নিজস্ব প্রতিবেদক | মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | প্রিন্ট | ৫৫ বার পঠিত | পড়ুন মিনিটে
প্রবাসের ব্যস্ত জীবনের গণ্ডি পেরিয়ে শেকড়ের টানে একত্রিত হলেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত নরসিংদীবাসীরা। আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের আবহে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত হলো ‘নরসিংদী জেলা সমিতি ইউএসএ ইনক’-এর বার্ষিক বনভোজন ও মিলনমেলা। দিনব্যাপী এ আয়োজন পরিণত হয় প্রবাসী নরসিংদীবাসীর এক প্রাণবন্ত পারিবারিক মিলনোৎসবে।
গত ৩০ আগস্ট নিউইয়র্কের লং আইল্যান্ডের মনোরম হেকশেয়ার স্টেট পার্কে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী নরসিংদীবাসী, আমন্ত্রিত অতিথি, সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন। দেশীয় খাবার, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সংগীত পরিবেশনা ও জমকালো র্যাফেল ড্রতে পুরো আয়োজন হয়ে ওঠে উৎসবমুখর।
বেলুন উড়িয়ে বনভোজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ আইন সমিতির সভাপতি এ কে এম আফজাল উল মনির। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিলেন নরসিংদী জেলা সমিতির সাবেক সভাপতি ও ট্রাস্টি বোর্ড চেয়ারম্যান আজহারুল ইসহাক খোকা। গেস্ট অব অনার ছিলেন সমিতির সাবেক সভাপতি আহসান হাবীব। অনারেবল গেস্ট অব চেয়ারপারসন হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টি বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ডা. নাজমুল খান।
প্রধান অতিথি এ কে এম আফজাল উল মনির বলেন, প্রবাসের যান্ত্রিক জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও দৃঢ় করতে প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করা প্রয়োজন।
প্রধান পৃষ্ঠপোষক আজহারুল ইসহাক খোকা বলেন, ‘ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। সবাইকে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে হবে। নরসিংদীবাসীর এ আয়োজন তাদের ঐক্য ও পারস্পরিক সম্প্রীতির প্রতিফলন।’
সমিতির সভাপতি শামিম গফুর অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানান। সুন্দর পরিবেশে আয়োজনটি সম্পন্ন করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
সাধারণ সম্পাদক এহসানুল হক বাবুল বলেন, ঐক্যবদ্ধভাবে সংগঠনকে আরও এগিয়ে নেওয়াই তাদের লক্ষ্য। ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এ ধরনের আয়োজন করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বনভোজন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন খন্দকার বলেন, ঐক্যবদ্ধ সমিতির কোনো বিকল্প নেই।
প্রকাশিত হলো ‘মেঘনা’
বার্ষিক বনভোজন ২০২৬ উপলক্ষে ‘মেঘনা’ নামে একটি বিশেষ প্রকাশনা প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে নরসিংদী জেলা সমিতির কার্যকরী কমিটির সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিরা এর মোড়ক উন্মোচন করেন।
দিনভর শিশু-কিশোর ও বড়দের জন্য ছিল নানা ধরনের খেলাধুলা। নারীদের জন্য আয়োজন করা হয় পিলোঁ খেলা। সংগঠনের সদস্যদের সংগীত পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। সবশেষে জমকালো র্যাফেল ড্র বাড়িয়ে দেয় উৎসবের আমেজ।
আয়োজন সফল করতে বনভোজন উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক জসিম উদ্দিন খন্দকার, প্রধান সমন্বয়কারী ইকবাল এ ভূঁইয়া, সদস্য সচিব জিয়াউর রহমান, যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান মুরাদ, সমন্বয়কারী মতিউর রহমান, যুগ্ম সদস্য সচিব মোফাজ্জেল হোসেনসহ কমিটির সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সোসাইটি ইনকের সভাপতি মো. আতাউর রহমান সেলিম, সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. মহিউদ্দিন দেওয়ান, সহ-সভাপতি মো. কামরুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আলী। আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাসেম্বলি অব ইউএসএর সভাপতি শামীম হাসান ও সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ ইসলাম কলিম, মতলব সমিতির উপদেষ্টা ফারুক হোসেন মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক মিঞা ফয়েজ আহমেদসহ কমিউনিটির বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
নরসিংদী জেলা সমিতির এ আয়োজন শুধু একটি বনভোজনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের সঙ্গে শেকড়ের সম্পর্ক, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সাংস্কৃতিক বন্ধন আরও দৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয় এটি।
ভৌগোলিক দূরত্ব পেরিয়ে নরসিংদীবাসীর এই মিলনমেলা যেন আবারও মনে করিয়ে দিল—শেকড়ের টান, ঐক্য ও সম্প্রীতির বন্ধন অটুট থাকলে প্রবাসের মাটিতেও গড়ে তোলা যায় এক টুকরো বাংলাদেশ।