ডেস্ক রিপোর্ট | শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৩১ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
ফাইল ছবি
রোবট এখন শুধু মানুষের হয়ে কাজ করছে না, অন্য রোবট তৈরির কাজেও যুক্ত হচ্ছে। চীনের লিউঝৌ শহরে এমন একটি হিউম্যানয়েড রোবট কারখানা চালু করেছে দেশটির রোবট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ইউবিটেক রোবোটিকস। কারখানাটিতে রোবট ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতির সহায়তায় শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি হচ্ছে। প্রতি ১০ মিনিটে একটি রোবট উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে কারখানাটির।
চীনের গুয়াংশি ঝুয়াং স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলের লিউঝৌ শহরে অবস্থিত কারখানাটি বড় পরিসরে হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদনের জন্য তৈরি করা হয়েছে। ১৪ হাজার বর্গমিটার আয়তনের এ কারখানার উচ্চতা ১৩ দশমিক ৮ মিটার। এখানে ইউবিটেকের ‘ওয়াকার এস’ ও ‘ক্রুজর’ সিরিজের শিল্পক্ষেত্রে ব্যবহারের উপযোগী হিউম্যানয়েড রোবট তৈরি হচ্ছে। বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ১০ হাজার রোবট।
রোবটই বানাচ্ছে রোবট
কারখানাটির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, রোবট তৈরির বিভিন্ন ধাপেই অন্য রোবট ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে। ইউবিটেক ও সিমেন্স ডিজিটাল ইন্ডাস্ট্রিজ সফটওয়্যারের যৌথ ব্যবস্থাপনায় তৈরি কারখানাটির উৎপাদনব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে ‘স্মার্ট ব্রেইন’ নামে একটি ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে।
কোম্পানির দাবি, এই ব্যবস্থা উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ সমন্বয় করে। কোন রোবট কখন তৈরি হবে, প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ কোথায় নেওয়া হবে এবং তৈরি হওয়া রোবটের মান যাচাই—এসব কাজেও এটি সহায়তা করে।
উৎপাদনপ্রক্রিয়ায় প্রতিটি রোবটকে আলাদা সিরিয়াল নম্বর দেওয়া হয়। ফলে কারখানায় প্রবেশের পর থেকে উৎপাদনের প্রতিটি ধাপে রোবটটির গতিবিধি ও উৎপাদন-সংক্রান্ত তথ্য অনুসরণ করা যায়।
উৎপাদনকাজেও হিউম্যানয়েড রোবট
কারখানায় রোবট শুধু চূড়ান্ত পণ্য হিসেবে তৈরি হচ্ছে না, উৎপাদনপ্রক্রিয়ার বিভিন্ন কাজেও হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে।
ইউবিটেক জানিয়েছে, তাদের ‘ক্রুজর ওয়াই১’ ও ‘ক্রুজর এস২’ মডেলের রোবট উপকরণ খালাস, স্তূপ করে রাখা, উৎপাদন লাইনে পৌঁছে দেওয়া এবং কারখানার এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।
চূড়ান্ত সংযোজনের সময় ব্যবহার করা হচ্ছে সহযোগী রোবোটিক বাহু, চালকবিহীন লজিস্টিক যান, শক্তি-সহায়ক ম্যানিপুলেটর ও ঘূর্ণনশীল ওয়ার্কটেবল। ফলে একই উৎপাদন লাইনে একাধিক ধরনের রোবট তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে।
কোম্পানির দাবি, পুরো প্রক্রিয়ায় মানুষের সরাসরি তদারকি খুবই কম। স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রপাতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থার সমন্বয়ে কারখানাটি প্রায় স্বয়ংসম্পূর্ণভাবে পরিচালিত হতে পারে।
বাজারে যাওয়ার আগে চার ঘণ্টার পরীক্ষা
তৈরি হওয়ার পরই রোবটগুলো বাজারে পাঠানো হয় না। প্রতিটি হিউম্যানয়েড রোবটকে চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন পরীক্ষা করা হয়।
যান্ত্রিক ও কার্যকরী সক্ষমতা যাচাইয়ের পাশাপাশি রোবটের বাহ্যিক অবস্থাও পরীক্ষা করা হয়। এ জন্য প্রতিটি রোবটের ৩৬০ ডিগ্রি ভিজ্যুয়াল পরিদর্শন করা হয়।
৬৫ বর্গমিটারে ১১২ রোবট
রোবট সংরক্ষণেও ব্যবহার করা হয়েছে স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তি। ইউবিটেকের দাবি, মাত্র ৬৫ বর্গমিটার জায়গার স্বয়ংক্রিয় গুদামে ১১২টি হিউম্যানয়েড রোবট রাখা যায়।
স্বয়ংক্রিয় গাইডেড ভেহিকল (এজিভি), চালকবিহীন ফর্কলিফটসহ বিভিন্ন লজিস্টিক যন্ত্র রোবট ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন, পরীক্ষণ ও সংরক্ষণ এলাকার মধ্যে স্থানান্তর করে।
দ্রুত বাড়ছে চীনের রোবট উৎপাদন
ইউবিটেকের নতুন কারখানাটি এমন সময়ে চালু হলো, যখন চীনে শিল্পক্ষেত্রে রোবটের ব্যবহার ও উৎপাদন দ্রুত বাড়ছে।
চীনের জাতীয় পরিসংখ্যান ব্যুরোর (এনবিএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুলাইয়ে দেশটিতে ৯৮ হাজার ৬৭৭টি শিল্প রোবট উৎপাদিত হয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ দশমিক ২ শতাংশ বেশি।
চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে শিল্প রোবট উৎপাদিত হয়েছে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫৬টি। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ২৮ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।
নতুন কারখানাটিতে রোবট, স্বয়ংক্রিয় যান, রোবোটিক বাহু ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ডিজিটাল ব্যবস্থার সমন্বয়ে উৎপাদন করা হচ্ছে হিউম্যানয়েড রোবট। ফলে রোবটের মাধ্যমে রোবট তৈরির ধারণাটি এখন কেবল কল্পকাহিনি নয়, বাস্তব শিল্প উৎপাদনের অংশ হয়ে উঠছে।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে