শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

১০০ বছর পর জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি মুদ্রায়, ট্রাম্পকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক

ডেস্ক রিপোর্ট   |   বৃহস্পতিবার, ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩৬ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

১০০ বছর পর জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি মুদ্রায়, ট্রাম্পকে ঘিরে তুমুল বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে নজিরবিহীন এক পদক্ষেপ নিয়েছে দেশটির টাকশাল। প্রথমবারের মতো প্রায় ১০০ বছর পর কোনো জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি যুক্ত করে বিশেষ ১ ডলারের স্মারক মুদ্রা বাজারে এনেছে ইউএস মিন্ট। মুদ্রাটিতে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতিকৃতি রয়েছে।

গত জুলাইয়ে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট মুদ্রাটির নকশা উন্মোচন করেন। এর এক পাশে ট্রাম্পের প্রতিকৃতির সঙ্গে খোদাই করা হয়েছে ‘লিবার্টি’, ‘ইন গড উই ট্রাস্ট’ এবং ‘১৭৭৬-২০২৪’ লেখা। অন্য পাশে রয়েছে প্রেসিডেন্সিয়াল সিলের নকশা এবং ‘ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা’ ও ‘ওয়ান ডলার’ লেখা।

এর আগে ১৯২৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ক্যালভিন কুলিজের ছবি মার্কিন মুদ্রায় ব্যবহৃত হয়েছিল। অর্থাৎ এক শতাব্দী পর আবারও কোনো দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের ছবি মুদ্রায় স্থান পেল।

অভিহিত মূল্য ১ ডলার, বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে

মুদ্রাটির আইনি অভিহিত মূল্য ১ ডলার হলেও ইউএস মিন্ট এটিকে মূলত সংগ্রাহকদের জন্য বাজারজাত করছে। ২৫টি মুদ্রার একটি রোল বিক্রি হচ্ছে ৬১ ডলারে। আর ১০০টি মুদ্রার একটি ব্যাগের দাম রাখা হয়েছে ১৫৪ ডলার ৫০ সেন্ট।

ক্রেতাপ্রতি সর্বোচ্চ দুটি রোল বা ব্যাগ কেনার সীমাও নির্ধারণ করা হয়েছে।

সোনালি রঙের এই মুদ্রা দেখতে অনেকটা সোনার মতো হলেও এতে কোনো মূল্যবান ধাতু নেই। ০.২৮৬ আউন্স ওজনের মুদ্রাটি মূলত ম্যাঙ্গানিজ ব্রাসের সংমিশ্রণে তৈরি।

তবে এটি দিয়ে কেনাকাটা করতে চাইলে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এই মুদ্রা গ্রহণে বাধ্য নয়। মার্কিন আইনে ব্যবসায়ীরা নিজেদের অর্থ পরিশোধের নীতি নির্ধারণ করতে পারেন।

‘জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি নিষিদ্ধ’—বিরোধীদের দাবি

ট্রাম্পের ছবি মুদ্রায় ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়ে এরই মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক ও আইনগত বিতর্ক শুরু হয়েছে। ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতাদের দাবি, প্রচলিত মার্কিন আইনে দেশটির মুদ্রা ও সিকিউরিটিজে কেবল মৃত ব্যক্তিদের প্রতিকৃতি ব্যবহারের বিধান রয়েছে।

অরেগন ও নেভাদার কয়েকজন ডেমোক্রেটিক আইনপ্রণেতা মুদ্রায় ট্রাম্পের ছবি ব্যবহারের উদ্যোগ বন্ধের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অর্থায়ন বন্ধের দাবিও জানিয়েছেন।

বিরোধীরা জর্জ ওয়াশিংটনের অবস্থানের কথাও তুলে ধরছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট ওয়াশিংটন রাজতন্ত্রের প্রতীক মনে করে মুদ্রায় নিজের ছবি ব্যবহারের বিরোধিতা করেছিলেন। তাদের মতে, জীবিত প্রেসিডেন্টের ছবি মুদ্রায় যুক্ত করা মার্কিন গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আইনের ‘ফাঁক’ ব্যবহার করেছে প্রশাসন?

সমালোচনার জবাবে ট্রাম্প প্রশাসন ও ট্রেজারি বিভাগ ২০২০ সালে পাস হওয়া ‘সার্কুলেটিং কালেক্টেবল কয়েন রিডিজাইন অ্যাক্ট’-এর একটি বিধানের ব্যাখ্যা সামনে এনেছে।

প্রশাসনের যুক্তি, ওই আইনে মুদ্রার উল্টো পিঠে জীবিত ব্যক্তির প্রতিকৃতি ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা থাকলেও সামনের অংশে একই ধরনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই। সেই ব্যাখ্যার ভিত্তিতেই ট্রাম্পের প্রতিকৃতি ব্যবহারের পথ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

তবে আইন বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মিন্টের এই ব্যাখ্যাকে আইনের ফাঁকফোকর কাজে লাগানোর চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। তাদের অভিযোগ, যথাযথ প্রক্রিয়া ও পর্যালোচনার প্রশ্ন এড়িয়ে প্রশাসনিক প্রভাব খাটিয়ে মুদ্রাটি বাজারে আনা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, আইনের অস্পষ্টতার সুযোগ নিয়ে এই উদ্যোগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা ও প্রভাবের একটি নতুন নজির তৈরি হতে পারে।

তবে মুদ্রাটির বৈধতা আদালতে চ্যালেঞ্জ করাও সহজ নয়। কারণ মামলা করার ক্ষেত্রে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা কঠিন হতে পারে।

ফলে ট্রাম্পের ছবি সংবলিত এই ১ ডলারের মুদ্রা শুধু সংগ্রাহকদের নতুন আকর্ষণই নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য, আইন ও প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা নিয়ে নতুন বিতর্কেরও জন্ম দিয়েছে।

Facebook Comments Box

এ বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম