নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ইসরাইলের স্বার্থে লবিস্ট গ্রুপের (আইপ্যাক) বিপরীতে গঠিত হলো হাবিবি প্যাক। মিশিগান থেকে নির্বাচিত মুসলিম ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর আব্দুল এল সায়েদ হাবিবি প্যাক ঘোষণার সাথে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আলোচনার ঝড় বইছে। নির্বাচনের ২ দিন পরই ৫ নভেম্বর ফেডারেল ইলেকশন কমিশনে ‘হাবিবি প্যাক’ গঠনের জন্য আবেদন করেন। ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের নথিপত্র অনুযায়ী, মার্কিন সিনেটে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম হিসেবে তিনি বৃহস্পতিবার এই ‘পিএসি/প্যাক’কে আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করেছেন। এই লিডারশিপ প্যাক তার নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নয়। এর মাধ্যমে তিনি অন্যান্য প্রার্থীদের জন্য তহবিল সংগ্রহ করতে পারবেন। যা হয়তো তার বৃহত্তর রাজনৈতিক উচ্চাকাঙ্ক্ষারই ইঙ্গিত।
‘আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি’ (অওচঅঈ) এর ৩৮ মিলিয়ন ডলার/ ৩ কোটি ৮০ লক্ষ ডলারের তহবিল, তীব্র গোঁড়ামি ও ইসলামবিদ্বেষের ঢেউ এবং ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি হেইলি স্টিভেন্সের বিশ্বাসঘাতকতা পেছনে ফেলে ড. আব্দুল এল—সায়েদ চালু করেছেন ‘হাবিবি প্যাক’। ‘হাবিবি’ আরবি শব্দ, যার অর্থ ‘আমার প্রিয়’। এল—সায়েদ তার নির্বাচনী প্রারণার সময় প্রায়ই এই শব্দটি ব্যবহার করেছেন। এমনকি বুধবার ভোরে দেওয়া বিজয় ভাষণে ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সকেও তিনি এই সম্বোধনেই ডেকেছেন।
আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আইপ্যাক) হলো একটি মার্কিন ইসরায়েল পন্থী লবিং গোষ্ঠী। যারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যকার সম্পর্ক জোরদার করার মতো নীতিগুলোর পক্ষে কাজ করে। ১৯৫৪ সালে ‘আমেরিকান জায়োনিস্ট কমিটি ফর পাবলিক অ্যাফেয়ার্স’ নামে প্রতিষ্ঠিত এই সংগঠনটি ১৯৫৯ সালে বর্তমান আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি (আইপ্যাক)নামটি করে। আইপ্যাককে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রভাবশালী লবিং গোষ্ঠী হিসেবে গণ্য করা হয়। তারা নির্বাচনগুলোতে বিভিন্ন দলের ইসরাইলী পন্থী বিভিন্ন দলের প্রার্থীকে অর্থ প্রদান সহ বিভিন্নভাবে সাহায্য করে। বিজয়ীরা কংগ্রেসে গিয়ে ইসরাইলের ঢোল পেটায়। আইপ্যাক দাবি করেছে, ২০২৬ সালের নির্বাচনে তারা সহায়তা করেছে এমন ২৩৮ জন সিনেটর ও হাউজ প্রতিনিধি রয়েছেন। উল্লেখ্য ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট লিডার ও হাউজের আগামী স্পীকারের নাম এসেছে আইপ্যাক থেকে ডোনেশন নেবার। ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এল সায়েদকে হারাতে রিপাবলিক্যান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে আইপ্যাক ৩৮ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।
ইসরাইলপন্থী আইপ্যাক ২০২১ সাল পর্যন্ত সরাসরি কোনো রাজনৈতিক প্রার্থীর জন্য তহবিল সংগ্রহ করত না। এর সদস্যরা আইপ্যাক এর সাথে সরাসরি যুক্ত নয় এমন ‘পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি’ (প্যাক) বা অন্যান্য উপায়ে প্রার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতেন। ২০২১ সালের শেষ দিকে আইপ্যাক নিজস্ব একটি পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি—‘প্যাক’ গঠন করে। আইপ্যাক এর সমালোচকদের মতে, সংগঠনটি ইসরায়েল সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে এবং মার্কিন কংগ্রেসের ওপর তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
সংগঠনটি নিজেকে একটি দ্বিদলীয় (উভয় প্রধান রাজনৈতিক দলের সমর্থনপুষ্ট) সংগঠন হিসেবে দাবি করে। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, তাদের রাজনৈতিক ব্যয়ের একটি বড় অংশই এমন সব প্রার্থীর—যাদের অধিকাংশই ডেমোক্র্যাটদের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনের প্রাক্কালে ‘দ্য গার্ডিয়ান’ পত্রিকা জানায় যে, গাজা যুদ্ধে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করা প্রার্থীদের বিরুদ্ধে আইপ্যাক নতুন প্রতিদ্বন্দ্বীদের খুঁজেছে। (তথ্যসূত্র-দ্যা হিল ও পলিটিক্স)