নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে ১৪ বছর বয়সী কিশোরীকে অপহরণ ও দলবদ্ধ ধর্ষণের মামলায় আরও এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার নাঈম (২৪) মামলার দুই নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। তাঁকে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) এসআরবি-৯ সদর দপ্তর, সিলেট থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে রোববার (১৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে মোহাম্মদপুর থানার সাত মসজিদ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবি-৯-এর সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং সিপিসি-২, বসিলা-মোহাম্মদপুরের যৌথ দল এ অভিযান পরিচালনা করে।
গ্রেপ্তার নাঈম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বাড়িউড়া গ্রামের মোকলেছ মিয়ার ছেলে।
মাহফিলে যাওয়ার পথে অপহরণ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর রাত ৯টার দিকে ওই কিশোরী সরাইল উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের বাড়িউড়া উত্তরপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে একই গ্রামের সিরাজুল উলুম মাদ্রাসায় ওয়াজ মাহফিল শুনতে যাচ্ছিল। পথে একই গ্রামের জাকির (৩৩), নাঈম (২৪), সোহাগ মিয়া (২১), মোকলেস (৩৫), আলামিন ওরফে জিকির (৪০) ও বাহার মিয়া (২২) জোরপূর্বক তার মুখ চেপে ধরে একটি অটোরিকশায় তুলে নিয়ে যায়।
পরে গ্রামের লাউহার খালের পাড়সংলগ্ন একটি নির্জন স্থানে নিয়ে জাকির, নাঈম ও সোহাগ পালাক্রমে তাকে ধর্ষণ করে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। অন্য তিনজনও ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয় বলে অভিযোগে বলা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, রাত ১১টার দিকে কিশোরীকে বাড়ির পাশে রেখে চলে যায় অভিযুক্তরা। এ সময় কাউকে বিষয়টি জানালে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কিশোরী
ভুক্তভোগীর বাবা জানান, ঘটনার কয়েক দিন পর তাঁর মেয়ে পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। পরে স্বজনেরা তাকে চিকিৎসার জন্য সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ অক্টোবর তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। বর্তমানে সে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রামবাসী স্থানীয়ভাবে বিচার পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেয়।
মামলার আরেক আসামি গ্রেপ্তার
এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে শনিবার রাতে সরাইল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেন।
এর আগে শনিবার রাতে মামলার ছয় নম্বর আসামি বাহার মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এসআরবি-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া কর্মকর্তা কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গ্রেপ্তার নাঈমকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।