শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

১২ ডিসেম্বর ইউপি নির্বাচনের তফসিল, প্রথম ভোট ২১ জানুয়ারি

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৯ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

১২ ডিসেম্বর ইউপি নির্বাচনের তফসিল, প্রথম ভোট ২১ জানুয়ারি

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের প্রস্তুতি চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ১২ ডিসেম্বর প্রথম ধাপের নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করা হবে। আর ভোটগ্রহণ শুরু হবে ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি। পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠেয় এ নির্বাচন শেষ হবে ২৭ মে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, ইউপি নির্বাচনের জন্য কমিশন পুরোপুরি প্রস্তুত। এমনকি নভেম্বর মাসে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতিও ছিল। ভোটগ্রহণের ৪০ দিন আগে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী তফসিল ঘোষণা করবেন। সে অনুযায়ী প্রথম ধাপের তফসিল ১২ ডিসেম্বর ঘোষণা হওয়ার কথা।

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, বিজিবি ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। তবে প্রথম ধাপে সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা নেই। সহিংসতা বেশি হলে পরবর্তী ধাপের নির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করা হতে পারে।

পাঁচ ধাপে ভোট, শেষ ২৭ মে

ইসির ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২১ জানুয়ারি প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে ইউপি নির্বাচন। দ্বিতীয় ধাপের ভোট ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপ ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপ ১৩ মে এবং পঞ্চম ধাপের ভোট হবে ২৭ মে।

গত ১৩ অক্টোবর ইসির ১৩তম কমিশন সভা শেষে এ সময়সূচি ঘোষণা করেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি জানান, দেশে আনুমানিক ৪ হাজার ৩০০টি ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ পূর্ণ হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ২৭ মের মধ্যে এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করা হবে।

ইউপিতে ৪৬ হাজার ৩৯৭ ভোটকেন্দ্র

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের তালিকা চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে ইউপি নির্বাচনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৬ হাজার ৩৯৭টি ভোটকেন্দ্র। এসব কেন্দ্রের মধ্যে স্থায়ী ৪৫ হাজার ৯৭২টি এবং অস্থায়ী ৪২৫টি।

কেন্দ্রগুলোতে মোট ভোটকক্ষ থাকবে ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৩৯টি। এ ছাড়া উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্য ৪১ হাজার ৪৬৬টি, পৌরসভা নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার ২০২টি এবং সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ৫ হাজার ১৫১টি ভোটকেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে ইসি।

জেলা পরিষদ নির্বাচন সরাসরি ভোটে অনুষ্ঠিত না হওয়ায় এ নির্বাচনের জন্য আলাদা ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ করা হয়নি।

ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখের বেশি

নির্বাচন কমিশনের হালনাগাদ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা অনুযায়ী, দেশে মোট ভোটার ১২ কোটি ৮৭ লাখ ৭৭ হাজার ৬৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ৬৬৫ জন, নারী ৬ কোটি ৩২ লাখ ৬৫ হাজার ৭১১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৬৭ জন।

প্রচারে কঠোর বিধিনিষেধ, লঙ্ঘনে বাতিল হতে পারে প্রার্থিতা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা নিয়ন্ত্রণে নতুন আচরণবিধি জারি করেছে নির্বাচন কমিশন। ২০১৬ সালের আচরণবিধি বাতিল করে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদসহ সব স্তরের নির্বাচনের জন্য এ বিধিমালা করা হয়েছে।

নতুন আচরণবিধিতে মাইক ব্যবহারের সময় ও শব্দসীমা নির্ধারণ, পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা এবং বিলবোর্ড ব্যবহারে সীমা আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

ধর্মীয় ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রচার, ভোটারদের প্রভাবিত করতে বলপ্রয়োগ ও অর্থ ব্যয়, প্রচারে ‘অতি গুরুত্বপূর্ণ’ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণ এবং নাগরিকের সম্পত্তির ক্ষতিসাধন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রচারসামগ্রী সাদা-কালো রাখার নির্দেশনাও রয়েছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে জরিমানার পাশাপাশি প্রয়োজনে প্রার্থিতা বাতিলের বিধান রাখা হয়েছে। নির্বাচনী সামগ্রী কেনাকাটাসহ অন্যান্য প্রস্তুতিও এগিয়ে নিচ্ছে কমিশন।

দলীয় প্রতীক ছাড়াই ভোট, সহিংসতা ঠেকানো বড় চ্যালেঞ্জ

দীর্ঘ ১০ বছর পর দলীয় প্রতীক ছাড়া অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। ফলে একটি রাজনৈতিক দল থেকে একাধিক প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন। তবে দলগুলো যেকোনো একজন প্রার্থীকে সমর্থন দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে দলীয় সমর্থন পাওয়া প্রার্থীকে নিজ দলের অন্য প্রার্থীসহ বিরোধী দলের প্রার্থীদের মোকাবিলা করতে হবে।

এ পরিস্থিতিতে নির্বাচনে পেশিশক্তির ব্যবহার ও সহিংসতার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। সহিংসতা নিয়ন্ত্রণকে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছে নির্বাচন কমিশন।

এ কারণে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রশাসন, নির্বাচন বিশেষজ্ঞ, সাবেক নির্বাচন কমিশনার, কর্মকর্তা ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংলাপের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসি। এর অংশ হিসেবে আগামী ডিসেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপে বসবে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অনেক মানুষ মারা যান এবং সহিংসতার ঘটনা ঘটে। এবার যাতে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় এবং রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা কোনো ধরনের হাঙ্গামায় না জড়ান, সে বিষয়ে আগামী মাসে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে সবার সহযোগিতা চাওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কমিশনের বৈঠক হচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের বৈঠক অব্যাহত থাকবে।

নির্বাচনের অপেক্ষায় ৫ হাজার ৪৯৭ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে মোট স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান রয়েছে ৫ হাজার ৪৯৭টি। এর মধ্যে ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩১টি পৌরসভা, ৬৪টি জেলা পরিষদ, ৫০৩টি উপজেলা পরিষদ এবং ৪ হাজার ৫৮৬টি ইউনিয়ন পরিষদ। এসব প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশই বর্তমানে নির্বাচন উপযোগী হয়ে রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং পৃথক প্রজ্ঞাপনে সব কাউন্সিলরকে অপসারণ করে অন্তর্বর্তী সরকার। পরে ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৫টি উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদেরও অপসারণ করা হয়। এ ছাড়া ৪ হাজার ৫৮১টি ইউনিয়ন পরিষদ জনপ্রতিনিধিশূন্য হয়ে পড়ে।

ফলে দুই বছরের বেশি সময় ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ছাড়াই চলছে দেশের অধিকাংশ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম