বিনোদন ডেস্ক | রবিবার, ২১ জুন ২০২৬ | প্রিন্ট | ২০ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একটি সাফল্যের পালক যুক্ত হলো বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে। চীনে অনুষ্ঠিত ২৮তম সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সম্মানজনক পুরস্কার অর্জন করেছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ‘সাঁকোটা দুলছে’ যার আন্তর্জাতিক নাম ‘দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট’।
উৎসবের এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট প্রতিযোগিতা বিভাগে চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণের জন্য *সেরা সিনেফটোগ্রাফারের পুরস্কার জিতেছেন সামিউল করিম সপ্তক। শনিবার অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানে তাঁর পক্ষে পুরস্কার গ্রহণ করেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক ইশতিয়াক আহমাদ জিহাদ এবং প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক।
এবারের আসরে এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট বিভাগে সেরা চলচ্চিত্রের স্বীকৃতি পেয়েছে চীনের ‘হার ফার্স্ট টেস্ট’। একই চলচ্চিত্রের জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন মা ফুফু। অন্যদিকে থাইল্যান্ডের ‘নাইন টেমপলস টু হেভেন’ চলচ্চিত্রের জন্য সেরা পরিচালকের পুরস্কার পেয়েছেন সোমপোট চিডগাসর্নপংসে। একই ছবির জন্য সেরা অভিনেতার সম্মাননা অর্জন করেছেন সোমপোপ সংকাম্পোল।
‘সাঁকোটা দুলছে’ নির্মাতা ইশতিয়াক আহমাদ জিহাদের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। একই সঙ্গে এটি প্রযোজক মনোজ প্রামাণিকেরও প্রথম ফিচার ফিল্ম। মনোজের প্রতিষ্ঠান **মনপাচিত্র** এবং মোগাদর ফিল্মস যৌথভাবে সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে। সহযোগী প্রযোজক হিসেবে যুক্ত ছিলেন জার্মান প্রযোজক ক্রিস্টোফ থোকে। এছাড়া পরামর্শক প্রযোজক হিসেবে ছিলেন আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত চলচ্চিত্র সমালোচক ও প্রোগ্রামার ডার্সি প্যাকুয়েট। সহপ্রযোজকের দায়িত্ব পালন করেছেন ফজলে হাসান শিশির।
গ্রামীণ বাংলাদেশের পটভূমিতে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে তিন নারীর জীবনসংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়েছে। কুসংস্কার, পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা ও নানা সামাজিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে তাদের মুক্তির আকাঙ্ক্ষা গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে এক অন্ধ তরুণীর স্বপ্নপূরণের সংগ্রাম এবং একটি রহস্যময় হাতির সঙ্গে তার সাক্ষাৎ চলচ্চিত্রটির বয়ানে ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।
সাদাকালো চিত্রভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্রটি নারীর স্বাধীনতা, সামাজিক নিয়ন্ত্রণ, বিশ্বাস ও অস্তিত্বের প্রশ্নকে কাব্যিক ও প্রতীকী আঙ্গিকে উপস্থাপন করেছে। ছবির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানজিদা আক্তার স্বর্ণা, তাহমিদা রহমান তৌহিদা, সুমাইয়া হক, অশোক ব্যাপারী, সাবিহা জামান, পঙ্কজ মজুমদার, মুনসিফ মিম এবং নিশাত তাসনিম।
সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মতো মর্যাদাপূর্ণ মঞ্চে বাংলাদেশের একটি চলচ্চিত্রের এই স্বীকৃতি দেশের স্বাধীনধারার চলচ্চিত্র নির্মাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।