নিজস্ব প্রতিবেদক | রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
পরিসংখ্যানের তথ্য সংগ্রহ ও প্রকাশে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের সুযোগ বন্ধ করতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে, যাতে তথ্যের বিকৃতি, কারসাজি কিংবা ইচ্ছামতো পরিবর্তনের সুযোগ না থাকে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি।
আজ রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) কার্যালয়ে জাতীয় পরিসংখ্যান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
জোনায়েদ সাকি বলেন, দেশের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি মূল্যায়ন, ভুল চিহ্নিত করা এবং প্রয়োজনীয় সংশোধনের জন্য নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান অপরিহার্য। তথ্যের বিকৃতি হলে সরকার ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে, যা উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করবে। তাই তথ্যের নির্ভুলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
পরিসংখ্যানের ওপর মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনাকে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতে তথ্যের নানা অসংগতি ও প্রশ্নের কারণে মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। এখন সঠিক তথ্য প্রকাশ করলেও তা মানুষ বিশ্বাস করবে কি না, সেই প্রশ্ন রয়েছে। এ আস্থা পুনরুদ্ধারে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, অতীতের জিডিপি হিসাবের ভিত্তি ও নির্ভরযোগ্যতা যাচাইয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সহযোগিতায় গবেষণা করা হয়েছে। এতে জিডিপি নিরূপণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গলদ পাওয়া গেছে।
তথ্য প্রকাশের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগে ভোক্তা মূল্যসূচক (সিপিআই) প্রকাশে মন্ত্রীর স্বাক্ষর বা অনুমোদনের প্রয়োজন হতো। এখন কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড পদ্ধতিতে সরাসরি তথ্য সংগ্রহ করে ডেটাবেজে যুক্ত করা হচ্ছে। সেখান থেকেই তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। ফলে তথ্য প্রকাশে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বা পরিবর্তনের সুযোগ থাকছে না।
তিনি আরও বলেন, নির্ভরযোগ্য তথ্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি তা সবার জন্য সহজলভ্য করতে হবে। তথ্য বিশ্লেষণ ও গবেষণার সুযোগ শুধু সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। শিক্ষার্থী, গবেষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্যও এসব তথ্য ব্যবহারের সুযোগ থাকতে হবে।
এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তৈরির কাজ চলছে। এর ফলে দেশের যেকোনো স্থান থেকে এমনকি বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকেও এসব তথ্য ব্যবহার করা যাবে।
জোনায়েদ সাকি বলেন, তথ্য উন্মুক্ত হলে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা স্বাধীনভাবে তা বিশ্লেষণ করতে পারবেন। এতে পরিসংখ্যানের ব্যবহার বাড়বে এবং তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা প্রতিষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন উপস্থিত ছিলেন।
এবারের জাতীয় পরিসংখ্যান দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—‘নির্ভরযোগ্য ও সহজলভ্য পরিসংখ্যান, টেকসই উন্নয়ন ও পরিকল্পনার ভিত্তি’।