ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় নয়জন আরোহী নিয়ে বিধ্বস্ত ব্যক্তিগত উড়োজাহাজের গুরুত্বপূর্ণ ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। দুর্ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৬ কিলোমিটার দূরে উড়োজাহাজটির লেজের একটি নিয়ন্ত্রণ অংশ পাওয়া গেছে। এতে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে নতুন সূত্র পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডের (এনটিএসবি) সদস্য টম চ্যাপম্যান মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, উদ্ধার হওয়া অংশটি উড়োজাহাজের বাম পাশের এলিভেটরের বড় একটি অংশ। এটি উড়োজাহাজের নাক ওপরে-নিচে ওঠানামা নিয়ন্ত্রণ করে।
তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এলিভেটরের ওই অংশটি তিন টুকরো হয়ে দুর্ঘটনাস্থল থেকে ১ দশমিক ৩ থেকে ৩ দশমিক ৮ মাইল দূরে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে উড়োজাহাজের নাক নিচের দিকে নেমে যাওয়ার পর সেটিকে আবার ওপরে তোলা পাইলটের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
বার্তা সংস্থা এপি ও সাময়িকী পিপলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লিয়ারজেট ৬০ মডেলের উড়োজাহাজটি গত রোববার (১ নভেম্বর) টেক্সাসের অস্টিন থেকে বাহামাসের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে ফ্লোরিডার পাম বিচ কাউন্টির গ্রিনএকরস এলাকায় এটি বিধ্বস্ত হয়। এতে থাকা দুই পাইলট ও সাত যাত্রীসহ নয়জনের সবাই নিহত হন।
এনটিএসবি সদস্য টম চ্যাপম্যান বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অংশটি দুর্ঘটনাস্থল থেকে এত দূরে পাওয়া যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, মাটিতে আছড়ে পড়ার আগেই সেটি বিচ্ছিন্ন হয়েছিল। তবে অংশটি খুলে যাওয়াই দুর্ঘটনার কারণ, নাকি উড়োজাহাজ নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর সৃষ্ট প্রচণ্ড চাপের কারণে সেটি বিচ্ছিন্ন হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার আগে উড়োজাহাজটির সহকারী পাইলট নাতালিয়া গাদেলহা ফিলগেইরাস আকাশপথ নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রকে উড়োজাহাজে বরফ জমার কথা জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে তীব্র ঝাঁকুনিতে উড়োজাহাজটি ৭০০ ফুটের বেশি ওপর-নিচে দুলছিল বলেও জানান তিনি। দুর্ঘটনার প্রায় ১০ মিনিট আগে প্রেমিককেও বার্তা পাঠিয়ে বরফ জমা ও ঝাঁকুনির কথা জানিয়েছিলেন নাতালিয়া। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এনটিএসবি জানায়, দুর্ঘটনার আগে আবহাওয়া পরিস্থিতি কেমন ছিল, তা-ও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বৃষ্টি, উড়োজাহাজে বরফ জমা ও তীব্র ঝাঁকুনির কোনো প্রভাব ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। তবে এখনই দুর্ঘটনার নির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
উড়োজাহাজটি মাটিতে আছড়ে পড়ার পর ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আঘাতের তীব্রতায় মাটিতে বড় গর্ত তৈরি হয়। দুর্ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন ধ্বংসাবশেষ সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। তবে কিছু অংশ এতটাই ক্ষুদ্র হয়ে গেছে যে সেগুলো উড়োজাহাজের কোন অংশের, তা শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
মঙ্গলবার পর্যন্ত মাটিতে তৈরি হওয়া গর্তের ভেতরে অনুসন্ধান শুরু হয়নি। বুধবার থেকে সেখানে তল্লাশি চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে তদন্তকারীদের।
নিহত যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন অস্টিনের প্রযুক্তি উদ্যোক্তা অ্যাডাম রবিনসন, তাঁর স্ত্রী হেলেন শার্প এবং তাঁদের চার বছর বয়সী মেয়ে এমা ও দুই বছর বয়সী ছেলে চার্লি। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন পরিবারের দেখাশোনার দায়িত্বে থাকা আনি্তা মারিয়া সেতিনা এবং দুই পারিবারিক বন্ধু র্যাচেল রিড ও চারমি ফেয়ার।
উড়োজাহাজটির ৫৫ বছর বয়সী পাইলট ছিলেন জেফ গ্রেগরি। আর ২০ বছর বয়সী সহকারী পাইলট ছিলেন নাতালিয়া গাদেলহা ফিলগেইরাস।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এনটিএসবি। সংস্থাটির প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রায় এক মাসের মধ্যে প্রকাশিত হতে পারে। তবে দুর্ঘটনার চূড়ান্ত কারণ নির্ধারণে এক বছরেরও বেশি সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: পিপলডটকম ও এপি।