ডেস্ক রিপোর্ট | বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪৩ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কানাডার সঙ্গে চলমান তীব্র বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই দেশটির মোটরসাইকেল, অ্যালকোহল ও বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।
হোয়াইট হাউজের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের মার্কিন পণ্যে কানাডা পাল্টা শুল্ক আরোপ করার পরই ওয়াশিংটন এ কঠোর পদক্ষেপ নিল। এর আগে কয়েক দফা দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর গত মাসে প্রায় ২ হাজার কোটি ডলারের কানাডীয় পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবেই পাল্টা ব্যবস্থা নেয় অটোয়া।
ট্রাম্প মহামন্দার সময়কার একটি পুরোনো আইনের আওতায় শুল্ক আরোপ করায় কানাডা ইউএসএমসিএ চুক্তির অধীনে শুল্কমুক্ত সুবিধা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় কানাডার বিয়ার, ওয়াইন, হুইস্কি, ভদকা ও রামসহ অধিকাংশ অ্যালকোহলজাত পণ্য রয়েছে। দুগ্ধজাত পণ্যের মধ্যে হুই প্রোটিন, বিশেষ ধরনের গুড় ও নন-অ্যালকোহলিক বিয়ারও রয়েছে।
এ ছাড়া কানাডার বিভিন্ন ধরনের পনির, কাগজ, অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ, আসবাবপত্র ও লাইটিং সামগ্রীর ওপর ৫০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
এক মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কানাডীয় গাড়িতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫০ শতাংশ করার বিষয়ে ট্রাম্পের হুমকিও বহাল রয়েছে। পাশাপাশি মার্কিন সরকারি কেনাকাটা নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা জিএসএ’র ক্রয় প্রক্রিয়া থেকে কানাডীয় পণ্য বাদ দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার ও কানাডার দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যমন্ত্রী ডমিনিক ল্যব্লাঁর মধ্যে আলোচনা চলছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি মার্কিন বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, দেশের ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই কানাডার রয়েছে। তবে এ পরিবর্তনের জন্য কিছু মূল্য দিতে হলেও তা হাত গুটিয়ে বসে থাকার চেয়ে কম হবে।
কানাডার বাণিজ্যমন্ত্রী ল্যব্লাঁও মার্কিন পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, কানাডার শ্রমিক, কৃষক ও ব্যবসায়ীদের এই অন্যায্য সিদ্ধান্ত থেকে রক্ষা করাই সরকারের প্রথম অগ্রাধিকার।
নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে মিশিগান ও ওহাইওর মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যকে লক্ষ্য করে ইস্পাত, আসবাবপত্র, পোশাক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্যে ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে কানাডা।
‘কানাডিয়ান এগ্রি-ফুড ট্রেড অ্যালায়েন্স’-এর নির্বাহী পরিচালক মাইকেল হার্ভি বলেন, বাণিজ্য সংঘাত নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে থাকায় তারা উদ্বিগ্ন। তবে একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী কার্নির কৌশলী অবস্থানও তারা বুঝতে পারছেন।
বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যেই কানাডার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন ট্রাম্প। সম্প্রতি ট্রুথ সোশ্যালে তিনি হুমকি দিয়েছেন, কানাডীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বারডিয়ার যুক্তরাষ্ট্রে কারখানা স্থাপন না করলে দেশটিতে আর কোনো বিমান বিক্রি করতে পারবে না।
এমনকি মার্কিন পতাকায় মোড়ানো উত্তর আমেরিকার একটি মানচিত্র শেয়ার করে এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় তৈরি ছবিতে প্রধানমন্ত্রী কার্নিকে ‘গভর্নর’ বলে উপহাস করেছেন ট্রাম্প। এতে কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানানোর পুরোনো কটাক্ষই নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
এদিকে এক নির্বাহী আদেশে সই করে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা সীমান্তের ঐতিহাসিক লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ রাখার বিতর্কিত ঘোষণাও দিয়েছেন ট্রাম্প।
বাণিজ্য যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর ব্যবসায়ও। জাপানি বিয়ার প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান সাপ্পোরো তাদের নন-অ্যালকোহলিক পানীয় উৎপাদন কানাডা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানা গেছে।
কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৬৮ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে যায়। ফলে দুই দেশের বাণিজ্য সংঘাত আরও তীব্র হলে কানাডার অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে।
তবে সাম্প্রতিক জনমত জরিপে দেখা গেছে, কানাডার ৬২ শতাংশ মানুষ প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির কঠোর অবস্থানের পক্ষে রয়েছেন। অন্যদিকে রয়টার্স/ইপসোসের জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের কানাডাবিরোধী শুল্কনীতিকে সমর্থন করছেন মাত্র ২০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান