শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

দুই নেত্রীর রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ১১ জানুয়ারি ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ১২৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

দুই নেত্রীর রাজনীতির ভবিষ্যৎ কী

বাংলাদেশের সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং শেখ হাসিনার রাজনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে কৌতূহলের শেষ নেই। দুই জনই এখন দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। খালেদা জিয়া চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্য এবং শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে নিবার্সিত জীবন—যাপন করছেন। ওয়ান ইলেভেনের সময় ‘মাইনাস টু ফর্মূলা’ সবচেয়ে বেশি আলোচিত ছিলো। ওই সময়ে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। কিন্তু মাইনাস টু—এর কথা অনেকের মন থেকে ভুলতে পারেননি। সন্দেহপ্রবণ লোকেরা বলছেন, এটাই হলো সেই মাইনাস টু ! জনরোষে শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। সেখানে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করছেন। অপরদিকে, খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন যাবত কারাগারে অন্তরীন ছিলেন। এখন চিকিৎসার জন্য বিদেশ পাঠিয়ে টেকনিক্যাললি দেশ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ মাইনাস টু কার্যকর ! এটা হলো, ষড়যন্ত্র ও সন্দেহ প্রবণ মানুষের বিশ^াস। তবে বাস্তবে কী ঘটতে যাচ্ছে সেটা সময়েই বলে দেবে। এরিমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, মাইনাস টু—এর কথা তারা ভাবছেন না। যারা মাইনাস টু বাস্তবায়নের কারিগর হতে পারতেন সেই প্রভাবশালী মহলও নাকি খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে বলেছেন, ‘আপনার স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। দেশে ফেরা নিয়ে কোনও দুশ্চিন্তা করবেন না। আপনি ইচ্ছা করলেই দেশে ফিরতে পারবেন’। এই আশ^াসে খালেদা জিয়া মেডিক্যাল চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। আপাতত লন্ডন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিলে যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিনস বিশ^বিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন। সবাই আশা করে, তিনি সুস্থ হবেন। ওমরাহ করে দেশে ফিরবেন। কিন্তু তার রোগগুলি জটিল। ফলে একটা অনিশ্চয়তার দোলাচাল আছে। তবে দেশের মানুষের ভালবাসা তিনি পেয়েছেন। গুলশানের বাসা ফিরোজা থেকে বের হবার পর রাস্তার হাজার হাজার মানুষ তাকে বিদায় জানিয়েছেন। সাত বছর পর হিথ্রো বিমানবন্দরে মা ও ছেলের মিলনে এক অভূতপূর্ব আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পুত্র তারেক রহমান এবং পুত্রবধূ জোবায়দা রহমান স্বাগত জানান। বিমানবন্দর থেকে তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে মাকে নিয়ে লন্ডন হাসপাতালে ভর্তি করান। সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। পরিবারের পুর্নমিলনে আনন্দের বন্যা বইছে।

খালেদা জিয়াকে বিরল সম্মান দেখিয়েছেন কাতারের আমীর তামিম বিন হামাদ আল থানি। খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবস্থা জেনে তিনি তার নিজের বিমান বহর থেকে চিকিৎসা সুবিধাসহ একটি এয়ারক্রাফ্ট পাঠান। এই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আধুনিক চিকিৎসা সুবিধা রয়েছে। পাশাপাশি, চিকিৎসক ও নার্স দিয়েছেন কাতারের আমির। খালেদা জিয়া লিভার সিরোসিস, কিডনি জটিলতা এবং হার্টের সমস্যা রয়েছে। স্বস্তির ব্যাপার হলো, খালেদা জিয়া বিশে^র সবোর্চ্চ মেডিকেল চিকিৎসা পাচ্ছেন। এই চিকিৎসায় যদি তিনি সুস্থ হন তবে তিনি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হবেন।

শেখ হাসিনার ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। গণআন্দোলনের মুখে তাকে দেশ ছেড়ে যেতে হয়। ভারত তাকে আশ্রয় দিয়েছে। প্রথম দিকে বলেছে, ভারত মানবিক কারণে তাকে আশ্রয় দিয়েছে। এখন ভারতীয় মিডিয়া বলছে, তাকে ভারত সরকার রেসিডেন্সি পারমিট দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের তরফে ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়া হয়েছে। কারণ তার বিরুদ্ধে গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং দুনীর্তির অভিযোগে বিচার শুরু হয়েছে। ট্রাইব্যুনাল থেকে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট দিয়ে তাকে আদালতে হাজির করতে বলা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার তার পর শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছে। ভারত সরকার বলেছে, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশ যে চিঠি দিয়েছে সেটি ভারতের হস্তগত হয়েছে। তবে তাকে ফেরত দেবে এমন কোনও আশ^াস ভারত দেয়নি। বরং ভারত বলছে, শেখ হাসিনাকে রেখেই তারা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তি সরকারের সঙ্গে কাজ করবে।

বাংলাদেশ একটা বিষয় উপলব্ধি করেছে যে, একটা ইস্যুতে স্থির থাকলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অগ্রসর হবে না। কারণ বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বহুমুখী সম্পর্ক বিদ্যমান। ব্যবসা—বাণিজ্য থেকে শুরু করে জনগণের পর্যায়ে যোগাযোগ সৃষ্টির কাজও করতে হবে। সম্প্রতি অন্তর্বর্তি সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরত দেবে না বলে শুনেছি। মাহফুজের এমন মন্তব্য সত্য নাকি মিথ্যা সেটা যাচাই না করেই বলা যায়, ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া খুব জটিল। এখানে রাজনৈতিক, আইনগত এবং আমলাতান্ত্রিক কাজ রেূয়ছে। যদি উভয় সরকার কোনও ওয়ান্টেড আসামিকে প্রত্যাবর্তন করতে চায় তবে তার জন্যেও কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। এখানে ভারত যদি না দিতে চায় তবে শেখ হাসিনাকে ফেরত আনা সম্ভব হবে না। কারণে শেখ হাসিনার নামে মামলা আছে বলে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্যে ভারতের ওপর চাপ দেয়া হচ্ছে। কিন্তু শেখ হাসিনাও ইচ্ছ্া করলে ভারতের আদালতে যেতে পারেন। তখন ভারতের আদালতে তাকে ফেরত দেয়া সংক্রান্ত অনিস্পন্ন বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে পারে।

উলফা নেতা অনুপ চেটিয়াকে ভারত বহু বছর ধরে ফেরত চাইলেও তাদের ফেরত পাঠাতে অনেক সময় লেগেছে। বন্দি প্রত্যার্পণ চুক্তি থাকার পরও এমন প্রত্যার্পণে বিলম্ব হয়েছিলো। এখানে আইনগত এমন অনেক বিষয় রয়েছে, যেগুলোর জবাব পাওয়া সহজ নয়। এখানে শুধু বাংলাদেশের নিজস্ব আইন নয়। বরং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের বিষয় রয়েছে। শেখ হাসিনার এখন যা বয়স তার এসকল ঝামেলা শেষ করে পুনরায় বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফিরে আসা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। (সূত্র-আজকাল)।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম