শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

পাসপোর্টই ছিল না, গ্রামে খুঁজতে গেলেন কোচ—ইংল্যান্ডে গিয়ে ৪ বলেই রুটকে ফেরালেন রাজাউল্লাহ

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩১ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

পাসপোর্টই ছিল না, গ্রামে খুঁজতে গেলেন কোচ—ইংল্যান্ডে গিয়ে ৪ বলেই রুটকে ফেরালেন রাজাউল্লাহ

দুই সপ্তাহ আগেও পাকিস্তানের ঘরোয়া ক্রিকেটের বাইরে খুব কম মানুষই চিনতেন রাজাউল্লাহকে। অথচ ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এজবাস্টন টেস্টে অভিষেকেই মাত্র চার বলের মধ্যে জো রুটকে ফিরিয়ে দিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ২১ বছর বয়সী এই পেসার।

রাজাউল্লাহর ইংল্যান্ডে পৌঁছানোর গল্পটাও সিনেমার চিত্রনাট্যের মতো। তৃতীয় টেস্টের দলে ডাক পাওয়ার সময় তার কাছে নাকি কোনো পাসপোর্টই ছিল না।

নির্বাচকেরা তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। কারণ, জাতীয় দলের ডাক পাওয়ার সময় নিজের গ্রামের বাড়িতে ছিলেন রাজাউল্লাহ। তার মোবাইল ফোনও ছিল বন্ধ।

সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছিল। শেষ পর্যন্ত তাকে খুঁজে বের করতে গ্রামের বাড়িতে একজন কোচকে পাঠানো হয়। জরুরি ভিত্তিতে করা হয় পাসপোর্টের ব্যবস্থা, এরপর সংগ্রহ করা হয় ইংল্যান্ডের ভিসা। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিমানে করে তাকে ইংল্যান্ডে পাঠানো হয় দলের সঙ্গে যোগ দিতে।

ইংল্যান্ডে পৌঁছে অবশ্য বিশ্রামের সুযোগ পাননি এই তরুণ। এজবাস্টনে তাকে সরাসরি একাদশে নামিয়ে দেয় পাকিস্তান।

মাঠে নেমেই নিজের সামর্থ্যের জানান দেন রাজাউল্লাহ। টেস্ট ক্যারিয়ারের মাত্র চতুর্থ বলেই ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ও তারকা ব্যাটার জো রুটকে এলবিডব্লিউ করে ফেরান তিনি।

শুধু উইকেট নয়, গতিতেও নজর কাড়েন রাজাউল্লাহ। প্রথম দুই ওভারে ঘণ্টায় ৯২ মাইল পর্যন্ত গতি তুলেছিলেন তিনি। তার কোনো বলই ৮৯ মাইলের নিচে ছিল না।

দিনের শেষভাগে আবারও আঘাত হানেন এই পেসার। হাফ-সেঞ্চুরি করে বেশ থিতু হয়ে যাওয়া ইংলিশ ওপেনার এমিলিও গেকে বোল্ড করে তুলে নেন দ্বিতীয় উইকেট।

প্রথম দিন শেষে ইংল্যান্ডের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৫৬ রান। পাকিস্তানের ১৩৩ রানের জবাবে ২৩ রানে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকরা।

ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বদলে দিতে না পারলেও রাজাউল্লাহর অভিষেক পাকিস্তান ক্রিকেটে নতুন আশার আলো দেখিয়েছে। গতি, আগ্রাসন ও আন্তর্জাতিক ব্যাটারদের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাস—সবকিছুরই ঝলক দেখা গেছে তার বোলিংয়ে।

বড় ক্রিকেটে রাজাউল্লাহর পথচলা অবশ্য খুব বেশি দিনের নয়। গত নভেম্বরে কায়েদ-ই-আজম ট্রফিতে পেশোয়ারের হয়ে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হয় তার। এর আগে মারদান জেলা দলের হয়ে ক্রিকেটে হাতেখড়ি।

কোয়েটায় একটি অনানুষ্ঠানিক টুর্নামেন্টে তার প্রতিভা প্রথম নজরে আসে পেশোয়ার অঞ্চলের কোচ আব্দুল রেহমানের। পরে ন্যাশনাল ক্রিকেট একাডেমিতে রাজাউল্লাহর বোলিং দেখে মুগ্ধ হন পিসিবির হাই-পারফরম্যান্স ডিরেক্টর আকিব জাভেদ।

এরপর আগস্টের শেষদিকে পিসিবির ফাস্ট-বোলিং ক্যাম্পে ডাক পান তিনি। জাতীয় দলের কাঠামোর সঙ্গে কাজের সুযোগ পাওয়া ১২ জন পেসারের একজন ছিলেন রাজাউল্লাহ।

বিকল্প খেলোয়াড় হিসেবে ইংল্যান্ড সফরের দলে জায়গা পাওয়া রাজাউল্লাহর আন্তর্জাতিক অভিষেক তাই রীতিমতো নাটকীয়। পাসপোর্ট ছাড়াই শুরু হয়েছিল যাত্রা, তাকে খুঁজতে গ্রামে পাঠাতে হয়েছিল কোচকে। আর ইংল্যান্ডে পৌঁছে মাত্র চার বলেই জো রুটের উইকেট তুলে নিয়ে নিজের আগমনী বার্তা দিয়ে দিয়েছেন এই তরুণ পেসার।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম