ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ভালোবাসার এক সাধারণ আলিঙ্গনেই চীনের এক নারীর পাঁচটি পাঁজর ভেঙে গেছে। ফাটল ধরেছে আরও একটি পাঁজরে। পরে হাসপাতালে পরীক্ষা করে জানা যায়, গুরুতর অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয় রোগে আক্রান্ত ওই নারীর হাড় অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছিল। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে একটি ভিডিও।
চীনের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘জিংসি লাইভ’-এর বরাতে জানা যায়, শীত লাগার কথা বলায় স্ত্রীকে উষ্ণতা দিতে জড়িয়ে ধরেছিলেন ওয়াং পদবির ওই ব্যক্তি। এ সময় হঠাৎ হাড় ভাঙার শব্দ শুনতে পান তিনি। তীব্র ব্যথায় কাতর হয়ে মাটিতে বসে পড়েন তার স্ত্রী।
ওই নারীর স্বামীর দাবি, তিনি স্বাভাবিকভাবেই স্ত্রীকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। কোনো অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করেননি। ঘটনার পর প্রথমে এর ভয়াবহতা বুঝতে পারেননি তারা। পরে সারা রাত অসহ্য যন্ত্রণা সহ্য করে পরদিন সকালে হাসপাতালে যান।
হাসপাতালে বুকের সিটি স্ক্যান করার পর চিকিৎসকেরা দেখতে পান, ওই নারীর পাঁচটি পাঁজর ভেঙে গেছে এবং ষষ্ঠ পাঁজরে চিড় ধরেছে। পরবর্তী পরীক্ষায় তার গুরুতর হাড়ক্ষয় রোগের বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, ওই নারীর ওজন ৪৫ থেকে ৫০ কেজির মধ্যে। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত ডায়েট করার পাশাপাশি প্রায়ই রাতের খাবার বাদ দিতেন তিনি। এ ছাড়া সূর্যালোকের সংস্পর্শেও খুব কম আসতেন। বাড়ি থেকে মাত্র দুই-তিন মিনিটের দূরত্বে থাকা পারিবারিক দোকানেই দিনের বেশির ভাগ সময় কাটত তার।
উহান এশিয়া হার্ট জেনারেল হাসপাতালের অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ইয়ান ইয়ানসিয়াং বলেন, তরুণ বয়সে শুধু আলিঙ্গনের চাপে পাঁজর ভেঙে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তবে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের কারণে হাড় অস্বাভাবিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।
চিকিৎসক জানান, পাঁজর ভাঙার কারণে ফুসফুস বা এর আবরণে কোনো জটিলতা দেখা না দিলে সাধারণত অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয় না। তাই ওই নারীকে অস্ত্রোপচার ছাড়াই ওষুধ, বিশেষ প্যাচ ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে সুস্থ হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।
অস্টিওপোরোসিস এমন একটি রোগ, যাতে হাড়ের ঘনত্ব ও শক্তি কমে যায়। ফলে সামান্য আঘাত কিংবা স্বাভাবিক চাপেও হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এ ঘটনা হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের গুরুত্ব তুলে ধরেছে।