নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
একেই বলে নিউইয়র্ক। নিউ ইয়র্কের সন্তানরা কংগ্রেসের উভয় কক্ষ সিনেট, হাউজ এবং হোয়াইট হাউস সবকিছুরই নেতৃত্বে থাকছেন। হাউজ অব রিপ্রেজেনটেটিভিস (প্রতিনিধি পরিষদ সদস্য) হাকিম জেফ্রি হতে যাচ্ছেন প্রতিনিধি সভার নতুন স্পিকার। চাক শুমার হতে যাচ্ছেন সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা । ট্রাম্প তো প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পই। গোটা আমেরিকা ও ওয়াশিংটনের কেন্দ্রবিন্দু এখন নিউইয়র্কের হাতে। আমেরিকার নেতৃত্ব দিবে নিউ ইয়র্ক। মধ্যবর্তী নির্বাচন ডেমোক্র্যাটদের বড় ধরনের জয় মার্কিন সরকারের ক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিউ ইয়র্কবাসীদের আসীন হওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদিও এখন ফ্লোরিডার ওয়েস্ট পামবিচ শহরের বাসিন্দা। কিন্তু তার জন্ম নিউইয়র্কের কুইন্সে। ১৯৭১ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ম্যানহাটনে বসবাস করতেন। ২০১৯ সালে তার রেসিডেন্সি পরিবর্তন করেন ফ্লোরিডায়। তার বিখ্যাত ট্রাম্প টাওয়ার ও অধিকাংশ ব্যবসা বানিজ্য নিউইয়র্ক কেন্দ্রীক। তার সন্তানদের অধিকাংশই নিউইয়র্ক বাস করেন। এর ফলে অঙ্গরাজ্যটি বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারে।
৩ নভেম্বরের নির্বাচনী ফলাফলের দিকে তাকালে মনে হতে পারে, এটি যেন সেই বিখ্যাত মানচিত্র—‘ভিউ অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ফম্র নাইনথ অ্যাভিনিউ’ (নবম অ্যাভিনিউ থেকে দেখা পৃথিবী)। যার মধ্যে মিডটাউন ম্যানহাটানকে আমেরিকান পশ্চিমের রুক্ষ পাহাড় পর্বতের ঠিক ওপরেই বড় করে দেখানো হয়েছে। ক্ষমতার নেশায় মত্ত এই শহরটি বুধবার সকালে এমন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হলো, যা কেবল তাত্ত্বিক কোনো বিষয় নয়। বরং অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর এক পরিস্থিতি।
ম্যানহাটান থেকে প্রথমবারের মতো প্রতিনিধি পরিষদে নির্বাচিত হলেন মাইকা ল্যাশার। তিনি নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, হাকিম এবং চাক উভয়ের মধ্যেই নিউ ইয়র্কবাসীর সেই বিশেষ জেদ ও লড়াই করার মানসিকতা রয়েছে। নির্বাচনী ফলাফলে তাদেও বড় ভূমিকা রেখেছে। তাঁরা দুজনেই নিজ নিজ কৌশলে দক্ষ এবং প্রয়োজনে কঠোর লড়াইয়ে নামতে জানেন।
জেফ্রি, চাক ও ট্রাম্পের বিষয়টিকে অনেকে ‘নিউ ইয়র্ক মুহূর্ত’ হিসেবে দেখছেন। যা নিউ ইয়র্কের জন্য এক বড় প্রাপ্তি। কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নেতৃত্বই এখন নিউইয়র্কের ব্রুকলিনের বাসিন্দাদের হাতে। স্থানীয় নেতাদের মতে, এটি এমন এক রাজনৈতিক পরিবর্তন, যার মধ্যে নিউ ইয়র্কের নিজস্ব বৈশিষ্ট্যগুলো স্পষ্ট—যেমন বিচক্ষণতা, আত্মবিশ্বাসী মনোভাব এবং জীবনযাত্রার ব্যয়সাধ্য বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব।
ব্রুকলিনের প্রগতিশীল ব্যরো প্রেসিডেন্ট আন্তোনিও রেইনোসো বলেছেন, এই মুহূর্তে ব্রুকলিন যেন মহাবিশ্ব ও ডেমোক্র্যাটিক রাজনীতিরও কেন্দ্রবিন্দু। ব্রুকলিনের শাসনক্ষমতা পরিচালনার সক্ষমতাই পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে। আর কে এমনটা দাবি করতে পারে? অন্য কোনো জায়গার নাম বলুন যারা এমনটা বলতে পারে? কেউ পারবে না।
মার্কিন রাষ্ট্রের ৩টি স্তম্ভ হোয়াইট হাউজ, কংগ্রেস ও বিচার বিভাগের মধ্যে ২টিরই নেতৃত্ব দিচ্ছেন নিউইয়র্কের সন্তানরা। আগামীর দিরগুলোতে নিউ ইয়র্কবাসী এর মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হবে। বহু আলোচিত ‘গেটওয়ে প্রোজেক্ট’—হাডসন নদীর তলদেশ দিয়ে রেল সুড়ঙ্গ তৈরির এই প্রকল্পটি রাজনৈতিক কারনেই বারবার অর্থায়ন বন্ধ হওয়া ও নানা বিলম্বের শিকার হয়েছে। এছাড়া রয়েছে পশ্চিম কুইন্সের বিশাল রেল ইয়ার্ডে সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসন গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা। ‘সানিসাইড ইয়ার্ড’ নামের এই প্রকল্পটি একসময় নিউইয়র্কের দুই সন্তানের—মেয়র জোহরান মামদানি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে এক অপ্রত্যাশিত ঐক্যের ক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল।
নিউইয়র্ক থেকে নব নির্বাচিত কংগ্রেসম্যান বলেন, সেকেন্ড এভিনিউ সাবওয়ে লাইন সম্প্রসারণের বিষয়টি এবার অগ্রাধিকার পাবে। মিস্টার ল্যান্ডার বলেন, “কংগ্রেসের উভয় কক্ষই এখন এমন ব্যক্তিদের নেতৃত্বে রয়েছে, যারা নিউইয়র্ক সিটি সাবওয়ে ব্যবস্থার গুরুত্ব বোঝেন। নিউইয়র্ক সবসময়ই লড়াই করতে জানা মানুষ তৈরি করেছে। আর এখন এমন এক মুহূর্ত এসেছে, যখন ভোটাররা আমাদের কাছ থেকে সেই লড়াইটাই দাবি করছেন।”
নিউইয়র্কে স্টেট পর্যায়েও ডেমোক্র্যাটরা বিশাল জয় পেয়েছে। গর্ভনর পদে ক্যাথি হোকুল ও এটর্নি জেনারেল পদে লেটিসা জেমস জয় পেয়েছেন। নিউইয়র্কের ২৬টি কংগ্রেশনাল সীটের মধ্যে ডেমাক্র্যাটরা পেয়েছে ২০ ও রিপাবলিক্যানরা পেয়েছে ৪টি আসন।