নিজস্ব প্রতিবেদক | বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার সেই মুসলিম ইলহান ওমর ৫ম বারের মতো কংগ্রেসে জিতলেন। একের পর এক ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত জালিয়াতির অভিযোগ এনেছেন তার বিরুদ্ধে। ভাইকে বিবাহ করে ইমিগ্রেশন কেলেংকারিতে জড়ানো তদন্ত চলছে । সিটিং কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের বাসায় গিয়ে এফবিআই বস্তা বস্তা কাগজপত্র ও কম্পিউটার সিজ করেছে। তাও ঘটেছে তার নির্বাচনী প্রচারনা চলাকালীন সময়েই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পারলে তাকে জোর করেই ডিপোর্ট করে আমেরিকা থেকে। তাকে পরাজিত করতে জুইস লবিস্টরা মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে। এরপরও মিনেসোটার ডিস্ট্রিক্ট—৫ থেকে সহজেই ৫ম মেয়াদে জয়ী হলেন ইলহান ওমর।
অভিবাসন সংক্রান্ত মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন এবং আর্থিক তথ্যের প্রকাশ সংক্রান্ত বিষয় সহ নানা হয়রানীমূলক মামলা চলমান থাকার পরও মঙ্গলবার রাতে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ইলহান ওমর সহজেই পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। ২০১৮ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকে ইলহান ওমর মিনেসোটার ৫ম কংগ্রেসনাল ডিস্ট্রিক্টের প্রতিনিধিত্ব করছেন। উল্লেখ্য, তিনিই কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম দুই মুসলিম নারীর একজন। গত ৮ বছর ধরে ওয়াশিংটনে গাজা ও প্যালেস্টাইনে গনহত্যার বিরুদ্ধে তিনি সোচ্চার। একাধিকবার ক্যাপিটল হিলে গাজায় ইসরাইলী গনহত্যার বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হয়েছেন।
সোমালিয়ায় জন্মগ্রহণকারী এই কংগ্রেস সদস্য নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও রিপাবলিকান প্রার্থী ও ৩০ বছরের অভিজ্ঞ স্টেট ট্রুপার জন নাগেলকে পরাজিত করেছেন। শতকরা ৭৭ ভাগ ভোট পেয়ে তিনি ৫ম বারের মতো নির্বাচিত হলেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বি রিপাবলিক্যান জন নাগেল পেয়েছেন মাত্র ১৬ ভাগ ভোট। গেল সপ্তাহে ‘দ্য নেশন’ পত্রিকাকে ওমর বলেন, “আমার প্রতি ট্রাম্পের এক অস্বাস্থ্যকর ও বিকৃত আচ্ছন্নতা রয়েছে। ট্রাম্প এবং বর্তমান রিপাবলিকান পার্টি যা কিছু অপছন্দ করে, আমি তার সবকিছুর প্রতিনিধিত্ব করি। আমি একজন নারী, একজন অভিবাসী, একজন শরণার্থী, হিজাব পরিহিত একজন মুসলিম নারী এবং এমন একজন ব্যক্তি, যাকে ভয় দেখিয়ে চুপ করানো সম্ভব নয়। আমি জানি আমি কে এবং কেন আমি এই কাজ করি।”
কথিত ‘ভাইকে বিয়ে করার’ অভিযোগটি পুনরায় সামনে আসার পর, ওমরের মুখপাত্র জ্যাকি রজার্স ফক্স নিউজ ডিজিটালকে বলেন, “প্রতিনিধি ওমর বারবার এবং দ্ব্যর্থহীন ভাষায় এই ভিত্তিহীন ও জঘন্য ষড়যন্ত্র তত্ত্বকে অস্বীকার করেছেন। এটি একটি মরিয়া রাজনৈতিক অপপ্রচার, যার উদ্দেশ্য হলো ট্রাম্পের ব্যর্থ প্রেসিডেন্সি এবং কংগ্রেসে রিপাবলিকানদের দুই বছরের ব্যর্থতা থেকে মানুষের মনোযোগ সরিয়ে নেওয়া। আর এটি অত্যন্ত লজ্জাজনক যে, গণমাধ্যম এখনো এই মিথ্যাকে টিকিয়ে রাখার সুযোগ দিচ্ছে।”