ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৯৯ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
এ প্রজন্মের দর্শকপ্রিয় অভিনেত্রী সাদিয়া আয়মান। অভিনয় ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই নিজের লুকের চেয়ে অভিনয় দক্ষতাকে বেশি গুরুত্ব দিয়ে আসছেন তিনি। আর এ কারণেই অল্প সময়েই দর্শকের নজর কেড়েছেন এই অভিনেত্রী। অভিনয় ও ব্যক্তিজীবন নিয়ে বিভিন্ন সময় তাঁর নানা বক্তব্যও এসেছে আলোচনায়। তবে এসব আলোচনা ইতিবাচকভাবেই নেন সাদিয়া।
কেন অভিনয়ই প্রধান
সাদিয়া আয়মান বলেন, ‘দেখতে যত সুন্দরই হই না কেন, যখন কেউ অভিনয়ের প্রশংসা করে, ওইটা আমাকে বেশি এনার্জি দেয়। উল্টো যদি আমাকে কখনো বলে যে তোমাকে দেখতে খুব সুন্দর লাগছে, তখন আমার জিজ্ঞাসা করতে হয়, অভিনয় কেমন লাগছে? কারণ, ওটাই তো মেইন।’
অভিনেত্রীর মতে, একজন শিল্পীর সার্থকতা শুধু চেহারা বা লুকের প্রশংসায় নয়, বরং তাঁর অভিনয় কতটা দর্শকের মনে দাগ কাটতে পারছে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই সৌন্দর্যের প্রশংসার চেয়ে অভিনয়ের মূল্যায়নই তাঁর কাছে বেশি আনন্দের।
শুরুটা সহজ ছিল না
২০১৯ সালে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেন সাদিয়া আয়মান। তবে মিডিয়ায় কাজের শুরুতে পরিবারের কাছ থেকে নিরঙ্কুশ সমর্থন পাননি তিনি। ছোটবেলায় নাচের প্রতি আগ্রহ থাকলেও পড়াশোনার ব্যস্ততায় তা নিয়মিত শেখা হয়ে ওঠেনি।
মিডিয়ায় কাজ করার সিদ্ধান্তে মা-বাবার প্রাথমিক দ্বিধা কাটাতেও সংগ্রাম করতে হয়েছে তাঁকে। তখন তাঁদের উদ্দেশে সাদিয়া বলেছিলেন, ‘প্লিজ তোমরা আমার মনোবল ভেঙে দিয়ো না, বিশ্বাস রাখো। আমি এমন কিছু করব না, যাতে তোমাদের কোনো লজ্জা হয় বা তোমরা অপমানিত হও। তোমরা প্রাউড ফিল করবে এমন কিছুই হবে।’
সংখ্যা নয়, কাজের মান গুরুত্বপূর্ণ
ক্যারিয়ারের শুরুতে এক ধরনের চরিত্রে বারবার কাজের প্রস্তাব পাওয়ার পর নিজেকে সেই জায়গা থেকে সরিয়ে নেন সাদিয়া। তাঁর কাছে এখন কাজের সংখ্যার চেয়ে মানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
সাদিয়া বলেন, ‘যখন দেখলাম নাটকে একই চরিত্র বারবার পাচ্ছি, তখন নিজেকে ওখান থেকে সরিয়ে এনেছি। সংখ্যার চেয়ে কাজের মানকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করি। কোনো গল্প এলেই কেন আমি এটা করব, আগে নিজেকে প্রশ্ন করি। নিজের থেকে ভালো বিচারক তো আর নেই। যখন মনে হয়, কাজটা করা উচিত, তখনই করি। না হলে যত বড় কাজই হোক, সম্মান রেখেই না করে দিই।’
সিনেমা করতে চান বুঝেশুনে
বড়পর্দায় কাজের ক্ষেত্রেও তাড়াহুড়া করতে চান না সাদিয়া। তাঁর ভাষায়, ‘আমার কাছে মনে হয় সিনেমাটা একটু বুঝে করা উচিত। সময় নিচ্ছি। অনেক গল্প এসেছে, মিটিং হয়েছে, হচ্ছে। সব ঠিকঠাক হলেই সিনেমাটা করতে চাই। সিনেমা নিয়ে তাড়াহুড়া করতে চাই না।’
ক্যারিয়ারের শুরুতে রোমান্টিক চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান তিনি। তবে গত কয়েক বছর ধরে নিজেকে ভিন্নধর্মী চরিত্রে প্রমাণের চেষ্টা করছেন। গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘কাজলরেখা’ সিনেমার মাধ্যমে বড়পর্দায় অভিষেক হয় তাঁর। এরপর তানিম নূরের ‘উৎসব’ সিনেমায় দেখা গেছে তাঁকে। দুটি সিনেমাতেই তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।
এরপর বেশ কয়েকটি সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেলেও বেছে-শুনেই এগোতে চান সাদিয়া। তাঁর কাছে সংখ্যার চেয়ে ভালো কাজই মুখ্য।
ওয়েবেও ব্যস্ততা
বড়পর্দার পাশাপাশি ওয়েব কনটেন্টেও কাজ করছেন সাদিয়া আয়মান। অমিতাভ রেজার ওয়েব ফিকশন ‘লাভ সিটার’-এ অভিনয় করেছেন তিনি। পোষা একটি বিড়ালকে ঘিরে আবর্তিত হয়েছে রোমান্টিক ঘরানার গল্পটি। অমিতাভ রেজার সঙ্গে যৌথভাবে এটি পরিচালনা করেছেন মুশফিকা মাসুদ।
এ ছাড়া ‘মায়াশালিক’, ‘স্বপ্নভূক’ থেকে ‘বিভাবরী’—প্রায় সাত বছরের ক্যারিয়ারে বেশ কয়েকটি ওয়েব সিনেমায় অভিনয় করেছেন সাদিয়া।
‘আমি নিজের কাছে কুইন’
অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিজীবনেও নিজের স্বাধীনতাকে গুরুত্ব দেন সাদিয়া। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়া এবং নিজের পায়ে দাঁড়ানোতেই তাঁর আত্মবিশ্বাস।
সাদিয়া বলেন, ‘আমি নিজের কাছে কুইন। সব সময়ই নিজেকে কুইন মনে করি। আর শুধু আমি না, প্রতিটি মেয়েই নিজেদের কুইন ভাবতে পছন্দ করে। আমি সেলফ ডিপেন্ডেন্ট একজন নারী। অভিনয়ই আমার পেশা। নিজের আয় দিয়ে নিজের খরচ নিজেই চালাই, চলাফেরা, শপিং, ঘোরা—সব করি নিজের মতো করে। তাই আমি নিজেকে কুইন বলি।’
তিনি মনে করেন, প্রতিটি মেয়েরই সমাজে স্বাধীনভাবে নিজের পরিচয় তৈরি করার সুযোগ থাকা উচিত। কাজ, আত্মবিশ্বাস ও ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্য দিয়েই নিজেকে আরও শক্ত অবস্থানে দেখতে চান এই অভিনেত্রী।