ডেস্ক রিপোর্ট | বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৪৬ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভয়াবহ রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। হামলার সময় একটি টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয়ে সরাসরি সম্প্রচার চলছিল। এতে কয়েকজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। আহতের সংখ্যা ২৫।
মঙ্গলবার রাতে ও দিনে কিয়েভজুড়ে একযোগে হামলার সতর্কসংকেত বেজে ওঠে। এরপর একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ বাহিনী। হামলায় আবাসিক ভবন ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আতঙ্কিত বাসিন্দারা জীবন বাঁচাতে রাতভর মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা বিভাগ (ডিএসএনএস) জানিয়েছে, সলোমিয়ানোস্কি জেলার একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পোদিলস্কি জেলায় কয়েকটি গাড়িতে আগুন ধরে যায়।
টেলিভিশন চ্যানেল ‘উই আর ইউক্রেন’-এ সরাসরি সম্প্রচারের সময় হামলার ঘটনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেন, রাশিয়া এবার সরাসরি সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এটিকে রাশিয়ার ‘নৈতিক অধঃপতনের নতুন অধ্যায়’ আখ্যা দিয়ে রাশিয়াকে থামাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগের আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলে একটি যাত্রীবাহী ট্রেনেও রুশ বিমান হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারী কর্মী নিহত হয়েছেন।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধিদল মস্কো ও কিয়েভ সফরের সময় দুই দেশ তিন দিনের জন্য একে অপরের রাজধানীতে হামলা বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরই কিয়েভে ফের ব্যাপক হামলা শুরু হয়।
বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ বলছে, রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর পর কিয়েভে এখন যে হারে বিমান হামলার সতর্কসংকেত বাজছে, তা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি।
অন্যদিকে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রাশিয়ার সারাতোভ শহরের কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় গভর্নর রোমান বুসারগিন।
যুদ্ধ বন্ধে কূটনৈতিক তৎপরতা চললেও এখনো বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি। ট্রাম্পের দুই শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের মস্কো ও কিয়েভ সফরও কোনো বড় চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে উইটকফ আলোচনায় ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
২০২২ সালের পর প্রথমবার ইউক্রেন সফর শেষে জেলেনস্কি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, যুদ্ধ পুরো শীতকালজুড়েই চলতে পারে। একই সঙ্গে ইউক্রেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের দ্রুত আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণে একটি ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাবও দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
তবে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার ভূখণ্ডগত দাবি ও যুদ্ধের মূল শর্ত থেকে সরে আসার কোনো ইঙ্গিত দেননি। পুতিনের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইউরি উশাকোভ জানিয়েছেন, মার্কিন প্রতিনিধিদের ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে রুশ বাহিনীর ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’র কথা জানানো হয়েছে। রাশিয়া তার নির্ধারিত সব লক্ষ্য অর্জন করবে বলেও জানানো হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি