ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ২৭ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ঠাকুরগাঁওয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে জুয়া খেলার সময় চার পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতার করেছে সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার পাশাপাশি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
মঙ্গলবার বিকেলে গ্রেফতার চার পুলিশ সদস্যকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তারা হলেন—ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনস্টেবল মো. সোহেল রানা (৩৩), এএসআই শান্তি কুমার রায় (৩৭), কনস্টেবল মো. আলমগীর কবির (৩৩) এবং ঠাকুরগাঁও শহর পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই শাহাদত জামান (৩৯)।
পুলিশ জানায়, অভিযানের সময় পঞ্চগড় জেলা পুলিশের এএসআই মো. আতাউর রহমান (৪০) ও পিবিআই ঠাকুরগাঁওয়ের কনস্টেবল মো. শহিদুল ইসলাম (৩৮) ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, সোমবার গভীর রাতে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হলপাড়ায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মূল ভবনের উত্তর পাশের একটি পরিত্যক্ত টিনশেড ঘরে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের জুয়া খেলার খবর পায় সদর থানা পুলিশ। পরে রাত ১টার দিকে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আলমগীর রহমান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জুয়েল রানার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানের সময় জুয়ার আসরে থাকা ব্যক্তিরা পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল রানার ডান হাতের একটি আঙুল ভেঙে যায়। পরে ধাওয়া করে চার পুলিশ সদস্যকে আটক করা হয়।
অভিযানে জুয়ার আসর থেকে নগদ টাকা ও জুয়া খেলার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। গ্রেফতারদের কাছ থেকে একাধিক স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলের পাশ থেকে চারটি মোটরসাইকেলও পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. লিখন হোসেন বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পরিদর্শক (তদন্ত) সুজিত কুমার পালকে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন বলেন, গ্রেফতার পুলিশ সদস্যরা ফৌজদারি অপরাধ করেছেন এবং তাদের হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়েছে। ফৌজদারি আইনে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। পাশাপাশি পুলিশের পক্ষ থেকেও বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।