ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
সংগৃহীত ছবি
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে চমক দেখিয়েছেন মুসলিম ও আরব-আমেরিকান প্রার্থীরা। নির্বাচনী প্রচারণায় ইসলামবিদ্বেষী বক্তব্য ও বিরোধিতার মুখেও অন্তত সাতজন মুসলিম প্রার্থী কংগ্রেসে জয় পেয়েছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভাতেও নির্বাচিত হয়েছেন একাধিক মুসলিম ও আরব-আমেরিকান প্রার্থী।
এ নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ইতিহাস গড়েছেন মিশরীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাঈদ। মিশিগানের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে হারিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর নির্বাচিত হয়েছেন ৪২ বছর বয়সী চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ আল-সাঈদ।
নির্বাচনী প্রচারণায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার সংস্কার, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো এবং রাজনীতিতে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের প্রভাব হ্রাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি। একই সঙ্গে ইসরায়েল ও মিশরে ওয়াশিংটনের সামরিক সহায়তার কঠোর সমালোচনা করেন। মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ আরব’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কংগ্রেসে বিজয়ী সাত মুসলিম প্রার্থীর মধ্যে একজন সিনেটে এবং ছয়জন প্রতিনিধি পরিষদে (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) নির্বাচিত হয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভাতেও জয় পেয়েছেন বেশ কয়েকজন মুসলিম ও আরব-আমেরিকান প্রার্থী।
নিউ জার্সির ১২তম কংগ্রেশনাল ডিস্ট্রিক্টে রিপাবলিকান প্রার্থী গ্রেগ মেলেকে পরাজিত করেছেন মিশরীয় বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ডা. অ্যাডাম হামাওয়ি। রাজ্যটি থেকে প্রথম মুসলিম কংগ্রেস সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর সাবেক এই শল্যচিকিৎসক। গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আহত ফিলিস্তিনি শিশুদের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে চিকিৎসা দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও পরিচিতি পান তিনি।
প্রতিনিধি পরিষদে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট রাশিদা তলাইব ও সোমালি বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট ইলহান ওমর। রাশিদা মিশিগানের ১২তম আসন থেকে এবং ইলহান মিনেসোটার ৫ম আসন থেকে টানা পঞ্চমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ওয়াশিংটনের সমর্থনের সমালোচনায় দীর্ঘদিন ধরেই সরব তাঁরা।
নিউইয়র্কের ১৩তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে জয় পেয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ের। এর মধ্য দিয়ে কংগ্রেসে প্রথম লাতিনা মুসলিম নারী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার ইতিহাস গড়েছেন তিনি। এ ছাড়া ইন্ডিয়ানার ৭ম আসন থেকে আন্দ্রে কারসন এবং ক্যালিফোর্নিয়ার ১২তম আসন থেকে লতিফা সাইমন নিজেদের আসন ধরে রেখেছেন।
কংগ্রেসের বাইরেও অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনসভায় মুসলিম ও আরব-আমেরিকান প্রার্থীদের সাফল্য দেখা গেছে। নিউইয়র্কের ১২তম স্টেট সিনেট ডিস্ট্রিক্ট থেকে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত সংগঠক আবের কাওয়াস এবং মিশিগানের ২য় স্টেট সিনেট আসন থেকে লেবানিজ বংশোদ্ভূত ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আব্বাস আলাউই নির্বাচিত হয়েছেন।
ইলিনয়ের ২৬তম স্টেট সিনেট আসনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডার্বি হিলসকে হারিয়ে আসনটি ডেমোক্র্যাটদের দখলে এনেছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত মুসলিম তরুণী নাবিলা সৈয়দ।
এ ছাড়া কলোরাডোতে ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত ইমান জোদেহ এবং জর্জিয়ায় রুয়া রোমান নিজ নিজ আসন ধরে রেখেছেন। টেক্সাসে টানা দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত দুই আইনপ্রণেতা সালমান ভোজানি ও সুলেমান লালানি।
অন্যদিকে, ইলিনয় থেকে নির্বাচিত আরব-আমেরিকান রিপাবলিকান প্রার্থী ড্যারিন লাহুডও মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন।