শিরোনাম >>
শিরোনাম >>
Advertise with us

গাজীপুরে দুই মাদরাসাছাত্রকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, ৩ শিক্ষক গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক   |   শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬   |   প্রিন্ট   |   ৩৩ বার পঠিত   |   পড়ুন মিনিটে

গাজীপুরে দুই মাদরাসাছাত্রকে গরম খুন্তির ছ্যাঁকা, ৩ শিক্ষক গ্রেপ্তার

গাজীপুরের গাছায় দুই মাদরাসাছাত্রকে মারধরের পর গরম লোহার খুন্তি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মাদরাসার পরিচালকসহ তিন শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের পশ্চিম ঝাঝড়ের সাক্রাউরী এলাকার আল-মাদরাসাতু দারুত তাকওয়া গাজীপুরে এ ঘটনা ঘটে। নির্যাতনের শিকার দুই শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে গাছা থানায় পৃথক মামলা করা হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

গ্রেপ্তাররা হলেন মাদরাসার পরিচালক মাওলানা শোয়াইব হোসেন (২৬), শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান (২৬) ও শিক্ষক মো. শাহিন (১৯)।

নির্যাতনের শিকার দুই শিক্ষার্থী হলো ১৩ বছর বয়সী মো. বায়েজীদ ও বোরহান আলী। তারা ওই মাদরাসার শিক্ষার্থী।

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে মাদরাসা মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সময় এক ছাত্রের পায়জামা খুলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বায়েজীদকে মারধর করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, মাদরাসার পরিচালক শোয়াইব তাকে উলঙ্গ করে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধর করেন। পরে লোহার খুন্তি গরম করে তার নিতম্বে ছ্যাঁকা দেওয়া হয়।

১০ সেপ্টেম্বর রাতে বায়েজীদ বাড়িতে ফিরলে তার বাবা নাজমুল মিয়া দেখতে পান, ছেলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতে ও বসতে পারছে না। পরে নিতম্বে পোড়ার স্পষ্ট জখমের দাগ দেখতে পান তিনি।

অপর শিক্ষার্থী বোরহানের বাবার অভিযোগ, একই ঘটনায় তার ছেলেকেও একটি কক্ষে আটকে রেখে মুখে স্কচটেপ লাগানো এবং হাত-পা দড়ি দিয়ে বাঁধা হয়। এরপর পোশাক খুলে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে মারধর করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, একপর্যায়ে মাওলানা শোয়াইব গরম লোহার খুন্তি দিয়ে বোরহানের তলপেটে ছ্যাঁকা দেন। শিক্ষক হাবিবুর রহমান ও শাহিনও গরম খুন্তি দিয়ে তার উরু, নিতম্বসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করেন।

বোরহানের বাবা জানান, ১১ সেপ্টেম্বর রাতে ছেলেকে দেখতে মাদরাসায় গেলে তাকে বলা হয়, বোরহানকে অন্য শাখায় পাঠানো হয়েছে। পরে অন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জানতে পারেন, তার ছেলে গুরুতর আহত অবস্থায় শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। পরে সেখানে গিয়ে ছেলেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দেখতে পান তিনি।

গাছা থানার ওসি গোলাম রব্বানী জানান, বায়েজীদের পরিবারের করা মামলায় মাদরাসার পরিচালক মাওলানা শোয়াইবকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করে শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। অপর শিক্ষার্থী বোরহানের বাবার করা মামলায় শনিবার হাবিবুর রহমান ও শাহিনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের রোববার আদালতে পাঠানো হবে।

Facebook Comments Box
আরও
Advertise with us

ফলো করুন nykagoj.com-এর খবর

সম্পাদক
আফরোজা ইসলাম
কন্ট্রিবিঊটিং এডিটর
মনোয়ারুল ইসলাম