ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান সংঘাতের প্রভাবে অস্থির হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজার। সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে সংকটের কারণে বাড়ছে তেলের দাম। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বিভিন্ন দেশের সাধারণ মানুষের জীবনে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে ইতোমধ্যে পর্তুগাল, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, সিরিয়া ও গুয়াতেমালায় বিক্ষোভ হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর থেকে বিশ্ব তেল বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে সংঘাতের শুরুর দিকে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। পরে কিছুটা কমলেও সৌদি আরবের সঙ্গে সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে বাব আল-মানদেব প্রণালির পরিস্থিতি বদলে যাওয়ায় তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।
পর্তুগাল
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে গত সপ্তাহে পর্তুগালে রাস্তায় নামেন গাড়িচালকেরা। ধীরগতিতে গাড়ি চালানো এবং হর্ন বাজিয়ে প্রতিবাদ জানান তারা।
এতে রাজধানী লিসবনের ‘২৫ দে এপ্রিল’ সেতুসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়।
সিরিয়া
জ্বালানির দাম সর্বোচ্চ ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সিরিয়া সরকার। ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এর প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন সাধারণ মানুষ।
গত রোববার ও সোমবার দেশটির বিভিন্ন শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভকারীরা যান চলাচল বন্ধ করে দেন এবং সড়কে টায়ারে আগুন জ্বালান। কেউ কেউ জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আত্মদাহের হুমকিও দিয়েছেন।
তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানির দাম বাড়ানো ছাড়া সরকারের সামনে আর কোনো বিকল্প ছিল না বলে জানিয়েছে সিরিয়া সরকার।
ইন্দোনেশিয়া
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে ইন্দোনেশিয়ায়ও জ্বালানি সংকট তীব্র হয়েছে। রাজধানী জাকার্তায় জ্বালানি না পেয়ে অনেককে মোটরসাইকেল ঠেলে নিয়ে যেতে দেখা গেছে। বিভিন্ন পেট্রলপাম্পের সামনে তৈরি হয়েছে দীর্ঘ যানজট।
সংকট মোকাবিলায় গাড়ির নম্বরপ্লেট জোড় না বিজোড়—তার ভিত্তিতে জ্বালানি সরবরাহের নিয়ম চালু করেছে সরকার। এর প্রতিবাদে গত সোমবার বিক্ষোভ করেন ট্যাক্সিচালকেরা।
জাভার জোগাকার্তায়ও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সেখানে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সোমবার বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।
ফিলিপাইন
ফিলিপাইনেও জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। দেশটির ম্যানিলা উপসাগরের জেলেরা ডিজেল ও গ্যাসচালিত নৌকায় মাছ ধরেন। জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সাগরে মাছ ধরতে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য।
মৎস্যজীবীদের একটি সংগঠনের চেয়ারম্যান ফার্নান্দো হিকাপ বলেন, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের ‘দম বন্ধ হয়ে যাওয়ার’ মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
শ্রীলঙ্কা
শ্রীলঙ্কায় সরকার প্রতি মাসে জ্বালানির দাম নির্ধারণ করে। তবে সামনে দাম বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কায় পেট্রলপাম্পে জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সরবরাহ সীমিত করতে শুরু করেছে।
দেশটির পেট্রলপাম্প মালিকদের সংগঠনের চেয়ারম্যান কুমারা রাজাপক্ষ সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, জ্বালানি বিক্রি করে তারা লোকসান গুনছেন।
গুয়াতেমালা
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে গুয়াতেমালার কৃষিখাতেও। ট্রাক্টরসহ বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র চালাতে ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হয় কৃষকদের।
সম্প্রতি রাজধানী গুয়াতেমালা সিটিতে জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে মিছিল করেন পরিবহনশ্রমিক ও আদিবাসী অধিকারকর্মীরা। কয়েক দিন পর রাজধানীর দক্ষিণে ভিয়া নুয়েভা এলাকায় ধারণ করা একটি ভিডিওতে কয়েকটি গাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বিভিন্ন দেশে।
তথ্যসূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস