নিজস্ব প্রতিবেদক | শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩২ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
দীর্ঘ দুই বছর পর আবারও বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে শান্ত তিতাস নদী। শরতের পড়ন্ত বিকেলে বর্ণিল নৌকা বাইচ দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় করেন হাজারো দর্শনার্থী। মাঝিদের বৈঠার ছন্দ আর দর্শকদের উচ্ছ্বাসে তিতাসপাড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবের আবহ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে তিতাস নদীতে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। এতে প্রথম স্থান অর্জন করে সদর উপজেলার ক্ষমতাপুর গ্রামের শাপলা বয়েজ ক্লাবের নৌকা।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০২৩ সালে তিতাস নদীতে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ বিরতির পর এবার আয়োজন হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে।
বিকেল সাড়ে ৩টায় প্রতিযোগিতা শুরু হলেও দুপুরের আগেই নদীর দুই তীরে দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে থাকে। প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার পর শিমরাইলকান্দি থেকে মেড্ডা পর্যন্ত তিতাসের দুই পাড় লোকারণ্য হয়ে ওঠে।
এবারের প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ৯টি নৌকা অংশ নেয়। বাহারি রঙের নৌকা ছুটে চলার সঙ্গে সঙ্গে মাঝিদের বৈঠার গর্জনে বাড়তে থাকে উত্তেজনা। দুই তীরে দাঁড়িয়ে করতালি ও উল্লাসে প্রিয় দলকে উৎসাহ দেন দর্শনার্থীরা।
জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, নৌকা বাইচ এখানকার মানুষের প্রাণের উৎসব। আগামী বছর থেকে আরও জমজমাটভাবে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব বলেন, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও এখানকার সংস্কৃতি নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। নৌকা বাইচের এ আয়োজনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি সাংস্কৃতিক রাজধানী।
তিনি আরও বলেন, নৌকা বাইচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যের অংশ। মানুষ প্রতিবছর এ আয়োজন চায়। আগামী বছর থেকে নিয়মিতভাবে নৌকা বাইচ আয়োজন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছি।
প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শরিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন চন্দ্র দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক ও সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লাসহ অনেকে।