ডেস্ক রিপোর্ট | শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টার, ইস্ট মিডল্যান্ডস ও লন্ডন স্ট্যানস্টেড বিমানবন্দরে বড় ধরনের সাইবার হামলায় প্রায় ৮৭ লাখ গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে নিয়েছে হ্যাকাররা। চুরি করা তথ্য ফেরত দেওয়ার বিনিময়ে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে মুক্তিপণও দাবি করা হয়েছে। তবে সেই অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ম্যানচেস্টার এয়ারপোর্টস গ্রুপ (এমএজি)।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি বিমানবন্দরই এমএজির মালিকানাধীন। সপ্তাহান্তে চালানো এ হামলায় গ্রাহকদের ই-মেইল ঠিকানা, গাড়ির নিবন্ধন নম্বর ও পোস্টকোডসহ বিভিন্ন তথ্য হ্যাকারদের হাতে গেছে।
এমএজি জানিয়েছে, চুরি হওয়া তথ্যের বড় অংশই ছিল ই-মেইল ঠিকানা। বিমানবন্দরের বিনামূল্যের বা অন-সাইট ওয়াই-ফাই ব্যবহারের জন্য নিবন্ধন করা গ্রাহকদের এসব তথ্য মূলত হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কার পার্কিং বুকিং, লাউঞ্জ প্রবেশ ও ফাস্ট-ট্র্যাক সেবা নেওয়ার সময় দেওয়া কিছু তথ্যও চুরি হয়েছে।
তবে যাত্রীদের ব্যাংকিং বা পেমেন্ট-সংক্রান্ত কোনো তথ্য আক্রান্ত সিস্টেমে সংরক্ষিত ছিল না বলে জানিয়েছে এমএজি। ফলে ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা সরাসরি অর্থ লেনদেনের তথ্য চুরি হওয়ার আশঙ্কা নেই।
মঙ্গলবার সাইবার হামলার বিষয়টি জানতে পারে এমএজি। এরপর দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে হ্যাকারদের আরও প্রবেশের সুযোগ বন্ধ করা হয়। গ্রাহক ও নিজেদের সিস্টেম সুরক্ষিত রাখতে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদেরও বিষয়টি জানানো হয়েছে।
এমএজি আরও জানিয়েছে, হামলার কারণে যাত্রীদের নিরাপত্তা কিংবা বিমান চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটেনি। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।
হামলার পেছনে থাকা হ্যাকারদের পরিচয় জানা গেছে বলেও জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। তবে তারা কোনো নির্দিষ্ট সাইবার অপরাধী গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত কি না কিংবা কীভাবে বিমানবন্দরের সিস্টেমে প্রবেশ করেছে, তা প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, চুরি হওয়া ই-মেইল ঠিকানা ও অন্যান্য তথ্য ব্যবহার করে গ্রাহকদের লক্ষ্য করে ‘ফিশিং’ বা প্রতারণামূলক বার্তা পাঠানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সন্দেহজনক ই-মেইল, খুদে বার্তা, ফোনকল বা লিংকে সাড়া না দিতে এবং অপরিচিত কোনো সংযুক্তি না খুলতে গ্রাহকদের সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রায় ৮৭ লাখ গ্রাহকের তথ্য অ্যাক্সেসের ঘটনায় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।