নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩৮ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে বাড়ি ফেরার পথে বরযাত্রীর গাড়ি আটকে নববধূ তামান্না আক্তারকে তুলে নেওয়ার ঘটনায় নতুন মোড় এসেছে। ঘটনার পর তামান্নার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে তামান্নাকে নিজের অবস্থান তুলে ধরতে দেখা যায়। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি যেমনেই আইছি, জোর কইরা হোক, নিজের ইচ্ছায় হোক, যেমনেই হোক, আইছি তো আইছিই। এহন যদি যাইগাও, গেলেও তো আমার মান-সম্মান ফিরা আইতো না, আমার বাপ-মার মান-সম্মানও ফিরা আইতো না। গেইলেও কোনো লাভ নাই। আমি আইছি, এনেই থাকবাম।’
ভিডিওতে দেখা যায়, তামান্না একটি কক্ষে বসে আছেন। তার পাশে ছয়জন নারী এবং সামনে একজন পুরুষ রয়েছেন। অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদকেও দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, নববধূর পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে বরপক্ষ থেকে একটি অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল রাতে তামান্না ভিডিও বার্তায় নিজের মতামত জানিয়েছেন। বিষয়টি পুলিশ নজরে রেখেছে। কেউ মামলা করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোসেনপুর উপজেলার সিদলা ইউনিয়নের নয়াপাড়া এলাকার আবুল মিয়ার মেয়ে তামান্না আক্তারের সঙ্গে নান্দাইল উপজেলার এক যুবকের বিয়ে হয়। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে নববধূকে নিয়ে মাইক্রোবাসে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন বর ও বরযাত্রীরা।
পথে হাজিপুর বাজার এলাকায় পৌঁছালে ২০ থেকে ২৫ জন যুবক মাইক্রোবাসটির গতিরোধ করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আতিকুর রহমান মিয়াদের নেতৃত্বে তারা গাড়িটি থামান। পরে মাইক্রোবাসে ভাঙচুর চালিয়ে তামান্নাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ঘটনার পর তামান্না ও আতিকুর রহমান মিয়াদের মধ্যে আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার পর মিয়াদ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে লেখেন, ‘জীবনে আর কিছু চাওয়ার নাই..!’
এরই মধ্যে তামান্নার ভিডিও বার্তা প্রকাশ্যে আসায় ঘটনাটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। তবে ভিডিওটি কোথায় ধারণ করা হয়েছে, কী পরিস্থিতিতে এটি ধারণ করা হয়েছে এবং নববধূকে কীভাবে সেখানে নেওয়া হয়েছিল—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত আতিকুর রহমান মিয়াদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।