ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
জাপানের মধ্যাঞ্চলে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২২ জন আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পে বিভিন্ন দোকানপাট ও স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর পরপরই আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের আশঙ্কায় এক সপ্তাহের সতর্কতা জারি করেছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
রোববার (৮ নভেম্বর) স্থানীয় সময় রাত ১টা ৪ মিনিটে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর এর মাত্রা ৫ দশমিক ৭ বলে জানিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫ দশমিক ৫ বলে উল্লেখ করেছে। মূল ভূমিকম্পের পর কয়েক দফা ছোট কম্পনও অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল শিজুওকা প্রিফেকচারে, ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৪০ কিলোমিটার গভীরে। সবচেয়ে শক্তিশালী কম্পন অনুভূত হয় আইচি প্রিফেকচারে। এ ছাড়া হামামাতসু শহর, কিয়োটো, নারা, ইয়ামানাশি ও গিফুসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় কম্পন ছড়িয়ে পড়ে। তবে টোকিওতে ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়নি।
জাপানের টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে বিভিন্ন দোকানের ভাঙা জানালা ও রাস্তায় ছড়িয়ে থাকা কাচের টুকরা দেখা গেছে। একটি বইয়ের দোকানে তাক থেকে বই পড়ে মেঝেতে স্তূপ হয়ে যায়। আতঙ্কে ভবন থেকে বের হতে গিয়ে সিঁড়ি থেকে পড়ে আহত হন কয়েকজন।
দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, আগামী এক সপ্তাহ বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে আগামী দুই থেকে তিন দিন আরও শক্তিশালী ভূমিকম্পের আশঙ্কা থাকায় জরুরি প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আয়াতাকা এবিতা সাংবাদিকদের বলেন, সম্ভাব্য ভূমিধস, পাহাড় থেকে পাথর গড়িয়ে পড়া এবং বৃষ্টিপাতের প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে। তবে নানকাই ট্রফ প্লেট এলাকায় এখন পর্যন্ত অস্বাভাবিক কোনো পরিবর্তন শনাক্ত হয়নি। বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ভবিষ্যতে এ এলাকায় বড় ধরনের ভূমিকম্প হতে পারে।
এদিকে ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে শিনকানসেন বুলেট ট্রেনের গতি কমিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রেললাইন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় এ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ জাপানে নাগরিকদের জরুরি প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বাসায় বোতলজাত পানি, শুকনো খাবার ও ব্যাটারি মজুত রাখার পাশাপাশি ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তথ্যসূত্র: এপি