শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

নবায়ন হবে নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমঝোতা স্মারক

জাতীয় ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ২১ জানুয়ারি ২০২৫   |   প্রিন্ট   |   ১৪৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নবায়ন হবে নদী ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমঝোতা স্মারক

বাংলাদেশ ও চীনের শীর্ষ কূটনীতিক পর্যায়ের বৈঠক আজ মঙ্গলবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত হবে। চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর আমন্ত্রণে বৈঠকে যোগ দিতে চীনে গেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। এদিকে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনার বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে ব্রহ্মপুত্রের উজানে ইয়ালুজাংবু নদীতে একটি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করছে চীন। এ জন্য ইয়ালুজাংবু-যমুনা নদীর তথ্যউপাত্ত বিনিময়ের ব্যাপারে বাংলাদেশ ও চীন ওই সমঝোতা স্মারকে সই করতে যাচ্ছে। এ ছাড়া গুরুত্ব পাবে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন।

গতকাল সোমবার দুপুরে প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফরে চীনের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। তিন দিনের সফর শেষে আগামী শুক্রবার তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে। সফরে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পাশাপাশি চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও এবং চীনের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগিতা সংস্থার (সিডকা) চেয়ারম্যান লাও ঝাওহুইয়ের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি।

পরে বেইজিং থেকে সাংহাই যাবেন। সেখানে সাংহাই ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে (এসআইআইএস) একটি আলোচনায় অংশ নেবেন তৌহিদ হোসেন। পাশাপাশি উপদেষ্টা সাংহাই চেম্বারের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পরে বৈদ্যুতিক গাড়ি, রোবোটিক্স ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ বিষয়ক তিনটি কারখানা পরিদর্শনে যাবেন।

দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় বাংলাদেশের গুরুত্বের তালিকায় রয়েছে চীনের ঋণ সহায়তার ক্ষেত্রে নানা ধরনের ছাড়, স্বাস্থ্য এবং পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা। অন্যদিকে, চীন বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগে (জিডিআই) বাংলাদেশকে সম্পৃক্ত, ঢাকায় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপন ও চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স থেকে উড়োজাহাজ বিক্রির বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।

সফরে ঋণ সহযোগিতায় ছাড় ও শুল্কমুক্ত সুবিধার ব্যাপ্তি বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেবে বাংলাদেশ। এর পাশাপাশি প্রতিটি প্রকল্পে আর্থিক বরাদ্দের পরিমাণ বাড়ানোর অনুরোধ জানাবে। সিডকার মাধ্যমে বাংলাদেশ চীন থেকে ক্রেতার অগ্রাধিকারমূলক ঋণ (পিবিসি) ও সরকারি ছাড়কৃত ঋণ (জিসিএল) এই দুই ধরনের ঋণ নিয়ে থাকে। এখন পিবিসির জন্য ২ শতাংশ হারে সুদ দিতে হয়। যেটা এই সফরে ১ শতাংশে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ। এই ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ২০ বছর হলেও বাংলাদেশ তা ৩০ বছরে নেওয়ার অনুরোধ করছে। আর জিসিএলের সুদের হার ৩ থেকে ২ শতাংশ এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা বাংলাদেশ ২০ থেকে ৩০ বছর করতে আগ্রহী।

বাংলাদেশের প্রতিটি প্রকল্পে সর্বোচ্চ ৩৫০ মিলিয়ন ডলার ঋণ দেয় সিডকা। এখন প্রতি প্রকল্পে বরাদ্দের পরিমাণ পাঁচশ থেকে ছয়শ মিলিয়ন ডলার করার প্রস্তাব দিচ্ছে। আর চীনের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা আরও তিন বছর বাড়াতে অনুরোধ জানাবেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

এই সফরে চীনের পক্ষ থেকে ঢাকায় চীনা সাংস্কৃতিক কেন্দ্র স্থাপনের কাজ এগিয়ে নিতে অনুরোধ জানানো হবে। বাংলাদেশের কাছে চায়না সাউদার্ন এয়ারলাইন্স বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ বিক্রি করার বিষয়ে আলোচনা করছে। এই সফরে চীন এ বিষয়টি তুলবে। অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে মোংলা বন্দর আধুনিকায়নের কাজ দেওয়া হয়েছিল চীনকে। কিন্তু প্রক্রিয়াগত প্রস্তুতি শেষ না হওয়ায় এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। এবারের সফরে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করে মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন প্রকল্পের কাজ শুরুর তাগিদ দিতে পারে চীন।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম