বদরুল আলম নাবিল | রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
পদ্মা সেতুর পূর্ণ অর্থনৈতিক সুফল কাজে লাগাতে ভাঙ্গা–কুয়াকাটা জাতীয় মহাসড়ক (এন-৮) ছয় লেনে উন্নীত করার দাবি জানিয়েছেন ঢাকাস্থ পটুয়াখালী জার্নালিস্টস ফোরামের (পিজেএফ) সভাপতি বদরুল আলম নাবিল। তাঁর মতে, প্রায় ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা হলে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি অর্থনীতি, পর্যটন, কৃষি, মৎস্য ও শিল্পায়নে নতুন গতি আসবে।
বদরুল আলম নাবিল বলেন, পদ্মা সেতু চালুর ফলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগবিচ্ছিন্নতা অনেকটাই দূর হয়েছে। রাজধানীর সঙ্গে এ অঞ্চলের যাতায়াত সহজ হলেও ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কের বড় একটি অংশ এখনো দুই লেনের। ফলে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে পদ্মা সেতুর প্রত্যাশিত সুফল পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি বলেন, ঈদ, পূজা ও পর্যটন মৌসুমে এ মহাসড়কে যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। একই সড়কে ভারী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী যান ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করায় যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ভাঙ্গা–কুয়াকাটা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করা জরুরি।
কুয়াকাটা পর্যটনে বাড়বে গতি
দেশের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কুয়াকাটার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উন্নত সড়ক যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তাঁর মতে, মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত হলে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কুয়াকাটায় যাতায়াত আরও দ্রুত, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে। বাড়বে পর্যটকের আগমন। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ, পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসায়। সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থান, বাড়বে মানুষের আয়।
পায়রা বন্দর ঘিরে সম্প্রসারিত হবে বাণিজ্য
পায়রা সমুদ্রবন্দরের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বদরুল আলম নাবিল বলেন, ভাঙ্গা–কুয়াকাটা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত হলে পায়রা বন্দরের সঙ্গে রাজধানী ও দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের পণ্য পরিবহন আরও সহজ ও গতিশীল হবে। এতে সময় ও পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি বাণিজ্যিক সক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে বন্দরকেন্দ্রিক শিল্প ও লজিস্টিকস খাতের বিকাশের সুযোগ তৈরি হবে।
কৃষি, মৎস্য ও শিল্পায়নে নতুন সম্ভাবনা
দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি ও মৎস্য খাতের উন্নয়নেও এ মহাসড়ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করেন তিনি। এ অঞ্চলে উৎপাদিত ধান, শাকসবজি, ফলমূল এবং নদী ও সাগরের মাছ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হয়। কিন্তু যানজটের কারণে পচনশীল পণ্য সময়মতো বাজারে পৌঁছাতে না পারায় উৎপাদকরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। উন্নত মহাসড়ক পণ্য পরিবহনে গতি বাড়িয়ে এ সমস্যা কমাতে সহায়তা করবে।
তিনি আরও বলেন, মহাসড়কের আশপাশে পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চল, লজিস্টিকস হাব, কোল্ড স্টোরেজ, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র ও রপ্তানিমুখী শিল্প গড়ে তোলার সুযোগ রয়েছে। এতে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং তরুণদের নিজ এলাকায় কাজের সুযোগ তৈরি হবে।
নিরাপত্তা ও টেকসই নির্মাণে গুরুত্ব
মহাসড়কটির উন্নয়নে শুধু লেনের সংখ্যা বাড়ানো নয়, সড়ক নিরাপত্তা ও টেকসই অবকাঠামো নিশ্চিত করারও আহ্বান জানান পিজেএফ সভাপতি। তিনি বলেন, সড়ক বিভাজক, নিরাপদ প্রবেশ ও প্রস্থান ব্যবস্থা, আন্ডারপাস, ওভারপাস এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে। পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় জলবায়ুসহিষ্ণু নকশা, উন্নত পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা এবং টেকসই অবকাঠামো নির্মাণ জরুরি।
বদরুল আলম নাবিল বলেন, ভাঙ্গা–কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক শুধু যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন নয়; এটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক রূপান্তরের অন্যতম ভিত্তি। পদ্মা সেতুর সুফলকে উৎপাদন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও জনকল্যাণে রূপ দিতে হলে এ মহাসড়কের উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত জাতীয় মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার উদ্যোগ দ্রুত গ্রহণের আহ্বান জানান। যথাযথ পরিকল্পনা ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এ মহাসড়ক দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বদরুল আলম নাবিল
সাংবাদিক, লেখক ও সংগঠক
সভাপতি, ঢাকাস্থ পটুয়াখালী জার্নালিস্টস ফোরাম (পিজেএফ)