ডেস্ক রিপোর্ট | সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
অস্ট্রেলিয়ার কাছে ইনিংস ব্যবধানে হারলেও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে যায়নি বাংলাদেশ। ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে এখনো লড়াইয়ে আছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তবে ২০২৭ সালে লর্ডসে ফাইনাল খেলতে হলে বাকি ছয় টেস্টে কঠিন সমীকরণ মেলাতে হবে বাংলাদেশকে।
২০২৫-২৭ চক্রে ৯টি দল ৭১টি টেস্ট খেলবে। পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দুই দল খেলবে ফাইনালে। সমানসংখ্যক ম্যাচ না খেলায় অবস্থান নির্ধারণ হয় পয়েন্ট শতাংশ বা পিসিটির ভিত্তিতে।
বাংলাদেশের সামনে কঠিন সমীকরণ
৬ টেস্টে ৩ জয়, ২ হার ও ১ ড্রয়ে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪০ পয়েন্ট। পিসিটি ৫৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
বাকি ছয় টেস্টের দুটি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঘরের মাঠে, দুটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাটিতে এবং দুটি ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দেশের মাটিতে।
ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার ম্যাচ জিততে পারলে বাংলাদেশের পিসিটি ৬০ শতাংশে উঠবে। তবে ফাইনালের দৌড়ে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তাদের মাটিতে অন্তত একটি জয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
চার ঘরোয়া জয়ের সঙ্গে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একটি জয় পেলে বাংলাদেশের পিসিটি দাঁড়াবে ৬৯ দশমিক ৪৪ শতাংশে। তখন ফাইনালের সম্ভাবনাও অনেকটাই উজ্জ্বল হবে।
অস্ট্রেলিয়া শীর্ষে
১০ ম্যাচে ৮ জয় ও ২ হারে ৯৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে অস্ট্রেলিয়া। তাদের পিসিটি ৮০ শতাংশ।
বাকি ১২ টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড ও ভারতের মুখোমুখি হবে তারা। ৫ জয় ও ১ ড্র পেলেই ৬০ শতাংশ পিসিটি ধরে রাখতে পারবে অস্ট্রেলিয়া।
দক্ষিণ আফ্রিকা-নিউজিল্যান্ডও এগিয়ে
৪ ম্যাচে ৩ জয় ও ১ হারে দক্ষিণ আফ্রিকার পিসিটি ৭৫ শতাংশ। বাকি ১০ টেস্টের আটটিই খেলবে ঘরের মাঠে। ৫ জয় ও ২ ড্র পেলেই তারা ৬০ শতাংশের ওপরে থাকবে।
নিউজিল্যান্ডও শক্ত অবস্থানে। ৬ ম্যাচে ৪ জয়, ১ হার ও ১ ড্রয়ে তাদের পিসিটি ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ। বাকি ১০ টেস্টের চারটিই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে।
ভারতেরও সুযোগ আছে
১০ ম্যাচে ৫ জয়, ৪ হার ও ১ ড্রয়ে ভারতের পিসিটি ৫৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বাকি আট টেস্টে শ্রীলঙ্কা, নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলবে তারা।
৬ জয় ও ২ হার হলে ভারতের পিসিটি হবে ৬২ দশমিক ৯৬ শতাংশ। ৭ জয় ও ১ হার হলে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৬৮ দশমিক ৫২ শতাংশে।
কঠিন অবস্থায় শ্রীলঙ্কা
৫ ম্যাচে মাত্র এক জয় পাওয়া শ্রীলঙ্কার পিসিটি ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ। বাকি সাত টেস্টে ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে তারা।
৬০ শতাংশে উঠতে অন্তত ৬ জয় অথবা ৫ জয় ও ২ ড্র প্রয়োজন। সব ম্যাচ জিতলেও তাদের সর্বোচ্চ পিসিটি হবে ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ।
ছিটকে গেছে ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তান
১৪ ম্যাচে ৫ জয়, ৮ হার ও ১ ড্রয়ে ইংল্যান্ডের পিসিটি ২৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ। স্লো ওভার রেটের কারণে ১৪ পয়েন্ট কাটা যাওয়ায় তাদের ফাইনালে ওঠার সম্ভাবনা প্রায় শেষ।
১২ ম্যাচে ২ জয়, ৮ হার ও ২ ড্রয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পিসিটি ২০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। বাকি দুই ম্যাচ দুটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে। দুই ম্যাচ জিতলেও তাদের সর্বোচ্চ পিসিটি হবে ৩২ দশমিক ১৪ শতাংশ।
পাকিস্তানের অবস্থাও কঠিন। ৭ ম্যাচে ২ জয় ও ৫ হারে তাদের পিসিটি ২২ দশমিক ২২ শতাংশ। বাকি ছয় ম্যাচের সবগুলো জিতলেও সর্বোচ্চ ৫৭ দশমিক ৫ শতাংশে উঠতে পারবে তারা।
বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘরের চার টেস্ট
ফাইনালের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্ট।
এই চার ম্যাচে পূর্ণ সাফল্য এনে দিতে পারলে ফাইনালের লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার বড় সুযোগ থাকবে শান্তদের। তবে বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণে দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের ম্যাচগুলোর ফলও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।