শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

‘ছাত্র সমাজের’ নবান্ন অভিযান ঘিরে টানটান উত্তেজনা, সতর্ক পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ২৭ আগস্ট ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১১৪ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

‘ছাত্র সমাজের’ নবান্ন অভিযান ঘিরে টানটান উত্তেজনা, সতর্ক পুলিশ

আর জি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পদত্যাগের দাবিতে আজ মঙ্গলবার সচিবালয় নবান্নমুখী অভিযানের ডাক দিয়েছে অরাজনৈতিক সংগঠন ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাত্রসমাজ’। ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে অপরাধীদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি এবং রাজ্যে নারীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এই অভিযানের ডাক দেওয়া হয়েছে। অভিযান ঘিরে একদিকে যেমন রাজনৈতিক মহলে রয়েছে টানটান উত্তেজনা অন্যদিকে নবান্ন অভিযানে সতর্ক রাজ্য প্রশাসন।

নবান্ন অভিযানে কলকাতা ও হাওড়া থেকে একাধিক মিছিল আসার কথা। কলকাতায় প্রতিবাদকারীদের মিছিল আটকাতে ২৫ জন উপ-নগরপাল পদমর্যাদার অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। হাওড়া সেতুর কলকাতার দিকের অংশসহ পাঁচ জায়গায় থাকছে অ্যালুমিনিয়ামের গার্ডওয়াল। যার সঙ্গে থাকবে কাঠের সিজার ব্যারিকেড। হাওড়ার দিকে নবান্নে যাওয়ার পথে চার জায়গায় লোহার ব্যারিকেড তৈরি করা হচ্ছে। বিক্ষোভকারীদের ধাক্কায় যাতে সেগুলি উপড়ে না আসে, সে কারণে রাস্তায় গর্ত খুঁড়ে বড় লোহার পাইপের সঙ্গে ব্যারিকেডগুলো ঝালাই করে দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, কলকাতায় কলেজ স্কয়ার থেকে একটি মিছিল শুরু হওয়ার কথা। শিয়ালদহ স্টেশন এবং শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রতিবাদীরা সেখানে জমায়েত হয়ে, মহাত্মা গান্ধী রোড এবং হাওড়া সেতু ধরে নবান্নের দিকে যেতে পারেন। প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, হাওড়া সেতুর আগেই মহাত্মা গান্ধী রোড এবং স্ট্র্যান্ড রোডের সংযোগস্থলে এই মিছিলটি আটকানো হবে। তার জন্য সেখানে থাকছে লোহার গার্ডরেল এবং সিজার ব্যারিকেড। হাওড়া সেতুতে ওঠার ঠিক মুখে রাখা হচ্ছে অ্যালুমিনিয়ামের ব্যারিকেড এবং কাঠের গুঁড়ি।

অন্য দিকে, হাওড়ার সঙ্গে কলকাতার যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ বিদ্যাসাগর সেতুতে যাতে কোনও মিছিল উঠতে না পারে, সে জন্য সেতুতে ওঠার সমস্ত রাস্তায় থাকবে ব্যারিকেড। টার্ফ ভিউ রোড, হেস্টিংস মাজার, ফারলং গেট ও খিদিরপুর রোড থাকছে অ্যালুমিনিয়ামের গার্ডওয়াল। এছাড়া, বিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদীদের ঠেকাতে মজুত রাখা হচ্ছে পাঁচটি জলকামান। পাঁচ জায়গায় মোতায়েন থাকবে কলকাতা পুলিশের বিশেষ বাহিনী। নজরদারি চলবে ড্রোনের মাধ্যমেও।

এর পাশাপাশি হাওড়াতেও থাকছে কঠোর পুলিশি টহল। কোনা এক্সপ্রেসওয়ের সাঁতরাগাছি সেতুর গ্যারাজ মোড়, আন্দুল রোডের লক্ষ্মীনারায়ণতলা, ফোরশোর রোড ও রামকৃষ্ণপুর লঞ্চঘাটমুখী রাস্তার সংযোগস্থল এবং জিটি রোডের বঙ্গবাসী মোড় ও মল্লিকফটকের সংযোগস্থল- এই চার জায়গায় থাকছে লোহার ত্রিস্তরীয় ব্যারিকেড। মোতায়েন করা হচ্ছে দু’হাজারের বেশি পুলিশকর্মী। থাকছেন চারজন এডিজি পদমর্যাদার পুলিশ অফিসারসহ ১৩ জন ডিআইজি এবং ১৫ জন পুলিশ সুপার পদমর্যাদার কর্মকর্তা। প্রস্তুত রাখা হচ্ছে চারটি জলকামান। প্রতিটি ব্যারিকেডের সামনে লাগানো হয়েছে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ক্যামেরা। পুলিশ জানিয়েছে- মিছিলের সম্ভাব্য পথগুলোতে থাকছে আরও ১০০টি অতিরিক্ত ক্যামেরা। বেলা ১১টার পর থেকে সমস্ত রাস্তায় যানবাহন নিয়ন্ত্রণ শুরু হবে।

নবান্ন অভিযানের প্রস্তুতি নিয়ে সোমবার হাওড়া শরৎ সদনে এডিজি (বাঁকুড়া রেঞ্জ) সিসরাম ঝাঝারিয়ার নেতৃত্বে পুলিশের বৈঠক হয়। উপস্থিত ছিলেন হাওড়ার নগরপাল প্রবীণ ত্রিপাঠী-সহ রাজ্য পুলিশ ও হাওড়া সিটি পুলিশের কর্তারা। আজকের অভিযানের মোকাবিলায় বিভিন্ন পুলিশ কমিশনারেট ও জেলা থেকে অতিরিক্ত বাহিনী আনা হয়েছে। তবে মিছিলের বিস্তারিত সম্পর্কে ‘পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজ’-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাদের পক্ষ থেকে কোনো কিছু জানানো হয়নি।

গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার স্বাতী ভাঙ্গালিয়া বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ যা করণীয়, সেই মতো পদক্ষেপ করবে।

সিপিএমের হাওড়া জেলা কমিটির দাবি, পশ্চিমবঙ্গ ছাত্র সমাজকে মদতদ দিচ্ছে বিজেপি।

সিপিএমের জেলা সম্পাদক দিলীপ ঘোষ বলেন, বিজেপি ছাত্র সমাজের নামে এই অভিযান করছে। সাধারণ মানুষ এবং ছাত্র সমাজ যেভাবে পথে নেমেছেন আমরা তাঁদের সঙ্গে আছি।

একই মন্তব্য করেছেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি পলাশ ভান্ডারী। বিজেপির পাল্টা দাবি, এই অভিযানের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

বিজেপির হাওড়া গ্রামীণ জেলা সভাপতি অরুণ উদয় পাল চৌধুরী বলেন, এই অভিযানের ডাক বিজেপি দেয়নি। নৈতিক সমর্থন থাকলেও দল হিসেবে বিজেপি এতে যোগ দেবে না।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম