ডেস্ক রিপোর্ট | রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পেছনে ফেলে নতুন জোট সরকার গঠনের দায়িত্ব পেয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোট। দেশটির প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজোগ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে এ দায়িত্ব দিয়েছেন।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত পার্লামেন্ট (নেসেট) নির্বাচনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থী জোট কিংবা আইজেনকোটের বিরোধী জোট—কেউই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে সরকার গঠন নিয়ে তৈরি হয় অনিশ্চয়তা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা শেষে আইজেনকোটকে সরকার গঠনের সুযোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট।
দায়িত্ব পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আইজেনকোট লিখেছেন, ‘এখন একটি জাতীয় জরুরি সরকার গঠনের সময়। এ দায়িত্বের যোগ্য হয়ে উঠতে আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করব।’
সরকার গঠনের জন্য তিনি প্রাথমিকভাবে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে এ সময় আরও ১৪ দিন বাড়ানো যাবে।
এবারের নির্বাচনে ১২০ আসনের নেসেটে নেতানিয়াহুর ডানপন্থী লিকুদ পার্টি এবং তার অতি-ডানপন্থী ও আল্ট্রা-অর্থোডক্স ইহুদি মিত্ররা পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, আইজেনকোটের মধ্যপন্থী ইয়াশার পার্টি ও তার জোটের অন্য তিনটি ইহুদি বিরোধী দল পেয়েছে ৪৮টি আসন।
নির্বাচনে বড় চমক দেখিয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি জোট—ইউনাইটেড আরব লিস্ট ও জয়েন্ট লিস্ট। আরব ভোটারদের রেকর্ড উপস্থিতিতে জোট দুটি সম্মিলিতভাবে পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তাদের সমর্থন।
তবে নির্বাচনের আগে একটি দল ছাড়া অন্য ইহুদি রাজনৈতিক দলগুলো আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনে কাজ না করার ঘোষণা দিয়েছিল। এরপরও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সুপারিশ পর্যালোচনা করে আইজেনকোটকেই দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ।
প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, সরকার গঠনের বিষয়ে পরামর্শ সভায় আইজেনকোটের পক্ষে ৬৭টি এবং নেতানিয়াহুর পক্ষে ৪৬টি সুপারিশ জমা পড়ে। এসব সুপারিশ বিবেচনায় নিয়েই প্রেসিডেন্ট তার সিদ্ধান্তের কথা দুজনকে জানান।
ইসরায়েলের আইন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া দলের নেতাকেই সরকার গঠনের দায়িত্ব দিতে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই। বরং যার সরকার গঠনের সম্ভাবনা বেশি, প্রেসিডেন্ট তাকেই দায়িত্ব দিতে পারেন।
বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার গঠনের সামনে তিনটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে। নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্য সরকার, আইজেনকোটের জোট থেকে সংসদ সদস্যদের বের করে এনে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ডানপন্থী সরকার অথবা আরব দলগুলোর সমর্থনে আইজেনকোটের নেতৃত্বে নতুন সরকার।
অতীতে আরব দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের বিরোধিতা করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে আইজেনকোটের জোটের অবস্থানে পরিবর্তন আসতে পারে বলে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি আল্ট্রা-অর্থোডক্স দলগুলোর সঙ্গেও সমঝোতার চেষ্টা করতে পারেন তিনি। তবে উভয় পথেই রয়েছে রাজনৈতিক জটিলতা।
ইসরায়েলের রাজনীতিতে জাতীয় ঐক্য সরকার গঠনের নজির রয়েছে। ২০২০ সালে টানা তিনটি নির্বাচনের পর নেতানিয়াহু ও তার তৎকালীন মধ্যপন্থী প্রতিদ্বন্দ্বী বেনি গ্যান্টজ ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তিতে পৌঁছেছিলেন। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, পর্যায়ক্রমে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের সিদ্ধান্ত হয়।
এদিকে, নতুন করে নির্বাচন এড়ানো এবং স্থিতিশীল সরকার গঠনের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট হারজোগ। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, বর্তমান বাস্তবতায় নির্বাচনের আগে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি পূরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সমঝোতায় আসতে হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ইসরায়েলকে পরপর পাঁচটি নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
সূত্র: বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ান।