ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
রাজধানী ঢাকার যানজট কমানো ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়নে দুটি মনোরেল রুট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। ২০৩০ সালের মধ্যে এ দুটি রুট নির্মাণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ হয়েছে। এখন চলছে বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ।
ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) অতিরিক্ত নির্বাহী পরিচালক ড. মো. মশিউর রহমান বলেন, প্রস্তাবিত মনোরেল রাজধানীর গণপরিবহন নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই এ পরিবহনব্যবস্থা যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করবে। বিশেষ করে অধিক যাত্রী চলাচলকারী এলাকাগুলোতে যোগাযোগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
তিনি জানান, মনোরেল রুটগুলোর সঙ্গে বিদ্যমান ও পরিকল্পনাধীন মেট্রোরেলসহ অন্যান্য গণপরিবহন ব্যবস্থার সংযোগ স্থাপনের সুযোগ রাখা হবে। এতে মেট্রোরেল থেকে নেমে যাত্রীদের গন্তব্যের শেষ অংশে যাতায়াত আরও সহজ হবে।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ব্যুরো অব রিসার্চ, টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন (বিআরটিসি) ইতোমধ্যে প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে বিস্তারিত নকশা প্রণয়নের কাজ চলছে। চুক্তি অনুযায়ী, আগামী ছয় মাসের মধ্যে নকশা জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
ডিটিসিএ সূত্র জানায়, কারিগরি, অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত মূল্যায়নের ভিত্তিতে চূড়ান্ত দুটি রুট নির্বাচন করা হবে। এ ক্ষেত্রে যাত্রী চাহিদা, সম্ভাব্য সুফল ও আর্থিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রাথমিক তালিকায় পাঁচটি রুট
হালনাগাদ সংশোধিত কৌশলগত পরিবহন পরিকল্পনায় (আরএসটিপি) প্রায় ৭৯ দশমিক ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ পাঁচটি মনোরেল রুটের প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে একটি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত রুট তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন এবং পুরো সমীক্ষা ছয় মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মেট্রোরেল (এমআরটি) লাইনের সঙ্গে ফিডার সার্ভিস হিসেবে বাস চলাচলের সুযোগ সীমিত—এমন এলাকাগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিকভাবে পাঁচটি রুট চিহ্নিত করা হয়েছে। রুটগুলো হলো—
পূর্বাচল ও জলসিঁড়ি হয়ে বিমানবন্দর-বসুন্ধরা: ২৫ দশমিক ২ কিলোমিটার।
মধ্য বাড্ডা-ভুলতা: ১৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার।
রামপুরা-ডেমরা: ১০ দশমিক ৩ কিলোমিটার।
মোহাম্মদপুর-পোস্তগোলা: ১১ দশমিক ৭ কিলোমিটার।
উত্তরা সেন্টার হয়ে বিমানবন্দর-সাভার: ১৭ দশমিক ৬ কিলোমিটার।
এ ছাড়া প্রস্তাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে কামরাঙ্গীরচর পর্যন্ত ৯টি স্টেশনসহ মনোরেল-৮, আলুব্দী থেকে পশ্চিম আগারগাঁও অথবা শ্যামলী পর্যন্ত ১০টি স্টেশনসহ মনোরেল-১০ এবং পল্টন থেকে সদরঘাট অথবা ঝিলমিল পর্যন্ত ৬ বা ১১টি স্টেশনসহ মনোরেল-১৩-এর কথাও উল্লেখ রয়েছে।
সমীক্ষায় গুরুত্ব পাচ্ছে যাত্রী চাহিদা ও ব্যয়
প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, প্রাক্-সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও দুটি প্রস্তাবিত মনোরেল রুটের বিস্তারিত নকশা প্রণয়নে সরকার রাজস্ব বাজেট থেকে ৭ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছে।
ডিটিসিএ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় যান চলাচলের মডেলভিত্তিক সমীক্ষা চালিয়ে যাত্রী চাহিদা নিরূপণ করেছে। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করেছেন বুয়েটের পরামর্শকেরা।
বুয়েটের এক পরামর্শক জানান, সমীক্ষায় মহানগর এলাকার জনসংখ্যা, সম্ভাব্য স্টেশনগুলোর যাত্রী-আকর্ষণ এলাকা, গণপরিবহন সেবার অপ্রাপ্যতা, যানজটপূর্ণ এলাকা, ডিপো নির্মাণের জন্য জমির প্রাপ্যতা এবং ভবিষ্যতে রুট সম্প্রসারণের সুযোগ পর্যালোচনা করা হয়েছে।
সমীক্ষায় সম্ভাব্য রুট, স্টেশন ও ডিপোর অবস্থান, যাত্রী চাহিদা, কারিগরি ও কাঠামোগত উপযোগিতা, নির্মাণ ব্যয়, পরিচালন ব্যয়, অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা এবং পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব মূল্যায়ন করা হবে। এ কাজে দেশীয় ও প্রবাসী বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শক হিসেবে যুক্ত করা হয়েছে।
মনোরেল হলো উড়াল কাঠামোর ওপর দিয়ে চলাচলকারী বিশেষ ধরনের গণপরিবহন ব্যবস্থা। ঢাকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সড়কের জায়গা সীমিত হওয়ায় এবং প্রচলিত গণপরিবহনের অবকাঠামো নির্মাণে নানা প্রতিবন্ধকতা থাকায় এ ব্যবস্থা কতটা কার্যকর হবে, তা যাচাই করছে ডিটিসিএ।
রাজধানীর অসহনীয় যানজট কমানো, যাত্রীদের যাতায়াত সহজ করা এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও টেকসই করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে মনোরেল নির্মাণের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সূত্র: বাসস