকে জেতাতে। কিন্তু জনতার রায়ে সায়েইদই জয়ী হয়ে ডেমোক্র্যাটিক দলের মনোনয়ন পান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাধারন নির্বাচনে রিপাবলিক্যান পার্টির প্রার্থী মাইক রজার্সের সর্মথনে জনসভা করেন একাধিকবার। তিনি এল সায়েদকে জেহাদিস্ট ও মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য হিসেবে আখ্যায়িত করেন। মাইক রজার্সও ইসরাইলের কট্রর সর্মথক। রিপাবলিক্যানরা এল সায়েদকে ইসরাইল বিরোধী তকমা দিয়ে নির্বাচনী মাঠে ঘায়েল করার চেষ্টা করে। সর্বশেষ নির্বাচনের ২ দিন আগে ডেমোক্র্যাট দলীয় কংগ্রেসওম্যান দলীয় প্রার্থীর বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে মাইাক রজার্সকে সর্মথন দেন। প্রাইমারি নির্বাচনে এল সায়েদের কাছে হেরে গিয়ে বিপক্ষ প্রার্থীকে সর্মথন দিয়ে হারার প্রতিশোধ নেন তিনি। সাধারণত প্রাইমারিতে পরাজিত প্রার্থীরা নিজ দলের মনোনীত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়ে থাকেন। তবে স্টিভেনসের সিদ্ধান্তে সেই রীতির ব্যতিক্রম ঘটেছে। তার এই রাজনৈতিক ডিগবাজিতে গোটা ডেমোক্র্যাটিক পার্টি কেঁপে ওঠে। সাথে সাথে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি তাকে বহিস্কার করে। সিনেটে বিরোধীদলীয় নেতা চ্যাক শুমার তাকে বিশ্বাসঘাতক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। অথচ আগষ্টের প্রাইমারি নির্বাচনে হ্যালি স্টিভেন্সকেই চ্যাক শুমার সর্মথন দিয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে কোটি আমেরিকানের চোখ ছিল মিশিগানের দিকে। জুইস ডোনারদের অর্থের কাছে সায়েদ হারবেন এমন আশংকা করছিলেন আমেরিকানরা। কিন্তু জনতার রায়ে এল সায়েদই হয়ে উঠলেন আমেরিকার গনতন্ত্রের উজ্জ্বল নক্ষত্র। আব্দুল এল—সায়েদের বাবা—মা মিসরের অভিবাসী। তার জন্ম ও বেড়ে ওঠা মিশিগানের রচেস্টার হিলে। এল সায়েদ পেশায় একজন ডাক্তার। এর আগে তিনি ওয়েন কাউন্টির স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
মিশিগানের ভোটের সমীকরণ
মিশিগানের ভোটারদের মধ্যে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। অঙ্গরাজ্যটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ইহুদি, মুসলিম ও কৃষ্ণাঙ্গ ভোটার আছেন। ফলে এখানকার নির্বাচনী সমীকরণ বেশ জটিল। নির্বাচনের আগে ইসরায়েলকে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা এবং ইহুদি বিদ্বেষের অভিযোগের মতো বিষয়গুলো ভোটের লড়াইয়ে গুরুত্ব পেয়েছিল। কিন্তু জনতার রায়ে শেষ হাসি সায়েদই হাসলেন।
সায়েদের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের অবস্থান
আব্দুল এল সায়েদের বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই এল সায়েদকে ‘জিহাদি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এ ছাড়া রিপাবলিকানরা তার বিরুদ্ধে বিজ্ঞাপন প্রচারে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করেছে। অন্যদিকে এল—সায়েদের পক্ষে সরাসরি নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট প্রার্থী কমলা হ্যারিস ও সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
প্রবাসী কবি রুপুর প্রতিক্রিয়া
মিশিগানে বাস করেন বাংলাদেশি কবি ও সাংবাদিক ইশতিয়াক রুপু। তিনি আগামীর সময়কে বলেন, সায়েদ সারা দুনিয়ার মুখ হয়ে উঠেছেন। ভোট দিতে গিয়ে দেখেছি তরুণ সম্প্রদায়ের উপস্থিতি অবাক করার মতো। তারা সাধারনত ভোট দিতে আসেন না। মিশিগানে যুবকরা বিপ্লব ঘটিয়েছে। সায়েদকে সর্মথন করার পাশাপশি মিশিগানবাসী ট্রাম্পের প্রতি অনাস্থা প্রকাশ করেছে। অনেক রিপাবলিক্যানও সায়েদকে ভোট দিয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিদের শতভাগই ভোট দিয়েছেন তাকে। তিনি বাংলাদেশিদের প্রার্থী হিসেবে আর্বিভূত হয়েছিলেন।