নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ১২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মাটির নিচের গ্যাসে সচল দেশের শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অর্থনীতির চাকা। অথচ গ্যাসসম্পদে সমৃদ্ধ এ জেলার সাধারণ মানুষই গ্যাস সুবিধা থেকে বঞ্চিত। দীর্ঘদিনের এ বঞ্চনা দূর করতে জেলার ৯টি উপজেলায় গ্যাস সরবরাহ সম্প্রসারণ, নতুন কূপ খনন ও গ্যাস অনুসন্ধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রয়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ তিতাস গ্যাসক্ষেত্র। কসবা উপজেলায় রয়েছে সালদা নদী গ্যাসক্ষেত্র। এ ছাড়া মেঘনা গ্যাস কূপ এবং বাঞ্ছারামপুর ও নবীনগর উপজেলার বাঙ্গরা হাজিপুরেও রয়েছে গ্যাস কূপ।
পেট্রোবাংলার ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তথ্য অনুযায়ী, শুধু তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকেই দেশের মোট গ্যাস উৎপাদনের প্রায় ১৮ দশমিক ৬ শতাংশ সরবরাহ করা হয়েছে। জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতিতে জেলার এই অবদান গুরুত্বপূর্ণ হলেও স্থানীয় মানুষের গ্যাস সুবিধা না পাওয়াকে বৈষম্য হিসেবে দেখছেন অনেকে।
২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনসংখ্যা ৩৩ লাখের বেশি। জেলায় রয়েছে ৯টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা ও ১০১টি ইউনিয়ন। এত বিপুল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জ্বালানি সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তাদের প্রশ্ন, যে জেলার প্রাকৃতিক সম্পদ জাতীয় অর্থনীতিতে এত বড় অবদান রাখছে, সেই জেলার মানুষের জন্য পরিকল্পিত গ্যাস সুবিধা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে না কেন?
দেশে গ্যাসের চাহিদা ও দেশীয় উৎপাদনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধান রয়েছে। এ ঘাটতি পূরণে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়ে গ্যাস আমদানি করতে হচ্ছে। এ অবস্থায় দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি সম্পদসমৃদ্ধ এলাকার উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার দাবি উঠেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—গ্যাস সুবিধাবঞ্চিত এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সরকারি জরিপ পরিচালনা, জেলার ৯টি উপজেলায় পর্যায়ক্রমে গ্যাস সরবরাহ সম্প্রসারণে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ এবং তিতাস ও সালদা গ্যাসক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খনন ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।
এ ছাড়া তারাপুর ও কাশিরামপুরসহ সম্ভাবনাময় এলাকায় ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও নতুন গ্যাস অনুসন্ধান, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জ্বালানি সুবিধাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
স্থানীয়দের মতে, এ দাবি অন্য কোনো জেলার মানুষের অধিকারের বিরুদ্ধে নয়; বরং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ন্যায্য উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর দাবি। জাতীয় সম্পদের ওপর একচ্ছত্র মালিকানা নয়, সম্পদের সুষম ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সম্পদসমৃদ্ধ এলাকার মানুষও যেন উন্নয়নের সুফল পায়, সেটিই তাদের প্রত্যাশা।
এ দাবিতে দল-মত নির্বিশেষে জেলার সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। গুজব, অপপ্রচার ও ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিহার করে তথ্য, যুক্তি ও গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে দাবি আদায়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে আধুনিক, শিল্পসমৃদ্ধ ও কর্মসংস্থানমুখী মডেল জেলা হিসেবে গড়ে তোলাই এ উদ্যোগের লক্ষ্য। স্থানীয়দের জোরালো দাবি, তিতাস ও সালদা গ্যাসক্ষেত্রের উন্নয়ন, নতুন গ্যাস অনুসন্ধান এবং জেলার মানুষের জন্য গ্যাস সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকারকে সময়বদ্ধ ও কার্যকর মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।