শুক্রবার ৫ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২২শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের সেনা কমান্ড সেন্টারে হিজবুল্লাহর হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক   |   মঙ্গলবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৪   |   প্রিন্ট   |   ১৫০ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

প্রথমবারের মতো ইসরায়েলের সেনা কমান্ড সেন্টারে হিজবুল্লাহর হামলা

লেবাননে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধে ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে প্রথমবারের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক কমান্ড সেন্টারে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত লেবাননের শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। মঙ্গলবার উত্তর ইসরায়েলের ওই সেনা ঘাঁটিতে বিস্ফোরক বোঝাই ড্রোন হামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি।

এর আগে, সোমবার লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলের বিমান হামলায় হিজবুল্লাহর অভিজাত শাখা রাদওয়ান ফোর্সের জ্যেষ্ঠ কমান্ডার উইসাম আল-তাবিলসহ অন্তত তিন যোদ্ধা নিহত হন। এই হামলার পর ইসরায়েলকে চড়া মাশুল দিতে হবে বলে হুমকি দিয়েছে হিজবুল্লাহ। মঙ্গলবার উত্তর ইসরায়েলে সামরিক ঘাঁটিতে হামলা সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডের প্রতিশোধে চালানো হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছে তারা।

গোষ্ঠীটি বলেছে, গত সপ্তাহে বৈরুতে হামাসের উপপ্রধান সালেহ আল-অরৌরি এবং সোমবার হিজবুল্লাহ কমান্ডারকে হত্যার প্রতিশোধের অংশ হিসেবে সাফেদে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর সদরদপ্তরে ড্রোন হামলা করা হয়েছে।

হিজবুল্লাহর হামলার বিষয়ে অবগত একটি সূত্র বলেছে, তিন মাস আগে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলে হামাসের হামলা শুরুর পর প্রথমবারের মতো সীমান্ত থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার (৮ মাইল) দূরে ইসরায়েলের সাফেদে হামলা চালিয়েছে হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্র বলেছেন, উত্তরের একটি সামরিক কমান্ড সেন্টারে ড্রোন আঘাত হেনেছে। কিন্তু সেখানে কোনও ক্ষয়ক্ষতি কিংবা হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে হামলার এই ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে তা নির্দিষ্ট করে জানাননি তিনি।

ইসরায়েল-লেবানন সীমান্ত এলাকায় এবারের এই সংঘাত ২০০৬ সালের ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। হামাসের সাথে ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রায় প্রত্যেক দিন ইসরায়েলি সামরিক চৌকি ও ভূখণ্ডে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আসছে হিজবুল্লাহ।

জবাবে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করছে। সাম্প্রতিক সংঘাতে ইসরায়েলের হামলায় লেবাননে এখন পর্যন্ত হিজবুল্লাহর ১৩০ জনের বেশি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। বিক্ষিপ্ত সংঘর্ষ আর হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় সীমান্তে উভয় প্রান্তের লাখ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছেন। সম্প্রতি উভয় পক্ষের হামলা বৃদ্ধি পাওয়ায় গাজা যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, মঙ্গলবারও দক্ষিণ লেবাননের ঘান্দৌরিয়েহ শহরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এ সময় হিজবুল্লাহর যোদ্ধাদের একটি গাড়িতে বিস্ফোরণে অন্তত তিনজন নিহত হয়েছেন।

এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বলেছে, ইসরায়েলের বিমান বাহিনী লেবাননের সীমান্ত লাগোয়া কেফার কিলা গ্রামে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননের অন্য একটি এলাকায় হিজবুল্লাহর একটি ড্রোন স্কোয়াডকেও বিমান থেকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে হিজবুল্লাহর উপপ্রধান নাঈম কাশেম বলেছেন, তারা লেবানন থেকে যুদ্ধের সম্প্রসারণ ঘটাতে চান না। তবে ইসরায়েল যদি যুদ্ধের সম্প্রসারণ ঘটায়, তাহলে ইসরায়েলকে স্তব্ধ করার জন্য হিজবুল্লাহর সর্বোচ্চ প্রতিক্রিয়া অনিবার্য।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম