রবিবার ২১শে এপ্রিল, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ | ৮ই বৈশাখ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

নিপীড়িতদের সুরক্ষায়ও ধর্মীয় বিভাজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   41 বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

নিপীড়িতদের সুরক্ষায়ও ধর্মীয় বিভাজন

গত ৮ মার্চের পর থেকে রাতে ঘুমাতে পারেন না মোহাম্মদ হামিম। ওই দিন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্য মণিপুরের সরকার রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার ঘোষণা দেয়।

নরেন্দ্র মোদির ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিরেন সিং সামাজিক মাধ্যম এক্সে জানান, ভারতে অবৈধভাবে প্রবেশ করা ৭৭ রোহিঙ্গার একটি গ্রুপ থেকে তারা আটজনকে বিতাড়িত করতে যাচ্ছেন। পরবর্তী সময়ে মিয়ানমার সরকার এটা স্থগিত করে দেয়। তারা ভারতের সঙ্গে কাজ করতে অসম্মতি প্রকাশ করে।

গতকাল বুধবার আলজাজিরার প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। হামিম ২০১৮ সালে ভারতে প্রবেশ করেন। বর্তমানে তিনি মণিপুর থেকে ১ হাজার ৫০ কিলোমিটার দূরে দিল্লিতে অবস্থান করছেন। ২৬ বছরের হামিম ভারতের রাজধানীতে ব্যবসা প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের চেষ্টা করছেন। এখন টেলিভিশন আর সামাজিক মাধ্যমে তাঁর গভীর দৃষ্টি। তিনি উদ্বিগ্ন তাঁর সম্প্রদায়ের কাউকে সরকার বিতাড়িত করে দিয়েছে কিনা।

হামিম বলেন, বিতাড়িত করার খবরে মিয়ানমার থেকে ভারতে আসা অধিকাংশ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তারা চিন্তিত, পরবর্তী সময়ে কাকে বিতাড়নের শিকার হতে এবং ফিরে গিয়ে সহিংসতা ও রক্তপাতের মুখে পড়তে হয়।

ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে বা সিএএতে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের নির্যাতিত হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পার্সি ও খ্রিষ্টানের কথা বলা হয়েছে। ২০১৫ সালের আগে থেকে ভারতে অবস্থান করলে তাদের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। কিন্তু এতে রোহিঙ্গাদের কথা নেই। ভারতের আশপাশে সবচেয়ে নিপীড়ন-নির্যাতনের শিকার জনগোষ্ঠী এ রোহিঙ্গা, যাদের অধিকাংশই মুসলিম। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক রোহিঙ্গা মানবাধিকারকর্মী বলেন, ‘উল্লিখিত তিন দেশের মতো আমরাও ধর্মীয় নিপীড়নের শিকার। বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ মিয়ানমারে আমরাও সংখ্যালঘু। কিন্তু ভারত সরকারের এ নিয়ে কোনো উদ্বেগ নেই। কারণ, আমরা মুসলিম।’

ভারত ১৯৫১ সালের জাতিসংঘের শরণার্থী নীতিমালায় সই করা দেশ নয়। ওই নীতিমালায় শরণার্থীদের অধিকার নিয়ে বলা হয়েছে। পাশাপাশি তাদের প্রতি রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েও বলা হয়েছে। শরণার্থী সুরক্ষায় দক্ষিণ এশিয়ার এ দেশটিতে কোনো আইনও নেই।

বেড়া নির্মাণে ৩৭০ কোটি ডলার

মিয়ানমারের সঙ্গে ১ হাজার ৬১০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্তে বেড়া নির্মাণ করতে ভারত সরকার প্রায় ৩৭০ কোটি মার্কিন ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা করেছে। এক দশক সময় লেগে যাবে এ কাজ শেষ হতে।

রয়টার্স জানায়, এ বছরের শুরুতে দিল্লি মিয়ানমারের সঙ্গে তাদের কয়েক দশকের পুরোনো ভিসামুক্ত চলাচল নীতি থেকে সরে আসে এবং সংঘাতময় প্রতিবেশী দেশটির সীমান্তে বেড়া নির্মাণের ঘোষণা দেয়।

এর কারণ ব্যাখ্যায় ভারত সরকার বলেছে, তারা সীমান্ত এলাকায় বসবাস করা নিজেদের নাগরিকদের নিরাপত্তা ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভূপ্রাকৃতিক অবকাঠামো ঠিক রাখতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ মাসের শুরুতে ভারত সরকারের একটি কমিটি সীমান্ত বেড়া নির্মাণ ব্যয়ে অনুমোদন দেয়।

Facebook Comments Box

Posted ১১:৩৮ পূর্বাহ্ণ | বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪

nykagoj.com |

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

advertisement
advertisement
advertisement

ক্যালেন্ডার

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম
Contact

+1 845-392-8419

E-mail: nykagoj@gmail.com